চার কৌশলে সর্বোচ্চ সিজিপিএ, পেলেন প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক

ঢাকা, শুক্রবার   ১০ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২৭ ১৪২৬,   ১৬ শা'বান ১৪৪১

Akash

চার কৌশলে সর্বোচ্চ সিজিপিএ, পেলেন প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক

শফিকুল ইসলাম, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৫৯ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১১:৩৬ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০

প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক ২০১৭ গ্রহণ করছেন সুরাইয়া আক্তার সুমনা

প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক ২০১৭ গ্রহণ করছেন সুরাইয়া আক্তার সুমনা

প্রথম ব্যাচের ছাত্রী ছিলেন সুরাইয়া আক্তার সুমনা। সবেমাত্র বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু। শত প্রতিকূলতা পাড়ি দিয়েছেন। চারটি কৌশল রপ্ত করে পড়াশোনা করেছেন। কৌশলগুলো হলো, প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাস, মনোযোগ সহকারে ক্লাস-পরীক্ষায় অংশগ্রহণ, লেকচারগুলো বাসায় নিয়মিত পড়া, কখনো পড়া জমিয়ে না রাখা।

সাফল্যের স্বীকৃতি সত্যিই গর্বের, যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। সে এক অন্যরকম অনুভূতি। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে স্বর্ণপদক গ্রহণ কেবল বিশ্ববিদ্যালয় জীবনই নয় বরং জীবনের একটি অনন্য অর্জন হয়ে থাকবে। বলছিলেন সুরাইয়া আক্তার সুমনা। 

সুরাইয়া ইংরেজি বিভাগের স্নাতকে (সম্মান) ৩.৬৩ স্নাতকোত্তরে ৩.৭৫ সর্বোচ্চ সিজিপিএ পেয়ে প্রথম হয়েছেন। কলা অনুষদেও যা ছিলো সর্বোচ্চ। পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক ২০১৭। একজন আদর্শ শিক্ষক হতে চান তিনি। গবেষণায় সমাজ পরিবর্তনে বড় ভূমিকাও রাখতে চান।

ঢাকার রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০৯ সালে এসএসসি, ২০১১ সালে মোহাম্মদপুর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন। 

প্রথম ব্যাচের এই ছাত্রী ২০১৬ সালে আনার্স ও ২০১৭ সালে মাস্টার্স শেষ করেন। তিনি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাংগুয়েজ ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যও ছিলেন। সফলতার গল্প বলতে গিয়ে এর পেছনের কারিগরদের ভুলে যাননি। তাই অকপটে বলে দিলেন বাবা-মা ও শিক্ষকদের কথা।

তিনি বলেন তাদের অবদান ছাড়া আমার একটা পথ আসা খুব সহজ ছিলো না। সফলতার পেছনে তাদের অবদান ছিলো অনেক বেশি। 

সাফল্যের এ পথ পাড়ি দিতে কোনো প্রতিবন্ধকতা মুখোমুখি হয়েছেন কি জানতে চাইলে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলাম আমরা। প্রতিবন্ধকতার অনেক পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। নিজস্ব কোনো ক্যাম্পাস ছিল না। ভর্তির পর সিটি ক্যাম্পাসে বরিশাল জিলা স্কুলের পাশে ক্লাস হতো। লাইব্রেরি ছিলো না, ক্লাসরুম সংকট ছিল, পর্যাপ্ত বাস ছিলো না। হোস্টেল না থাকায় বাসা ভাড়া করে থাকতে হতো। লাইব্রেরি না থাকায় পাঠ্য বই সংগ্রহে অনেক বেগ পেতে হতো। এছাড়াও মেয়েদের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে কাজ করতে হয়। 

এতো প্রতিকূলতার মধ্যেও কিভাবে ভালো ফলাফল করলেন এমন প্রশ্নে তিনি জানান, প্রচণ্ড আত্নবিশ্বাসী ছিলাম। মনোযোগ সহকারে ক্লাসে এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতাম। লেকচারগুলো রাতে বাসায় নিয়মিত পড়তাম, কখনো পড়া জমিয়ে রাখতাম না। 

তবে মা-বাবা ও শিক্ষকের সহযোগিতায় সব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সক্ষম হয়েছি। ভালো ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি পরামর্শের বিষয়ে বলেন, প্রতিদিনের লেকচারের পড়াগুলো প্রতিদিন পড়তে হবে। কেন না পড়া জমে থাকলে পরীক্ষার আগে এত চাপে পড়ার আগ্রহ থাকে না। নিয়মিত ক্লাস করতে হবে ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে।  

তার এই সাফল্যের অন্যতম কারিগর কলা ও মানবিক  অনুষদের ডিন ও ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যপক ড.  মুহাসিন উদ্দীন। তার সাফল্যের বিষয়ে অধ্যাপক ড.  মুহাসিন উদ্দীন বলেন, সুরাইয়া আক্তার সুমনা প্রথম বর্ষ থেকে পড়ালেখার প্রতি খুবই মনোযোগী ছিল। সে কখনো একটি ক্লাসও অনুপস্থিত থাকেনি। নিয়মিত ভালো করার জন্য সে সর্বদা চেষ্টা করত, যা তাকে সাফল্য এনে দিয়েছে। 

সুরাইয়া আক্তার সুমনা বর্তমানে বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অফ সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তে শিক্ষকতা করছেন।

সুরাইয়ার জন্ম বরিশালের গৌড়নদী থানার বামরাইল গ্রামে হলেও বেড়ে উঠেছেন ঢাকায়। বাবা গিয়াস উদ্দিন একজন আইনজীবী, মা মিনা বেগম একজন গৃহিণী। দুই ভাই-বোনের বড় তিনি। ছোটো ভাই রুয়েটে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম