চার কোটি বছর আগের ‘প্রেমিক যুগল’কে পেলেন বিজ্ঞানীরা

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০২ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৯ ১৪২৭,   ০৯ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

চার কোটি বছর আগের ‘প্রেমিক যুগল’কে পেলেন বিজ্ঞানীরা

বিজ্ঞান ডেস্ক  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২২:৩১ ৫ এপ্রিল ২০২০  

স্ফটিকে সঙ্গমের সুখে বিভোর দুটি মাছির দৃশ্য

স্ফটিকে সঙ্গমের সুখে বিভোর দুটি মাছির দৃশ্য

কোনো অভাব বা অভিযোগের বালাই নেই। চার কোটি বছর কাটানোর পর এখনো দুইজনের মাঝে মাখোমাখো প্রেম। সঙ্গমের সুখে বিভোর দুটি প্রাণীর নেই কোনো নড়াচড়া। পৃথিবীর শ্বাশত টানে সাড়া দেয়া অবস্থায় প্রাগৈতিহাসিক স্ফটিকে মিলল দুটি মাছিকে। গবেষণার কাজে গিয়ে মাছি যুগলকে বের করেছেন জীবাশ্মবিদরা।

দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার অটওয়ে অববাহিকায় গন্ডোয়ানা সুপারকন্টিনেন্টের দক্ষিণ অংশে জীবাশ্ম নিয়ে গবেষণার কাজে গিয়ে স্ফটিকের মাঝে মাছি যুগলকে পাওয়া যায়।

এ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার বেশ কিছু ছবিসহ ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’-এ নিজেদের গবেষণা প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা। ছবিতে দুটি মাছির লেপ্টে থাকা প্রেমিক যুগলদের মনেও নাড়া দেবে।

মেলবোর্নের মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবাশ্মবিদ জেফ্রি স্টিলওয়েল জানান, গাছ থেকে বেরিয়ে পড়া রস জমে স্ফটিক হয়। প্রায় চার কোটি বছর আগে গাছের রসে ওই মাছি দুটি আটকে যায়। তার উপর আরো রস জমে বড় আকার ধারণ করে স্ফটিকটি। ফলে স্ফটিকের মধ্যে মাছি দুটি অবিকৃত রয়ে যায়।

তিনি আরো জানান, মাছি দুটির অন্তরঙ্গতার বিষয়টি অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা করার সময় ধরা পড়ে। ভালো করে দেখলে বুঝা যায়, সঙ্গমরত অবস্থায় গাছের রসেই তাদের প্রাণ চলে যায়।

ল্যাবে স্ফটিক পরীক্ষা করার সময়ের দৃশ্য।

তবে তিনি ভিন্ন মতও প্রকাশ করেছেন। তার দাবি, জীবিত অবস্থায় মাছি দুটির মধ্যে সঙ্গম নাও হতে পারে। এমন হতে পারে, একই সঙ্গে চাপা পড়ায় মাছি দুটিকে সঙ্গমরত অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। এটিকে ‘ফ্রোজেন বিহেভিয়ার’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিনের জীবাশ্মবিদ ভিক্টোরিয়া ম্যাকয়। তিনিও মাছি দুটিকে সঙ্গমরত অবস্থায় চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে বলে মানতে নারাজ। হয়তো রসে আটকা পড়া মাছির সঙ্গে আরেকটি মাছি সঙ্গম করতে গিয়ে বিপদে পড়ে যায়।

স্ফটিকের ভেতরে সঙ্গমরত দুটি মাছিকে অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে দেখার দৃশ্য

এদিকে বিশেষ স্ফটিক জীবাশ্মটিসহ পশ্চিম তাসমানিয়ার ম্যাকোয়ারি, অ্যাঙ্গলসি ও ভিক্টোরিয়া থেকে সব মিলিয়ে পাঁচ হাজার ৮০০ স্ফটিক জীবাশ্ম উদ্ধার করেছেন স্টিলওয়েল ও সঙ্গীরা।

কোনো জীবাশ্মগুলোর বয়স পাঁচ কোটি ৪০ লাখ বছর আগের, আবার কোনটির চার কোটি ২০ লাখ বছর আগের। ওই দুটি মাছি ছাড়াও মাকড়সা, পিঁপড়ে-সহ নানা রকমের পতঙ্গের জীবাশ্ম উদ্ধার করা হয়।

সূত্র-আনন্দবাজার পত্রিকা

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ