Alexa চাঁদা না দিলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হয়রানি

ঢাকা, বুধবার   ২১ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৬ ১৪২৬,   ১৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

চাঁদা না দিলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হয়রানি

রাজীব আহম্মেদ রাজু, গোপালগঞ্জ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:২৩ ৪ আগস্ট ২০১৯  

ডেইলি বাংলাদেশ

ডেইলি বাংলাদেশ

গোপালগঞ্জে কাশিয়ানীর কালনা ফেরিঘাটে যানবাহনের সিরিয়াল নিয়ন্ত্রণের নামে বেপরোয়া চাঁদা তোলার অভিযোগ উঠেছে। এ থেকে রেহাই পাচ্ছেন না ভ্যান রিকশা চালকরাও।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ ফেরিঘাট হচ্ছে কালনা ফেরিঘাট। এই ঘাট দিয়ে যশোর, খুলনা, বেনাপোল, নড়াইল, সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন জেলার যানবাহন চলাচল করে থাকে। এসব যানবাহন থেকে প্রতিদিনই নড়াইল শ্রমিক ইউনিয়নের নামে চাঁদা তোলা হচ্ছে।

কালনা ফেরিঘাটে সরেজমিনে দেখা গেছে, ফেরিঘাট এলাকায় কয়েকজন লোক বাস, ট্রাক, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে ২০ থেকে ৩০ টাকা করে চাঁদা আদায় করছেন। এ সময় চালকদের হাতে ‘নড়াইল জেলা শ্রমিক ইউনিয়ন’লেখা সম্বলিত ২০ টাকার একটি টোকেন ধরিয়ে দিচ্ছেন। পাশেই বসে আছেন নামধারী কয়েকজন শ্রমিক নেতা।

ট্রাক চালক মাহাবুর রহমান বলেন, প্রতিদিনই ২০ থেকে ৩০ টাকা চাঁদা দিতে হচ্ছে। চাঁদা না দিলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়ি আটকে রেখে হয়রানি করা হয়। এতে পরিবহন যাত্রীদেরও চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। তারা সিরিয়াল নিয়ন্ত্রণের কথা বলে এসব টাকা নেয়া হচ্ছে। চাঁদাবাজি বন্ধ করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।  

চাঁদা আদায়কারী মো. তবিবুর রহমান বলেন, চাঁদা তুলে মজুরি পাই। প্রতিদিন গাড়ি থেকে নড়াইল জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের টাকা কালেকশন করে দেই। তবে এ ব্যাপারে আর কিছু বলতে পারি না।

নড়াইল জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. সাদেক খান বলেন, ফেরিতে উঠতে গেলে গাড়ির সিরিয়াল লাগে। আগে উঠা নিয়ে প্রায়ই বাস-ট্রাক শ্রমিকদের দ্বন্দ্ব হত। যে কারণে সিরিয়াল নিয়ন্ত্রণের জন্য দশ টাকা করে নেয়া হয়।

ঘাট মালিক মঞ্জুর সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা হলে তিনি চাঁদা নেয়ার অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, যারা ওপাড় থেকে এপাড়ে আসেন তারাও চাঁদা নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।

মুকসুদপুর (সার্কেল) এর সিনিয়র সহকারী এসপি মো. আনোয়ার হোসেন ভূঞা জানিয়েছেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে ওসিকে ব্যবস্থা নিতে বলবো।

এ ব্যাপারে কাশিয়ানী থানার ওসি মো. আজিজুর রহমান বলেন, ওপাড়ে আমাদের কিছুই করার নেই। ওইপাড় আমাদের মধ্যে হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজ করে নড়াইল জেলা পুলিশ। কাশিয়ানী অংশের চাঁদাবাজি আমরা অনেক আগেই বন্ধ করে দিয়েছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম

Best Electronics
Best Electronics