Alexa চার মাসেও জট খোলেনি নিখোঁজ পুলিশ সোর্সের

ঢাকা, শুক্রবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৫ ১৪২৬,   ২০ মুহররম ১৪৪১

Akash

চার মাসেও জট খোলেনি নিখোঁজ পুলিশ সোর্সের

 প্রকাশিত: ২১:২৫ ৩০ আগস্ট ২০১৮   আপডেট: ২১:৩৪ ৩০ আগস্ট ২০১৮

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

প্রায় চার মাস অতিবাহিত হলেও রিফাত আহমেদ হৃদয় (২১) নামে পুলিশের এক সোর্সের সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় ওই সময় মোহাম্মদপুর থানায় জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করেছিলেন তার স্ত্রী। কিন্তু ওই নিখোঁজের বিষয়ে অদ্যাবদি কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য জানাতে পারেনি পুলিশ। 

পরিবারের অভিযোগ, পুরান ঢাকায় পুলিশের একটি অভিযানে দুই মাস আগেও হৃদয়কে দেখতে পাওয়া যায়। তারা বলছে, কিন্তু রহস্যজনকভাবে তাকে ফিরিয়ে দিতে অস্বীকার করছে পুলিশ। 

জানা গেছে, নিখোঁজ হওয়া হৃদয় মোহাম্মদপুরের হুমায়ন রোডের ৬/২৪ নম্বর বাসায় তার বাবা-মা ও স্ত্রীসহ ভাড়া থাকতেন। তিনি শেরে বাংলা নগর ও মোহাম্মদপুর থানা এলাকায় পুলিশকে সন্ত্রাসী আর মাদক ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে তথ্য দিতেন। পরিবারের সদস্যরা জানেন যে, হৃদয় পুলিশের সোর্স। 

পরিবারের সদস্যরা জানান, হৃদয় ৫ মে’র পর আর বাসায় ফেরেনি। তার স্ত্রী গোলাপ শাহ ওই দিন সন্ধ্যার পর থেকে তার ফোন বন্ধ পায়। বাসায় না ফেরায় একদিন পর তিনি মোহাম্মদপুর ও শেরে বাংলা নগর থানায় খোঁজ নেন। কিন্তু কেউই তার স্বামীর খোঁজ দিতে পারেনি। পরে সনজু নামে হৃদয়ের এক বন্ধু তার স্ত্রীকে জানায় যে, ৫ মে সন্ধ্যার দিকে শ্যামলী শিশুমেলার সামনে একটি চায়ের দোকানে হৃদয়ের সঙ্গে তিনি চা খাচ্ছিলেন। এ সময় তাদের সামনে একটি গাড়ি থামে। গাড়ি থেকে তিন বা চারজন সাদা পোশাকের ব্যক্তি নেমে হৃদয়ের সঙ্গে কথা বলেন। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোক পরিচয় দিয়েছে। হৃদয়কে তারা গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যান। তার বন্ধুর কাছ থেকে এমন তথ্য পাওয়ার পর হৃদয়ের স্ত্রী গোলাপ শাহ ২৮ মে মোহাম্মদপুর থানায় স্বামী নিখোঁজের বিষয়ে জিডি করেন। 

জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সজীব বলেন, হৃদয় শ্যামলী শিশুমেলা বাসস্ট্যান্ডে মহিলাদের ভ্যানিটি ব্যাগ টান দিয়ে নিয়ে পালিয়ে যেতেন। ছিনতাই ছাড়াও তার বিরুদ্ধে পকেটমারের অভিযোগ রয়েছে। মোহাম্মদপুর থানায় তিনটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এক মাস আগেও হুমায়ুন রোডে বিহারী কলোনিতে তাকে একবার দেখা গিয়েছিল বলে এলাকাবাসী পুলিশের কাছে জানিয়েছে।
 
তিনি আরো বলেন, হৃদয়ের দাদা যুদ্ধাহত একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। মোহাম্মদপুরের হুমায়ুন রোডের ৬/২৪ নম্বর ঠিকানায় তার দাদা তোজাম্মেল হোসেন সপরিবারে থাকেন। রিফাতের বাবা নুর আলম সিদ্দিকী একজন সরকারি কর্মচারী। হৃদয় পরিবারের অসম্মতি ছাড়া বিহারী কলোনির গোলাপ শাহ নামে এক মেয়েকে বিয়ে করার পর পরিবারের সদস্যরা সেখান থেকে তাকে বের করে দেয়। এরপর হৃদয় তার স্ত্রীকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকা শুরু করেন। 

পুলিশের ধারণা, হৃদয়কে কেউ তুলে নিয়ে যায়নি। সে তার স্ত্রীর কাছ থেকে দূরে থাকতে এই আত্মগোপনের নাটক করেছেন। আবার সম্পদ ভাগ-বাটোয়ারা থেকে যেন বঞ্চিত না হন সে কারণেই রিফাতের স্ত্রী থানায় একটি জিডি করেছেন। 

হৃদয়ের স্ত্রী গোলাপ শাহ বলেন, তার স্বামীর খোঁজে পুলিশের কাছে বহুবার আকুতি করেছেন। নিখোঁজের দুই মাস পর পুরান ঢাকায় পুলিশের একটি অভিযানে তাকে দেখা গিয়েছিল বলে আমাদের কাছে একজন জানিয়েছিলেন। পরে মোহাম্মদপুর থানায় গিয়ে তার স্বামীকে ফিরিয়ে দেয়ার অনুরোধ করেছেন। কিন্তু পুলিশ বলছে, তার স্বামীকে পাওয়া যায়নি। আমি ধারণা করছি, পুলিশই হয়তো আমার স্বামীকে গুম করেছে। 

হৃদয়ের দাদা যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা তোজাম্মেল হোসেন বলেন, হৃদয়কে আমরা এখনো খুঁজে পাইনি। আগে আমার সঙ্গে থাকত। কিন্তু বিহারী কলোনির এক মেয়েকে বিয়ে করে রিফাত পৃথক হয়ে যায়। তবে তার বিরুদ্ধে অনেক অপকর্মের অভিযোগ আমরা শুনেছি। সেসব অপকর্ম ঢাকতে রিফাত আত্মগোপন করেছেন কি না- তা নিশ্চিত নন বলে জানান তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসবি/জেডআর/এসআই