চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন অভিনেতা সাদেক বাচ্চু

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২০ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ৫ ১৪২৭,   ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন অভিনেতা সাদেক বাচ্চু

বিনোদন প্রতিবেদক  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:০৩ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ২০:০৮ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন অভিনেতা সাদেক বাচ্চু

চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন অভিনেতা সাদেক বাচ্চু

চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন ঢাকাই সিনেমার অন্যতম শক্তিমান অভিনেতা সাদেক বাচ্চু। সোমবার বাদ মাগরিব জানাজা শেষে রাজধানীর খিলগাঁওয়ের তালতলা কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়।

এফডিসি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেল ৩টায় অভিনেতা সাদেক বাচ্চুর মরদেহ ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বের করা হয়। যেহেতু মৃত্যুর আগে তার শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছিল, তাই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আল মারকাজুল এ অভিনেতার মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করেছে।

সংস্থাটির সদস্যরা বিকেল ৩টায় মরদেহটিকে গোসল করান। গোসল করানোর পর তালতলায় মাগরিবের নামাজের পর সাদেক বাচ্চুর জানাজা হয়। এরপর সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিটে তালতলা কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়।

সাদেক বাচ্চু শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। ৬ সেপ্টেম্বর দিনভর তার প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট ছিল। অবস্থা বেশি খারাপ হলে রাতে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে নেয়ার পর ১১ সেপ্টেম্বর পরীক্ষায় তার করোনা শনাক্ত হয়। পরে তাকে মহাখালীর ইউনিভার্সাল হাসপাতালে নেয়া হয়।

অসংখ্য সিনেমায় অভিনয় করেছেন সাদেক বাচ্চু। খল চরিত্রেই বেশি কাজ করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তিনি। সিনেমা ছাড়াও মঞ্চ, বেতার, টেলিভিশনেও অনেক নাটক করেছেন।

বিটিভির আলোচিত গ্রন্থিক গণ কহে, জ্বোনাকি জ্বলে, সুজন বাধিয়ার ঘাট, পূর্ব রাত্রি পূর্ব দিন, নকশি কাঁথার মাঠ- নাটকগুলোতে অভিনয় করে সেই সময়ে বেশ আলোচিত ও প্রশংসিত হয়েছিলেন তিনি। ৯০ দশকের বহুল আলোচিত সিনেমা বিখ্যাত পরিচালক এহতেশাম পরিচালিত চাঁদনী সিনেমায় খল চরিত্রে অভিনয় করে সাদেক বাচ্চু আলোচনায় আসেন।

৫০ বছরের অভিনয় ক্যারিয়ার তার। শুরুতে মঞ্চ নাটকে অভিনয় করতেন। মতিঝিল থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা তিনি। এই দলের সভাপতিও তিনিই। বেতারে একটা সময়ে প্রচুর নাটক করেছেন। বেতারের খেলাঘর তার আলোচিত একটি নাটক।

টেলিভিশন নাটকে প্রথম অভিনয় করেন ১৯৭৪ সালে। নাটকটির নাম ছিল ‘প্রথম অঙ্গীকার’। প্রথম সিনেমায় অভিনয় করেন আশির দশকে। সিনেমাটির নাম ‘রামের সুমতি’। পরিচালনা করেন শহিদুল আমিন।

১৯৫৫ সালের ১ জানুয়ারি চাঁদপুরে জন্মগ্রহণ করেন গুণী এই অভিনেতা। অভিনয় ছাড়াও দীর্ঘদিন তিনি বাংলাদেশ ডাক বিভাগে চাকরি করেছেন। ‘একটি সিনেমার গল্প’ সিনেমায় অভিনয় করে খল অভিনেতা হিসেবে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।

ঢাকাই সিনেমায় নানারকম চরিত্রে অভিনয় করে খল অভিনেতা হিসেবে নিজের অবস্থান গড়ে নেন। তার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সিনেমা হচ্ছে- জীবন নদীর তীরে, কোটি টাকার কাবিন, পিতা মাতার আমানত, সুজন সখী, মায়ের চোখ, আমার প্রাণের স্বামী, ভালোবাসা জিন্দাবাদ, বধূবরণ, মায়ের হাতে বেহেস্তের চাবি, লোভে পাপ পাপে মৃ্ত্যু, মন বসে না পড়ার টেবিলে প্রভৃতি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ