Alexa চাকরির অভাবে মাছ চাষ, বছরে আয় ১৬ লাখ

ঢাকা, শুক্রবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৫ ১৪২৬,   ২০ মুহররম ১৪৪১

Akash

চাকরির অভাবে মাছ চাষ, বছরে আয় ১৬ লাখ

রনি আকন্দ, কালাই (জয়পুরহাট) ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৫৪ ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ২২:৪৬ ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

মাছ চাষ করে ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার মোলামগাড়ীহাটের সুজাউল ইসলাম সুজা। চাকরির অভাবে মাছ চাষ শুরু করলেও এখন বছরে আয় করছেন ১৬ লাখ টাকা।

সুজাউল ইসলাম ২০০০ সালে এসএসসি পাশ করার পর কোনো চাকরি না পেয়ে নিজ উদ্যোগে ৯০ শতক পরিমাণ পুকুর লিজ নিয়ে প্রায় ৫০ হাজার টাকায় মাছ চাষ শুরু করেন।

ওই বছরে লাভ হওয়ায় প্রতি বছরে দুই থেকে তিনটি করে পুকুরের সংখ্যা বাড়াতে থাকে। বর্তমানে তার পুকুরের সংখ্যা ২৬টি। এসব মৎস্য খামারে বর্তমানে কাজ করছেন ৫০ জন যুবক। তার এই সফলতা দেখে ওই এলাকার আশপাশের গ্রামের শিক্ষিত বেকার যুবকরা মাছ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

সরেজমিন সূত্র বলছে, কালাই উপজেলার মোলামগাড়ী হাটের বাসিন্দা মোজাহার আলী প্রামাণিকে ছেলে সুজাউল ইসলাম সুজা। তিনি এসএসসি পাশ করে বেকার থাকায় চাকরির পিছনে ছুটতে থাকেন। চাকরি না পেয়ে নিজ উদ্যোগে শুরু করেন মাছ চাষ। বর্তমানে তার ২৬টি পুকুর রয়েছে। এসব পুকুরে রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভার, পাঙ্গাস, কৈ, মাগুর, শিং, চিতল, শোল, টেংরা, চিংড়ি, পাবদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করছেন।

তার সব খরচ বাদে বছরে আয় থাকে প্রায় ১৬ লাখ টাকা। এই সফলতায় এরমধ্যেই তিনি উপজেলা পর্যায়ে ২০০৭, ২০১০ ও ২০১৯ সালে হয়েছেন শ্রেষ্ঠ মৎস্য চাষি। যার কারণে তিনি পেয়েছেন সম্মাননা ক্রেস্ট ও বিভিন্ন উপহার সামগ্রী। সুজার সফলতা দেখে আশপাশের গ্রামের শিক্ষিত বেকার যুবকরা মৎস্য চাষে আগ্রহী হয়ে পড়েছেন। শুধু মৎস্য চাষে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি এলাকায় ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছেন।

সুজাউল ইসলাম বলেন, আমার উচ্চ ডিগ্রী না থাকার কারণে চাকরি না পেয়ে একটি পুকুর লিজ নিয়ে মাছ চাষ শুরু করি। প্রথমে পোনা-মাছ বিক্রি করে লাভবান হয়েছি। সে বছর ভালো লাভ হওয়ায় প্রতি বছরে দুই থেকে তিনটি করে পুকুরের সংখ্যা বাড়তে থাকে। এখন সব খরচ বাদে বছরে আয় থাকে প্রায় ১৬ লাখ টাকা।

তিনি আরো বলেন, বেকার যুবকরা চাকরির পেছনে না ঘুরে প্রশিক্ষণ নিয়ে মাছ চাষ শুরু করলে ভাগ্য বদলাবে বলে আমি আশাবাদী। পুকুর না থাকলেও লিজ নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী মাছ, মুরগি ও সবজি চাষ করে লাভবান হওয়া সম্ভব।

জিন্দারপুর ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, সুজার সাফল্যে এলাকার অনেকেই মৎস্য চাষে ঝুঁকছেন।

কালাই উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হাকিবুর রহমান বলেন, সফল মৎস্য খামারি সুজাউল ইসলাম মাছ চাষের কারণে উপজেলা মৎস্য অফিস থেকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা পেয়েছেন। মাছ চাষে তিনি উপজেলা পর্যায়ে তিনবার পুরস্কার অর্জন করেছেন। এ উপজেলায় মৎস্য চাষে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছেন তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম