চিকিৎসকের মৃত্যুতে কান্নার বৃষ্টিতে ভিজছে মিশর

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ১০ ১৪২৭,   ০৭ সফর ১৪৪২

চিকিৎসকের মৃত্যুতে কান্নার বৃষ্টিতে ভিজছে মিশর

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:২৩ ৬ আগস্ট ২০২০  

মোহাম্মদ মাশলি; ছবি: সংগৃহীত

মোহাম্মদ মাশলি; ছবি: সংগৃহীত

নিতান্তই গরিব পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। তারপর একদম শূন্য থেকে নিজের যাত্রা শুরু করেন তিনি। এরপর আকাশ ছুঁয়ে আবার আকাশে চলে গেলেন। আর সেই শোকে মিশর ভিজছে কান্নার বৃষ্টিতে।

আরব নিউজ’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে এমন এক চিকিৎসকের গল্প যিনি তার মেধা ও শ্রম মানুষের কল্যাণে দিয়ে গেছেন।

‘সৃষ্টিকর্তার কাছে বলেছিলাম কোনোদিন গরিবের থেকে এক পয়সাও নেব না। তাদের সেবা করতেই ক্লিনিকে থাকব।’ সারাজীবন এ কথা বলে যাওয়া মিশরের চিকিৎসক মোহাম্মদ মাশলি ৭৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন।

মৃত্যুর আগেই মিশরে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন প্রবীণ এই চিকিৎসক। মাশলি গরিবের থেকে কোনো অর্থ নিতেন না। আর অন্যদের থেকেও নামমাত্র ফি নিতেন মাত্র ৫ মিশরীয় পাউন্ড। মিশরের একাধিক টিভি তাকে নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রচারিত করেছে। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান তাকে সম্মাননা জানিয়েছে।

মৃত্যুর আগেই মিশরে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন মোহাম্মদ মাশলি

একবার মাশলির এক সাক্ষাৎকার দেখে গোটা মিশর কেঁদেছিলো। সেই সাক্ষাৎকারে তিনি পিছিয়ে পড়া একটি অঞ্চলে কাজ করার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। ‘অল্পবয়সী এক ডায়াবেটিক শিশু তার মায়ের সঙ্গে কাঁদতে কাঁদতে আমার কাছে এসেছিলো। মাকে বলছে ইনজেকশন দিতে কিন্তু মা শিশুটিকে বলছিলো, ইনজেকশন কিনলে খাবার কেনা হবে না।’  এ ঘটনা বলতে বলতে সেদিন মাশলি নিজেই কেঁদে ফেলেন। তিনি বলেন, আমি আজও সেদিনের কথা ভুলতে পারি না। সেই থেকে সিদ্ধান্ত নেই আমার মেধা আমি গরিবদের উৎসর্গ করব।

এদিকে মৃত্যুর পর সত্যিকারের গরিবের ডাক্তার বলে পরিচিত মাশলিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে শতশত মানুষ বেহেইরা অঞ্চলে একত্রিত হন। সেখান থেকে তার মৃতদেহ নেয়া হয় তার কর্মস্থলে যেখানে জীবনের অধিকাংশ সময় তিনি কাটিয়ে গেছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচএফ