Alexa চল্লিশ বছর পর চালু হচ্ছে বিমানবন্দর

ঢাকা, সোমবার   ২৬ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ১১ ১৪২৬,   ২৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

চল্লিশ বছর পর চালু হচ্ছে বিমানবন্দর

 প্রকাশিত: ২০:০৯ ২৮ এপ্রিল ২০১৮  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশদের তৈরি করা লালমনিরহাট বিমানবন্দরটি প্রায় ৪০ বছর পর চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পর পরিত্যক্ত হয়ে পড়া বিমানবন্দরটি আশির দশকে চালু করা হলেও অল্প কিছুদিনের মধ্যে আবারো বন্ধ হয়ে যায়।

এ বিমানবন্দরটি চালু হলে যোগাযোগসহ আর্থ-সামজিক ব্যবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন হবে বলে আশা করছে উত্তরবঙ্গের মানুষ।

জানা যায়, ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পর পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে এ বিমানবন্দরটি। আশির দশকে সংস্কার করে এটি চালু করা হলেও আবার বন্ধ হয়ে পড়ে। সে থেকেই উত্তরাঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই আবার আকাশ পথে যোগাযোগ স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছে। শেষ পর্যন্ত বর্তমান সরকার তাদের আবেদনে সাড়াও দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, এটি চালু করতে রানওয়ে সংস্কারের জন্য টাকাও বরাদ্দ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। প্রায় চার মাইল লম্বা রানওয়ে, সুবিশাল টারমার্ক নিয়ে এ বিমানবন্দরের আয়তন ১ হাজার ১৬৬ একর। লালমনিরহাটে এই বিমান বন্দরটি চালু হলে এটি হবে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম বিমানবন্দর।

লালমনিরহাট বিমান বাহিনীর রক্ষণাবেক্ষণ ইউনিটের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র ডেইলি বাংলাদেশকে জানায়, ভুটান সরকার লালমনিরহাট বিমানবন্দরটি ব্যবহারের জন্য পছন্দের তালিকায় রাখলেও আকাশসীমা নিয়ে জটিলতা থাকায় তা বাস্তবায়িত হতে সময় লাগছ। তবে ভারত-বাংলাদেশ-ভুটানের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় একটি চুক্তি হলেই বিমান বন্দরটি আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবহার করা যাবে।  সব ঠিক থাকলে এ বছরেই লালমনিরহাট বিমান বন্দরটি চালু করা সম্ভব হবে।

এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, লালমনিরহাটের বিমানবন্দরটি চালু হলে উত্তরের পিছিয়ে থাকা এ জেলার অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে এটি। সেই সঙ্গে প্রসার ঘটবে ব্যবসা-বাণিজ্যের। এছাড়া ভারত, ভুটান ও নেপালের সঙ্গেও আকাশ পথে যোগাযোগ সহজ ও দ্রুততর হবে।

লালমনিরহাট সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান একেএম মমিনুল হক ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, এলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি লালমনিরহাট বিমানবন্দরের ঐতিহ্য ফিরে আসুক। বিমানবন্দরটি চালু হবে এটিই জেলাবাসীর প্রাণের একমাত্র দাবি। আর চালু করার জন্য বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের টিম বেশ কয়েকবার লালমনিরহাট সফর করেছেন। তাদের  রিপোর্ট সন্তোষজনক হওয়ায় এবং জেলার মানুষের দাবির কারনেই মুলত সরকার লালমনিরহাট বিমান বন্দরটি পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেয়।

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, বিমানবন্দরের রানওয়েটি পুনরায় সচল করা হবে এবং এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী পদক্ষেপ নিয়েছেন। প্রথম পর্য‌ায়ে এখানে সপ্তাহে দুটি করে বিমান ওঠানামা করবে।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদ্স্য নুরুজ্জামান আহমেদ ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, বিমানবন্দরটি  চালু করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। খুব দ্রুত যেন এই বিমানবন্দর থেকে বিমান চলাচল শুরু হয় সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশ্বাস দিয়েছেন।

ব্রিটিশ আমলে নির্মিত লালমনিরহাট বিমানবন্দরটি ছিল দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধের সময় ইংরেজ সরকারকে তথা তৎকালীন ভারতবর্ষকে রক্ষার একটি প্রধান বিমানক্ষেত্র। এই ঘাঁটি না থাকলে ভারতবর্ষ এবং ইংরেজদের ভারতবর্ষ ছাড়ার ইতিহাস হতো অন্যরকম। লালমনিরহাটকে তখন বলা হতো ‘গেটওয়ে টু নর্থ-ইস্ট’ এবং ‘মাউথ অব আসাম’। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং তখনকার বিশাল প্রদেশ বৃহত্তর আসামে প্রবেশের একমাত্র পথ ছিল লালমনিরহাট। তাই সে সময় এ বিমানবন্দরের গুরুত্বও ছিল।

ডেইলি বাংলাদেশ/আজ/আরআর

Best Electronics
Best Electronics