Alexa চার মাসে রোবট বানালো লিডিং ইউনিভার্সিটির সাত শিক্ষার্থী

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০,   ফাল্গুন ৭ ১৪২৬,   ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪১

Akash

চার মাসে রোবট বানালো লিডিং ইউনিভার্সিটির সাত শিক্ষার্থী

সিলেট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:১৮ ১৭ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৮:১৪ ১৭ জানুয়ারি ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

মাত্র চার মাসে ফায়ার ফাইটার রোবট বানিয়েছেন সিলেটের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় লিডিং ইউনিভার্সিটির সাত শিক্ষার্থী। তারা ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগে অধ্যয়নরত। কোর্সের প্রজেক্ট ওয়ার্কে উচ্চমানসম্পন্ন রোবটটি বানান তারা। আর এর নাম দেয়া হয়েছে ‘সেফটি অটোনমাস ফায়ার ফাইটার’। যাকে সংক্ষেপে বলায় হচ্ছে ‘সাফ-৭.০’।

ওই সাত শিক্ষার্থীরা হলেন- রাতুল আহমেদ রাহাত, তুষার বনিক, মলয় দে, সামিমা আক্তার সুর্বণা, রামি তালুকদার, প্রিয়াঙ্কা তালুকদার ও মাহফুজ চৌধুরী। রোবট বানাতে তারা ‘এলইউ হান্টার’ নামের একটি সমন্বিত দল গঠন করেন। সেই দলটি বা রোবট বানানোর তত্ত্বাবধানে ছিলেন তাদের বিভাগের দুই প্রভাষক মো. আশরাফুল ইসলাম ও মো. মুনতাসীর রশীদ।

জানা যায়, রোবটটিতে রয়েছে সবুজ ও লাল আলোর সংকেত। যা আগুনের মাত্রা নির্ভর করে বিপদ সতর্কীকরণ শব্দ হাই ও লো অ্যালার্ম বাজাতে পারবে। রোবটটি বানানোর পিছনে মূল উদ্দেশ্যে হলো আকস্মিক আগুনের ক্ষয়ক্ষতি কমানো। মানুষের আকৃতির রোবটটিকে বাসা-বাড়ি, অফিস বা কল-কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণসহ অনেক কাজে লাগানো যাবে। রোবটটি ‘অটোনোমাস ও ম্যানুয়াল’ দুই প্রক্রিয়ায় কাজ করতে পারবে। তাই যেকোনো ধরনের আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হবে রোবটটি।

‘সাফ-৭.০’ রোবট যেকোনো স্থানে গ্যাস বা ধোঁয়া নির্গমন হলে শনাক্ত করতে পারবে। এছাড়া সেই খবর সঠিকভাবে কন্ট্রোল রুমে পাঠাতে পারবে। এটি একটি ‘অবস্ট্যাকেল এভয়েডিং রোবট’। যা বিপদ শনাক্তকরণের মাধ্যমে চলাফেরা করতে পারে। এছাড়া আগুনের অস্তিত্ব পেলেই কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস নির্গত করে আগুন নেভানোর সক্ষমতা রয়েছে রোবটটির।

আরো জানা যায়, রোবটটির সঙ্গে ক্যামেরা রয়েছে। যার সাহায্যে আগুন নেভানোর পুরো দৃশ্য ও প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। যদি রোবটটির কার্যক্রম বন্ধ হয়, তবে ‘ম্যানুয়াল’ প্রক্রিয়ায় ক্যামেরার সাহায্যে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে পারবে। এছাড়া নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে নির্দেশনার মাধ্যমে পানি দিয়ে আগুন নেভানো সম্ভব হবে। তাছাড়া রোবটটি আকর্ষণীয় ডিসপ্লের মাধ্যমে নিজের পরিচিতি তুলে ধরতে পারবে।

ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইইই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান রুমেল সহযোগী অধ্যাপক এম এস রহমান পীর বলেন, ‘সাফ-৭.০’ রোবটকে ফায়ার ফাইটার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। এছাড়া রোবটটিকে যুগোপযোগী করতে বোমা শনাক্তকরণ ও উদ্ধার, যেকোনো স্থানের তাপমাত্রা নির্ণয়, নিজস্ব সার্ভার ও অ্যাপসের মাধ্যমে অনেক কাজ করা হবে। এর মধ্যে থাকবে তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রদর্শনসহ অনেক বিষয়। এগুলো নিয়ে আমাদের গবেষণা চলমান রয়েছে। রোবটটির মান আরো উন্নয়ন করে বাজারজাত করতে পারলে দেশে আগুনের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিভিন্ন প্রজেক্টে পৃষ্টপোষকতা করে উৎসাহ দেন লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। তাকে আমরা ধন্যবাদ জানাই।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ/এআর