Alexa চাঁদে গিয়েছিল যে কম্পিউটার

ঢাকা, সোমবার   ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯,   পৌষ ১ ১৪২৬,   ১৮ রবিউস সানি ১৪৪১

চাঁদে গিয়েছিল যে কম্পিউটার

বিজ্ঞান ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৪২ ১ ডিসেম্বর ২০১৯  

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদে প্রথম মানুষের পদার্পণের অর্ধশতক পূর্ণ হলো এ বছরই। ১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই চাঁদের বুকে নিল আর্মস্ট্রং প্রথম পা রাখেন। তার কিছুক্ষণ পরই চাঁদে দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে পা রাখেন বাজ অলড্রিন। তারা দুজনই মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার অ্যাপোলো-১১ চন্দ্রযানে করে চাঁদের বুকে অবতরণ করেছিলেন। তারা একটি শক্তিশালী কম্পিউটার নিয়েই চাঁদে নেমেছিলেন! কম্পিউটারটির নাম অ্যাপোলো গাইডেন্স কম্পিউটার বা এজিসি।

মানব ইতিহাসের এই বৈপ্লবিক ঘটনাটি সম্ভব করতে যে কম্পিউটারটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল, সেটির ওজন ছিল ৭০ পাউন্ড অর্থাৎ প্রায় ৩২ কেজি! মেমোরি ছিল ৮০ কিলোবাইটেরও কম! শুধু তা-ই নয়, কম্পিউটারটি প্রতি সেকেন্ডে মাত্র ৪০ হাজার নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে পারত। যেখানে বর্তমানে একটি সাধারণ ল্যাপটপও সেকেন্ডে ১ হাজার কোটি নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে পারে!

শক্তিশালী কম্পিউটারটি আজকের মতো কোনো অপারেটিং সিস্টেম ছিল না। এ ধরনের হার্ডওয়্যারকে বলে কোর রোপ মেমোরি। ব্যাপারটি হাস্যকর মনে হলেও সে সময় এটি ছিল একটি বৈপ্লবিক কাজ। বিংশ শতকের পঞ্চাশের দশকে এমন একটি কাজ করে দেয়ার মতো আজকের সিলিকন ভ্যালি ছিল না। ফলে কাজটি নাসাকেই করতে হয়েছিল।

এজিসি তৈরির কাজটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ফিলিপ হ্যাটিস। তিনি তখন এমআইটির গ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্ট। তিনি বলেন, আইবিএমের ঢাউস আকৃতির মেইনফ্রেম কম্পিউটারের যুগে এজিসির মতো একটি কম্পিউটার বানানো ছিল বিশাল চ্যালেঞ্জ। কারণ একটি স্পেসশিপে জায়গা থাকে খুব মাপা আর জ্বালানিও খুব হিসাব করে খরচ করতে হয়। এমনকি এখনো মাত্র ১ পাউন্ড ওজনের একটি বস্তুতে কক্ষপথে স্থাপন করতে খরচ হয় ১০ হাজার ডলার।

অ্যাপোলো ১১ মিশনে দু’টি এজিসি ব্যবহার করা হয়েছিল। একটি হলো কমান্ড মডিউল, যেটি নভোচারীরা মূল নভোযানে রেখেছিলেন। অন্যটি লুনার মডিউল, যেটি নিয়ে চাঁদে অবতরণ করেন বাজ অলড্রিন ও নিল আর্মস্ট্রং। নভোচারীরা এ কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণ করতেন ডিএসকেওয়াই বোর্ডের মাধ্যমে। এটিতে মূলত কিছু সংখ্যা ছিল। এটি ব্যবহারের জন্য কোন সংখ্যাটি দিয়ে ‘ক্রিয়া’ আর কোনটি দিয়ে ‘বিশেষ্য’ বোঝায় তা মুখস্থ করতে হয়েছিল।

পুরো চন্দ্রাভিযান নিয়ন্ত্রণ ও নভোচারীদের সহায়তার জন্য নাসার ভূস্টেশনে মিশন কন্ট্রোল রুমে বহু কম্পিউটার ও প্রকৌশলী ছিলেন। কিন্তু নভোচারীদের নিয়মিত কিছু সংশোধনের ভেতর দিয়ে যেতে এজিসির বিকল্প ছিল না। কারণ তাদের একদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী সোভিয়েত ইউনিয়ন, অন্যদিকে লুনার প্রোবের সঙ্গে সৃষ্ট যোগাযোগ বিভ্রাট এড়িয়ে চলতে হয়েছিল।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে