.ঢাকা, সোমবার   ২২ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ৮ ১৪২৬,   ১৬ শা'বান ১৪৪০

চার বছরেও হয়নি আব্দুল করিমের সমাধি

 প্রকাশিত: ১২:৫৬ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১২:৫৬ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ভাটি বাংলার বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম কোটি ভক্তকে কাঁদিয়ে ২০০৯ সালে পরপারে চলে যান। তার মৃত্যুর ৯ বছর পরও তার স্মৃতি সংরক্ষণের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। সমাধিস্থল নির্মাণের প্রতিশ্রুতির চার বছর পেরিয়ে গেলেও কোনো দৃশ্যমান কার্যক্রম শুরু হয়নি।

প্রতি বছর তাকে স্মরণ করে ঘরোয়া আয়োজনে উজানধল গ্রামের বাউল বাড়িতে পালন করা হয় তার মৃত্যুবাষিকী। এখানে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে এসেছেন বাউল করিমের মুরিদ-আশেকানরা।

মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁও গ্রামের বাউল সাধক অদ্বৈত্য দাস আঞ্চলিক ভাষায় বলেন, ‘আমি ছুডোকাল থাকি করিমর গান ভালোবাসি। তাইন সর্বজীবরে মায়া করতা। সাধু সন্ন্যাসী বৈষ্ণব আউলিয়া কেউরে তাইন দুশমন ভাবতা না। এরগতিকে আমি তাইনরে মায়া খরি। সর্ব শাস্ত্র নিয়া বেটা আছলা। তাইন সব জীবরে মায়া করতা, তাইন কচুপাতার মধ্যেও দাগ রাইখা গেছইন।

অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক খেলু মিয়া বলেন, ‘করিম সাবের মৃত্যুবার্ষিকী যেভাবে পালন করার কথা ছিলো সেভাবে হয়নি। তিনি ছিলেন গরিব, তার ভক্তবৃন্দরাও গরিব। গরিব আশেকান মুরিদানের দান খয়রাত নিয়ে মৃত্যুবার্ষিকী পালন। তাই আমার আবেদন সরকার যেন তার সমাধির উন্নয়ন করে ও রাষ্ট্রীয়ভাবে জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী পালন করার ব্যবস্থা করে।’

এদিকে বাউলপুত্র শাহ নূর জালাল বলেন, ‘টানা ৯ বছর বাবার ভক্তবৃন্দের উদ্যোগে ও সহযোগিতায় মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হচ্ছে। অভাব অনটনের কারণে সেভাবে পালন করা যাচ্ছে না। এই বর্ষার মৌসুমে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তবৃন্দরা আসেন। বাড়িতে বসার জায়গা নেই। মানুষের স্থান সংকুলান হয় না। জন্মবার্ষিকীতে বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানি সহযোগিতা করলেও মৃত্যুবার্ষিকীতে সীমিত সামর্থ্যের মধ্য দিয়ে দরিদ্রভাবে পালন হয়।

‘১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার উজানধল গ্রামের এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নেন বাউল শাহ আবদুল করিম। জীবদ্দশায় তিনি রচনা করেন আফতাব সঙ্গীত, গণসংগীত, কালনীর ঢেউ, ধলমেলা, ভাটির চিঠি, কালনীর কূলে ও শাহ আব্দুল করিম রচনাসমগ্র নামে বাউল গানের বই।

কর্মের স্বীকৃতি হিসেবে অর্জন করেন একুশে পদক, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা, সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসহ দেশ-বিদেশের অসংখ্য সম্মাননা। তিনি গানের অনুপ্রেরণা পেয়েছেন ফকির লালন শাহ, পাঞ্জু শাহ ও দুদ্দু শাহর দর্শন থেকে। তিনি বাউলগানের দীক্ষা লাভ করেন সাধক রশীদ উদ্দীন, শাহ ইব্রাহীম মস্তান বকশের কাছ থেকে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসকে/আরআর