চাঁদা না দেয়ায় ইউপি সদস্যকে মারধর

ঢাকা, শুক্রবার   ০৫ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ২২ ১৪২৭,   ১২ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

চাঁদা না দেয়ায় ইউপি সদস্যকে মারধর

বরগুনা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৪১ ৩ মার্চ ২০২০  

ইউপি সদস্য মো. জাহাঙ্গির হাওলাদার (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ)

ইউপি সদস্য মো. জাহাঙ্গির হাওলাদার (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ)

চাঁদা না দেয়ায় ইউপি সদস্য মো. জাহাঙ্গির হাওলাদারকে মারধর করেছে স্থানীয় প্রভাবশালী বাশার জোমাদ্দার ও তার সহযোগীরা।

ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার রাতে জেলার তালতলী উপজেলার শারিকখালী ইউপির উত্তর নলবুনিয়া গ্রামে। আহত ইউপি সদস্যকে ওইদিন রাতেই স্বজনরা উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। 

এ ঘটনায় মঙ্গলবার আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ইউপি সদস্যের স্ত্রী শিউলী আক্তার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। আদালতের বিচারক মো. সাকিব হোসেন মামলাটি আমলে নিয়ে তালতলী থানার ওসিকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

জানা গেছে, উপজেলার শারিকখালী ইউপির উত্তর নলবুনিয়া গ্রামের খাস পুকুরের ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে খননের কাজ পায় বরগুনার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কামাল নাইফ এন্টারপ্রাইজ। সাব ঠিকাদার হিসেবে ওই পুকুর খননের কাজ নেয় ইউপি সদস্য জাহাঙ্গির হাওলাদার। পুকুর খনন কাজ ১৫ জানুয়ারি শুরু করেন।
  
পুকুর খনন কাজের শুরুতে সাব-ঠিকাদার ইউপি সদস্য জাহাঙ্গিরের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে স্থানীয় প্রভাবশালী বাশার জোমাদ্দার, ছগীর ও সাগর। এ টাকা দিতে রাজি হননি ইউপি সদস্য। এ নিয়ে ইউপি সদস্য ও ছগির খন্দকারের মাঝে কয়েক দফায় কথা কাটাকাটি হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয় বাশার জোমাদ্দার, ছগির ও তার সহযোগীরা।  

সোমবার রাতে ইউপি সদস্য জাহাঙ্গির হাওলাদার দক্ষিণ কচুপাত্রা রশিদ মাস্টারের মাহফিলে আসেন। মাহফিল থেকে রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে ছগির জোমাদ্দার, বাশার জোমাদ্দার, সাগর, সৈকতসহ ৮-১০ জনের ইউপি সদস্য জাহাঙ্গির হওলাদারকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন এবং তাকে ছুরিকাঘাত করার চেষ্টা করেন। তার ডাক-চিৎকারে মাহফিলের লোকজন ছুটে এসে ইউপি সদস্যকে উদ্ধার করেন। এ সময় উদ্ধার একটি ছুরি পুলিশের কাছে সোপর্দ করে স্থানীয়রা। 

অপরদিকে ইউপি সদস্যকে মারধরের খবর পেয়ে তার লোকজন এসে বাশার জোমাদ্দার ও তার ভাইয়ের ছেলে সাগরকে মারধর করেছে বলে দাবি করেছেন ছগির জোমাদ্দার। আহত দুইজনকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

খবর পেয়ে তালতলী পুলিশ ঘটনাস্থল পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।  

এ ঘটনায় মঙ্গলবার ইউপি সদস্য জাহাঙ্গিরের স্ত্রী শিউলি আক্তার বাদী হয়ে বাশার জোমাদ্দারকে প্রধান আসামি করে আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালতের বিচারক মো. সাকিব হোসেন মামলাটি আমলে নিয়ে তালতলী থানার ওসিকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। 

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হারুন অর রশিদ বলেন, আহত ইউপি সদস্যকে যথাযথ চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

আহত ইউপি সদস্য জাহাঙ্গির হাওলাদার বলেন, খাস পুকুর খনন করতে গেলে ছগির জোমাদ্দার, বাশার জোমাদ্দার ও সাগর আমার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকার করলে আমাকে বিভিন্ন সময়ে হত্যার হুমকি দেন তারা। সোমবার রাতে মাহফিল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ছগির, বাশার ও সাগরসহ ৮-৯ জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর এবং আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ছুরিকাঘাতের চেষ্টা করেন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আমি অল্পের জন্য রক্ষা পাই। এ ঘটনার বিচার চাই।

ছগির জোমাদ্দার চাঁদা দাবির কথা অস্বীকার করে বলেন, আমার ভাই বাশার জোমাদ্দার ও ভাইয়ের ছেলে সাগরকে ইউপি সদস্যের লোকজন মারধর করেছেন। আহত দুইজনকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছি।  

তালতলী থানার ওসি (তদন্ত) মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি কিন্তু পুলিশ পৌঁছার পূর্বেই বাশার জোমাদ্দারের লোকজন পালিয়ে যান।

তিনি আরো বলেন, ইউপি সদস্য জাহাঙ্গির হাওলাদার গত এক মাসে চারবার আমাকে ফোন করে তাকে রক্ষার কথা জানিয়েছেন। এ ঘটনার কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম