চাঁপাইনবাবগঞ্জে কোয়ারেন্টাইন কার্যত অকার্যকর!

ঢাকা, শনিবার   ০৪ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২১ ১৪২৬,   ১০ শা'বান ১৪৪১

Akash

চাঁপাইনবাবগঞ্জে কোয়ারেন্টাইন কার্যত অকার্যকর!

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৫২ ১৬ মার্চ ২০২০   আপডেট: ২২:৩৭ ১৬ মার্চ ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

রোববার দুপুরে সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের নিয়ামুল (ছদ্মনাম)। বন্দরের ইমিগ্রেশনে তার প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়।

স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী তার ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার কথা। কিন্তু রোববার সন্ধ্যায় এমনকি সোমবারও তাকে শহরে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। 

সোমবার দুপুরে তার সঙ্গে কথা বলে ডেইলি বাংলাদেশ এর প্রতিবেদকের। তিনি জানান, ইমিগ্রেশনে তাকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার ব্যাপারে তেমন কিছু বলা হয়নি। তার শরীরে করোনাভাইরাসের তেমন কোনো লক্ষণও নেই তাই তিনি ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী করোনা আক্রান্ত দেশ থেকে ফিরলেই তাকে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। ভারতেও ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। সেখানে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। তাই ভারত থেকে ফেরা বাংলাদেশিদের সরকারি ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। এ সময় তারা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও ঘনিষ্ট চলাফেরা করতে পারবেন না। কিন্তু যথাযথ নজরদারির অভাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জে হোম কোয়ারেন্টাইন কার্যত অকার্যকর।

নিয়ামুল বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে হোম কোয়ারেন্টাইনের ব্যাপারেও তাকে তেমন কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি। তবে বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মেশা যাবে না- এটাও খুব কষ্টসাধ্য একটা বিষয়। 

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন পুলিশের এসআই জাফর ইকবাল বলেন, এখান দিয়ে পার হওয়া সব যাত্রীকেই বলে দেয়া হচ্ছে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার জন্য। তাদের একটি করে নির্দেশনা সম্বলিত টোকেনও দেয়া হচ্ছে। কিন্তু কেউ না মানলে কিছু করার নেই।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন জাহিদ নজরুল চৌধুরী জানান, সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে এমন ৩০০ জনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছে সেখানে দায়িত্বরত স্বাস্থ্যকর্মীরা। তাদের মধ্যে ২০ এর অধিক ভারতীয় নাগরিকও আছেন। যারা এখনো চাঁপাইনবাবগঞ্জে অবস্থান করছেন। ভারত থেকে ফেরা সবাইকেই হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হচ্ছে। কিন্তু বাড়ি গিয়ে তারা যদি নির্দেশনা না মানেন তাহলে আসলে কিছু করার নেই। 

তিনি বলেন, সম্প্রতি ইতালি ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ফেরা দুইজন আছেন যাদের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত যোগাযোগ রয়েছে। তারা খুবই সচেতন। তারা নিজেরাই আগ্রহী হয়ে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। ভারত ফেরতদের ব্যাপারেও খোঁজ-খবর রাখা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম