Alexa চাই নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা

ঢাকা, সোমবার   ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ১ ১৪২৬,   ১৬ মুহররম ১৪৪১

Akash

চাই নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা

 প্রকাশিত: ১৪:১৫ ২৮ আগস্ট ২০১৯   আপডেট: ১৪:১৬ ২৮ আগস্ট ২০১৯

দৃশ্যত পরিচয়ে সাহাদাৎ রানাকে সাংবাদিক হিসেবেই চেনে সবাই। তবে শুধু সাংবাদিক তিনি নন। গল্প, কবিতা লেখা, সাংগঠনিক দক্ষতাসহ তার রয়েছে নানা গুণ। বর্তমানে বেসরকারি টেলিভিশন এটিএন নিউজে কর্মরত রয়েছেন। দায়িত্ব পালন করেছেন সাংবাদিকদের সংগঠন ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। জাতীয় প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্য এই সাংবাদিক।

বিশুদ্ধ পানির অপর নাম জীবন। বিশুদ্ধ পানি ছাড়া একজন মানুষের পক্ষে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। এটা ডাক্তারদের ভাষায়। 

চিকিৎসকদের ভাষায় পানি সম্পর্কে আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। অর্থাৎ মানুষ প্রতিদিন যতগুলো রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হন তার প্রায় ৭০ ভাগের বেশি হয় বিশুদ্ধ পানির অভাবে। বা পানিবাহিত কারণে। এতেই পরিস্কার বোঝা যায় আমাদের জীবনে প্রতিদিন বিশুদ্ধ পানি কতটা প্রয়োজন। এখন প্রশ্ন হলো আমরা প্রতিদিন যেসব পানি পান করছি তা কতটা বিশুদ্ধ। বাড়িতে থাকার সময় ফুটিয়ে বিশুদ্ধ করে নিরাপদ পানি পাচ্ছি ঠিকই। কিন্তু আমরা যখন জীবিকার প্রয়োজনে প্রতিদিন বাসা থেকে বের হচ্ছি তখন কতটা নিরাপদ পানি পান করতে পারছি। কারণ জীবিকার প্রয়োজনে আমাদের প্রায় সবাইকে ঘর থেকে বাইরে বের হতে হচ্ছে। কিন্তু পথে ঘাটে দোকানে যেসব পানি পাচ্ছি তা কতটা নিরাপদ সেটা বড় প্রশ্ন।

রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে এখন জার বা বোতলজাত পানি হাত বাড়ালেই পাওয়া যায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো এসব পানি কতটা নিরাপদ। আমাদের চারপাশে এসব পানি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে কিন্তু যথাযথ কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ নেই, এ বিষয়ে। আমরা জার বা বোতলজাত যেসব পানি পান করছি এর বেশির ভাগই যে দূষিত এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। যেসব জার কোম্পানিগুলো রয়েছে সেখানে খোলা কলের দূষিত পানি ভরে ও বাজারজাত করে বিক্রি করছে, এমন অভিযোগ পুরনো এবং অনেকাংশে সত্য। একশ্রেণির অসৎ মানুষের এমন ব্যবসা করছে, যা মানুষের জীবন ঝুঁকি প্রতিনিয়ত বাড়িয়ে তুলছে। এই পানি পান করে অনেকেই দুরারোগ্য ব্যাধিতে ভুগছেন অনেকটা প্রতিকারহীনভাবে। 

দেখা যায়, সরাসরি মাটির অল্প গভীর থেকে যে পানি তোলা হচ্ছে সেটায় কোন রাসায়নিক ব্যবহার না করে সরাসরি ডুকানো হচ্ছে জার বা বোতলে। অথচ, পয়ঃনিষ্কাশনের বর্জ্য, নর্দমা ও ড্রেনের ময়লাসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকারক পদার্থ মিশে সেই পানি বিষ হয়ে আছে। এটাকে পরিশোধন করতে অনেক সময় মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের ফলেও রোগ-ব্যাধি বাড়ার আশঙ্কা বাড়ছে। কোনোরকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই এসব পানি পান করায় মানবদেহে বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ-জীবাণু বাসা বাঁধছে। 

এবার লক্ষ্য করা যাক নিরাপদ পানির অভাবে সাধারণত আমরা কী কী রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকি। সুপেয় পানির অভাবে মূলত ডায়রিয়া, টাইফয়েড, কলেরা, জন্ডিস, আমাশয়, হেপাটাইটিস বি-ভাইরাস, চর্মরোগ ও মরণব্যাধি ক্যান্সারের মতো ছোট-বড় সব রোগই হতে পারে। অথচ বিষয়টিকে আমরা সেভাবে আমলে নেই না। আমলে নেই শুধু আক্রান্ত হওয়ার পর। এক গবেষণায় দেখা গেছে, নানা কারণে ঢাকায় বসবাসরত মোট জনগোষ্ঠীর মধ্যে শতকরা প্রায় ৫০ ভাগের বেশি মানুষ বিশুদ্ধ পানি পান করা থেকে বঞ্চিত। 

ঢাকায় বসবাসরত মানুষের পানির প্রধান উৎস ওয়াসা। অথচ অভিযোগ রয়েছে কিছু কিছু জায়গায় ওয়াসার পানি পান করা তো দূরের কথা হাতমুখ ধোয়াও দুস্কর। দুঃখের বিষয় এই ওয়াসা থেকেই রাজধানীবাসীর পানির চাহিদা মেটানো হয়। আর স¤প্রতি এমন বিষয় সামনে এলো যে, ওয়াসার পানি পাওয়া যাচ্ছে না! স্বাভাবিকভাবেই এই বিষয়টি ভয়ানক পরিস্থিতিকেই স্পষ্ট করে, যা সহজেই অনুমান করা যায়। অবাক করা তথ্য হলো অধিকাংশ জার ব্যবসায়ী এই ওয়াসার পানি সরাসরি জারে ভরে বিভিন্ন অফিসে বিক্রি করছে। এমন প্রবনতা অনেক আগে থেকে শুরু হলেও বর্তমানে এর ব্যাপকতা অনেকটা বেড়েছে। কিন্তু কোন কার্যকর উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

শুধু রাজধানী ঢাকায় নয়, সারা বাংলাদেশেই জারে পানির চাহিদা রয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি চাহিদা ঢাকায়। অবাক করা তথ্য হলো- শুধু ঢাকা শহরেই প্রতিদিন প্রায় ৩০ হাজার পানির জারে বিশুদ্ধ পানির পরিবর্তে অপরিশোধিত পানির ব্যবসা চলছে এবং বিশুদ্ধ পানি মনে করে প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। বলা যায় অনেকটা বাধ্য হয়ে এসব পানি পান করছে। এখন প্রশ্ন হলো এর সমধান কী? কিভাবে? অবশ্যই সমাধান রয়েছে। এর জন্য সবার আগে প্রয়োজন ভ্রাম্যমাণ আদালতে মাধ্যমে এসব অনুমোদনহীন পানি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া। যারা এই অসৎ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। সর্বত্র ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করা। কারণ এটা মানুষের জীবন নিয়ে খেলার সামিল। আমাদের প্রত্যাশা, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং এর কোনো বিকল্প নেই।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর