Alexa চালের বাজারে অস্থিরতা: কতটা উদ্বিগ্ন সরকার?

ঢাকা, বুধবার   ১৬ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ২ ১৪২৬,   ১৭ সফর ১৪৪১

Akash

চালের বাজারে অস্থিরতা: কতটা উদ্বিগ্ন সরকার?

 প্রকাশিত: ১৩:৫৯ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

চলতি বছর হাওরডুবির ঘটনায় দেশের কয়েক হাজার হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে সারা দেশে ক্রমে খাদ্য সংকট তৈরি হচ্ছে। আর এই সংকট মোকাবিলায় সরকারকে বাড়তি চাল সরবরাহ করতে হচ্ছে বাইরের দেশগুলো থেকে। ইতোমধ্যে ভারত, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামসহ বেশ কিছু দেশ থেকে কয়েক দফায় চাল আমদানি করেছে বাংলাদেশ। চুক্তি অনুযায়ী ওইসব দেশ থেকে পর্যায়ক্রমে আরও চাল আসার কথা রয়েছে।

তবে সেই বোঝার উপর শাকের আঁটি পড়েছে সেনা অভিযানের মুখে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া মিয়ানমারের কয়েক লাখ রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা দিতে গিয়ে। এমতাবস্থায় দেশের খাদ্য সংকটকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় মিল মালিক, চালের আড়তদার ও মজুদ ব্যবসায়ীরা বাজারে চাল ছাড়ছে না। ফলে প্রতিদিনই সাধারণ ক্রেতাদের সাধ্যের সীমা অতিক্রম করছে চালের বাজার।

সরকার বলছে, মিল মালিকদের গুদামে কতটা চাল মজুত আছে সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নির্ধারিত সীমার বাইরে মজুত থাকলে মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখতে মাঠে নেমেছে।

চালের দাম এতোটা ঊর্ধ্বমুখী এর আগে কখনও হয়নি। বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, মোটা চালের কেজি এখন কমপক্ষে ৫০ টাকা। দীর্ঘমেয়াদী ঘাটতির আশংকা ও সরকারের গুদামে পর্যাপ্ত চাল মজুত না থাকার কারণেই এ পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বাজার পর্যবেক্ষকরা।

অস্থির চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে গতকাল সোমবার (১৮ সেপ্টেম্বর) মিয়ানমার থেকে এক লাখ টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

নওগাঁর চালকল মালিক সারোয়ার আলমের কাছে জানতে চাইলে এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের উদ্যোগে কোনও কাজ হবে কিনা সেটি নিয়ে সংশয় আছে। এ ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে চাল কল মালিকদের মাঝে `আতংক` সৃষ্টি করতে পারে। এ ধরনের `আতংক` তৈরি হলে চাল ব্যবসার উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।’

অতীতেও সরকারের বেঁধে দেয়া দামে চাল বিক্রি করতে রাজি ছিলেন না চালকল মালিকরা। গত বছরের সেপ্টেম্বরে সরকারিভাবে দেশের ৫০ লাখ পরিবারকে প্রতিমাসে ৩০ কেজি চাল দেবার উদ্যোগ নেয়া হয়। সে সময় চালের একটি বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বোরো ধানের উৎপাদনের কারণে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়। কিন্তু অসময়ে সারা দেশে প্রবল বন্যার কারণে আবরও ঘাটতি তৈরি হয়।

তবে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে আমনের উৎপাদন নিয়ে। সংশ্লিষ্টদের অনেকেই মনে করছেন, আসছে আমনের ফসল বাজারে যথেষ্ট পরিমাণ নাও আসতে পারে।

চলমান এই অবস্থাকে চালের সংকট হিসেবে দেখতে নারাজ বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। চালের বাজারে কোথাও কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে বলে ধারণা তাঁর।

তিনি বলেন, ‘টাকা দিলে চাল পাওয়া যায়। তার মানে কোনও ঘাটতি নেই। আমরা জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারদের বলেছি, বিভিন্ন জায়গায় চাল কল মালিকদের সঙ্গে আলাপ করে জেনে নেয়া যে কোন মিলে কত চাল মজুত আছে। মজুতদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তবে সরকারি গুদামে চাল সংগ্রহ ও মজুদ করাকে সব সমস্যার সমাধান বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। আর সরকার যদি সেটি করতে না পারে তবে সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সরকারি গুদামে চালের মজুদ ও বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে ইতোমধ্যে খাদ্য ও বাণিজ্যমন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ