চাঙ্গা আওয়ামী লীগ, ঢিলেঢালা বিএনপি

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৩ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ৯ ১৪২৬,   ১৮ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

চাঙ্গা আওয়ামী লীগ, ঢিলেঢালা বিএনপি

 প্রকাশিত: ১৯:২২ ৬ জুন ২০১৮   আপডেট: ১৪:২৪ ৭ জুন ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে চাঁদপুর-২ (মতলব দক্ষিণ-উত্তর) আসনেও লেগেছে নির্বাচনী হাওয়া। বৃদ্ধি পাচ্ছে নির্বাচনী উত্তাপ। সব কিছু ছাপিয়ে আলোচনায় এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম।

দশম সংসদ নির্বাচনে জেলায় ৫টি আসনেই আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে। আগামী নির্বাচনেও মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরীর মনোনয়ন নিশ্চিত বলে মনে করেন তার অনুসারীরা।

আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি এয়ার ভাইস মার্শাল (অবঃ) মো. রফিকুল ইসলাম এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাড. নূরুল আমিন রুহুল মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে কাজ করছেন।

Cadpur

তবে এই আসনে বিএনপিতে নেই কোনো নির্বাচনী আমেজ। এখনো পর্যন্ত বিএনপির কোনো মনোনয়নপ্রত্যাশী নির্বাচনী প্রচার-প্রচারনায় নামেনি।

বিএনপিতে উত্তাপ না থাকলেও নির্বাচনী প্রস্তুতি চলছে ঢিলেডালাভাবে। দলটির সংগঠনিক অবস্থা অনেকটাই দুর্বল। বিশেষ করে সাবেক এমপি নুরুল হুদার মৃত্যুতে বিএনপি অনেকটাই অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে এ আসনে।

সরকারি দলের নানান বাধা পেরিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠে জানান দিচ্ছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতা ড. জালাল আহমেদ, বিএপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা মোস্তফা খান সফরী, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এম এ শুক্কুর পাটওয়ারীর নাম শোনা যাচ্ছে।

মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া তার নির্বাচনী এলাকায় নিয়মিত সমাবেশ করে নৌকা প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করছেন।

এসব সমাবেশে তার সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন ছেলে সাজেদুল হোসেন চৌধুরী দিপু।

এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নের ফলে আগামী নির্বাচনেও নৌকার বিজয় নিশ্চিত বলে সমাবেশগুলোতে বক্তব্য দিচ্ছেন মায়া চৌধুরী। তরি নির্বাচনী এলাকায় নিয়মিত সমাবেশ ও জনসংযোগ করছেন তিনি।

মতলব উত্তর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ কুদ্দুস বলেন, মায়া চৌধুরী ব্যাপক উন্নয়নকাজ করে মতলবের চেহার পাল্টে দিয়েছেন। আধুনিক মতলবের রুপকার তিনি। তার নেতৃত্বে মতলবে আওয়ামী লীগ সুসংগঠিত আছে।

মতলব দক্ষিণ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এ এইচ এম গিয়াসউদ্দিন বলেন, এই আসনে মায়া চৌধুরীর বিকল্প নেই। দুই মতলবের উন্নয়নে তার ভূমিকা অপরিসীম। আগামীতেও তিনি নৌকা নিয়ে নির্বাচিত হয়ে জনগণের সেবা করে যাবেন।

অন্যদিকে আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সহ-সভাপতি অ্যাড. নুরুল আমিন রুহুল। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি প্রায়ই এলাকায় আসেন এবং নেতা-কর্মীদের সাথে নানাভাবে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। তার এই আসা-যাওয়াটাই নির্বাচনী উত্তাপ অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে এ আসনে। তবে অ্যাড. রুহুল প্রকাশ্যে প্রচার-প্রচারণা চালাতে কিছুটা কৌশলী অবস্থানে রয়েছেন।

মনোনয়নপ্রত্যাশী অ্যাড. নুরুল আমিন রুহুল বলেন, বিগত দিনে জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেছিলাম। কিন্তু কুচক্রী মহলের কারণে ভোটে হেরে যাই। দলের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। আশাকরি দল তার মূল্যায়ন করবেন। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।

এদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, তাদের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানি করছে আওয়ামী লীগ। প্রতিপক্ষের মামলা আর হামলার ভয়ে এলাকা ছাড়া বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী দলের নেতা-কর্মীরা। তবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিনের নেতৃত্বে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টায় আছে দলটি। এ আসনে বিএনপি থেকে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন মো. নুরুল হুদা। তার মৃত্যুর পর এই আসনে দলের হাল ধরেন জালাল উদ্দিন। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত চারটি সংসদ নির্বাচনে দলের জন্য কাজ করেছেন তিনি। ২০০৮ সালে বিএনপি থেকে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেন তিনি।

বিএনপি মতলব দক্ষিণ উপজেলা সাধারণ সম্পাদক এমরান হোসেন মিলন বলেন, আসনটি আমাদের ফিরিয়ে আনতে হলে যোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া বিকল্প নেই। সেই ক্ষেত্রে যোগ্য নেতা হিসেবে ড. জালাল উদ্দিনের বিকল্প নেই।

কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, মতলবের সাধারণ মানুষ আওয়ামী লীগের দুঃশাসন থেকে মুক্তি চায়। জনগণ আজ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তনে আগ্রহী। এলাকার নির্যাতিত সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে তাদের পাশে ছিলাম আছি।  তৃণমূলের নেতাকর্মীদের আগ্রহে আমি আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা দাবি জানাচ্ছি। আশাকরি মনোনয়ন পেলে আমার জয় সুনিশ্চিত।

এছাড়াও এই আসনে আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা মোস্তফা খান সফরী, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের তেজগাঁও এলাকার সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার ও মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।

এদিকে জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক মো. মিজানুর রহমান খান ও জাপা নেতা এমরান হোসেনর নাম শোনা যাচ্ছে। জাতীয় পার্টির শাসনামলে এই আসনে সংসদ সদস্য ছিলেন মেজর জেনারেল (অব.) শামছুল হক। তার মৃত্যুর পর এখানে দলটি এখন নিষ্ক্রিয় প্রায়। এই আসনে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর কোন নেতার নাম এখনো শোনা যাচ্ছে না।

জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকাররের আমলে দেশে উন্নয়নের জোয়ার বইছে। এই আমলে চাঁদপুরের প্রত্যেকটি নির্বাচনী এলাকার ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়েছে। তাই আগামী নির্বাচনেও জেলার ক’টিই আসনেই আ’লীগ জয়লাভ করতে সক্ষম হবে।

জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক দাবি করেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি তাদের রয়েছে। সরকার বিএনপি’র সাথে যে বৈরি আচরণ করছে তাতে সাধারণ মানুষ আ’লীগের উপর এখন অনেক ক্ষুব্দ। বিএনপি তথা ২০ দলীয় জোটের সভা-সমাবেশসহ কোন প্রচার প্রসারনা করতে দিচ্ছে না। একের পর এক মিথ্যে মামলা দিয়ে নেতা-কর্মীদের হয়রানী করা হচ্ছে যা সাধারণ মানুষ সরকারের এমন কর্মকা- দেখছে। তিনি দাবি করেন, যদি সাধারণ মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তাহলে জেলার সব ক’টি আসনেই বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন।

চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর-দক্ষিণ উপজেলা) সংসদীয় আসনে নির্বাচন কমিশনের হাল নাগাদ ভোটার তালিকা অনুয়ায়ী মোট ভোটার হচ্ছে ৩ লাখ ৮২ হাজর ৮৩৯ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯৩ হাজার ৫১৫ জন এবং মহিলা ভোটার ১ লাখ ৮৯ হাজার ৩২৮ জন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর

Best Electronics