Alexa চিন-রাশিয়ার সঙ্গে কি যুদ্ধে হেরে যাবে আমেরিকা?

ঢাকা, শনিবার   ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৬ ১৪২৬,   ২১ মুহররম ১৪৪১

Akash

চিন-রাশিয়ার সঙ্গে কি যুদ্ধে হেরে যাবে আমেরিকা?

সৌরভ আল হাসান

 প্রকাশিত: ১৪:০২ ২০ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৪:০২ ২০ ডিসেম্বর ২০১৮

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাওয়ার পর বিশ্বের একচ্ছত্র অধিপতি হয়ে উঠেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। স্বঘোষিত এই বিশ্ব মোড়লের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছুই যেন করার জো ছিল না কারো। স্বাধীন রাষ্ট্র পানামার প্রেসিডেন্ট নরিয়েগাকে তুলে আনা, জঙ্গী দমনের নামে আফগানিস্তানকে ধুলায় মিশিয়ে দেওয়া, রাসায়নিক অস্ত্রের অজুহাত দেখিয়ে সাদ্দাম হোসেনকে হত্যা, কথিত আরব বসন্তের ছদ্ম আবরণে স্বাধীনচেতা গাদ্দাফিকে নির্মমভাবে হত্যা, ইসরাইল-বিরোধী সিরিয়ার বাশার সরকারকে হটাতে আইএস নামে সন্ত্রাসী গোষ্ঠির জন্ম দেওয়াসহ একের পর এক অঘটন ঘটিয়ে গেলেও সামান্য প্রতিবাদ করতে পারেনি কেউ।

তবে গোটা বিশ্বের উপর মার্কিন সামরিক আধিপত্যের দিন বুঝি ফুরাতে চলেছে। অমিত শক্তিধর হিসাবে উঠে আসছে রাশিয়া বা চিন। তাদের সামরিক উত্থান এতই প্রবল যে খোদ মার্কিন কংগ্রেসেরই একটি প্যানেল তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে তাদের আশংকা অবিলম্বে প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ না বাড়ালে ভয়ানক বিপদ ঘটে যেতে পারে। বর্তমানে এই তিন দেশের সামরিক শক্তির যে অবস্থা তাতে যুদ্ধ বেঁধে গেলে চিন বা রাশিয়ার কাছে হেরে যেতে পারে প্রতাপশালী আমেরিক।

যে প্যানেলটি এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছে তাতে শুধু বিরোধী ডেমোক্র্যাট দলের সদস্য নয়, রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নিজের দলের প্রতিনিধি তথা রিপাবলিকানরাও।

ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের ডজনখানেক প্রাক্তন শীর্ষ কর্তাকে নিয়ে গঠিত মার্কিন কংগ্রেসের এই প্যানেল সরকারের প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখে পরামর্শ দিয়ে থাকে। প্যানেলের সদস্যরাই সম্প্রতি একটি রিপোর্টে আমেরিকার জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। প্রশ্ন তুলেছেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় ভয়ঙ্কর ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলছে মস্কো এবং বেজিং। এমনকি, ওয়াশিংটনকে যুদ্ধে হারিয়ে দেওয়ার ক্ষমতাও অর্জন করে ফেলেছে রাশিয়া-চিন।

প্যানেলের রিপোর্টে বলা হয়েছে, একবিংশ শতাব্দীতে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে মিসাইল, সাইবার, আকাশসীমা, ডুবোজাহাজের মতো সামরিক ক্ষেত্রে কার্যত নজরই দেওয়া হয়নি। ফলে কার্যত ফাঁপা হয়ে গিয়েছে এই সব ক্ষেত্রগুলি। ‘প্রায় সমশক্তির শত্রু, বিশেষ করে রাশিয়া এবং চিনের মতো দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হলে যে দক্ষতা, পরিকল্পনা ও সামরিক শক্তির প্রয়োজন হয়, তার সব ক্ষেত্রেই দুর্বল হয়ে পড়েছে ওয়াশিংটন। আর এই দুই দেশ এবং তার ‘কূটনৈতিক বন্ধু’রা তো সব সময়ই পেন্টাগনের দিকে তাক করেই আছে।’, বলছে রিপোর্ট।

ডেমোক্র্যাট-রিপাবলিকান দুই সরকারেরই ২০১১ সাল থেকে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বাজেট বরাদ্দ কমানো, সেনা বাহিনীর সুযোগ সুবিধা কমানের তুমুল সমালোচনা করেছেন প্যানেলের সদস্যরা। বলেছেন, ‘‘একাধিক প্রতিকূল সিদ্ধান্ত অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় ব্যাপক সংকট তৈরি করছে। ওয়াশিংটনের প্রভাব কমছে এশিয়া-ইওরোপে। ভারসাম্য হারাচ্ছে মার্কিন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও বাহিনী। দূর্বল হচ্ছে ভূমি, আকাশ ও জলসীমা সুরক্ষা।’’

প্যানেলের রিপোর্টে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, পরিস্থিতি যে দিকে এগোচ্ছে, তাতে ‘‘মার্কিন সামরিক সেনাবাহিনীতে অভাবনীয় প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। ক্ষতি হতে পারে জাতীয় সম্পত্তির।’’ প্যানেল সদস্যদের সতর্কবার্তা, ‘‘রাশিয়া বা চিনের সঙ্গে যুদ্ধে জয়ের জন্য প্রচুর কাঠখড় পোড়াতে হতে পারে, এমনকি হারও হতে পারে। আবার এমন সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে যে, মার্কিন সেনাকে রাশিয়া, চিনের মতো একাধিক শক্তির বিরুদ্ধে এক সঙ্গে সমান্তরাল ভাবে লড়তে হতে পারে।’’

এ বছর পেন্টাগনের প্রতিরক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ ৭০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা রাশিয়া এবং চিনের প্রতিরক্ষা বাজেটের যোগফলের চেয়েও বেশি। কিন্তু চিন-রাশিয়ার মতো শক্তির সঙ্গে লড়তে গেলে এই পরিমাণও যথেষ্ট নয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে প্যানেলের রিপোর্টে। আরও অন্তত তিন থেকে পাঁচ শতাংশ বরাদ্দ বৃদ্ধির সুপারিশও করেছেন সদস্যরা।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ