Exim Bank
ঢাকা, বুধবার ২০ জুন, ২০১৮
Advertisement

চলে যাচ্ছে ইবাদতের বসন্তকাল

 মুফতি কাউসার মাহমুদ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৫৪, ১৩ জুন ২০১৮

আপডেট: ২২:০১, ১৩ জুন ২০১৮

২৫৮ বার পঠিত

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

আর কয়েকটা দিন মাত্র। এরপরই আমাদের থেকে বিদায় নিবে পবিত্র মাহে রমজান। এই তো কদিন আগেই আকাশের পাড়ায় বাঁকা চাঁদ ওঠতেই মুসলিম সম্প্রদায়ে শুরু হয়েছিল উল্লাস। আনন্দে মথিত হয়ে স্বাগত জানানো হয়েছে "আহলান সাহলান মাহে রমজান" বলে। সমস্ত অন্যায়-অপরাধ থেকে বিরত থাকার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে আমরা প্রবেশ করেছিলাম রমজানে। বিগত দিনগুলো মহান আল্লাহর রহমতে আমরা এভাবেই কাটিয়েছি। রিপুর চাহিদাকে বিরত রেখে আমরা সর্বত্তো চেষ্টা করেছি শুদ্ধির। নিজের পবিত্রতার। এভাবেই কেটে গেছে সাধনার ২৪টি দিন।

আমরা নাজাতের শেষদিকে অবস্থান করছি এখন। মাফি আর দয়ার কাঙ্গাল হয়ে পড়ে আছি আল্লাহর পায়ে। মোনাজাত আর ইবাদত করেই কাটছে সময়। ইবাদত বসন্তে মোহময় হয়ে ডুবে আছি এর স্বাদে। আত্মিক উৎকর্ষ সাধনে কঠোর অনুশীলনের যে রুটিন আমরা তৈরি করেছি। বছরের বাকী দিনগুলো যেন এভাবেই কাটে এটাই প্রত্যাশা। আল্লাহর কাছে চাওয়া। রমজান এসে তো শিখিয়ে যায় রবের অনুগত হয়ে দাসত্বের। নিজের ভেতরকার কালিমা দূরের ঐশ্বরিক দাওয়াই হলো রমজানের সাধনা। দয়া, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধসহ ইহ ও অনন্ত পরকালীন জীবনে কল্যণ অর্জনের অনুপম সুযোগ হচ্ছে `মাহে রমজান `।

রাসূল (সা.) বলেন, ‘তার ধ্বংস হোক যে রমজান পেলো অথচ তার গুনাহ মাফ করাতে পারলোনা।’

পুরো রমজান জুড়েই ছিলো মুসলামনদের মাঝে এক অন্যরকম আবহ। সব ক্ষেত্রেই একে অন্যের প্রতি সহমর্মী ছিলো। খাঁটি মুমিন হওয়ার কসরত চলেছে আমলে আমলে। পাপ এবং খারাবী থেকে দূরে থাকার অভিপ্রায়ে রমজানের আমলকে হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করেছে সবাই। এখন শুধু বছরের বাকী সময়ে এ আমল প্রয়োগ করার অপেক্ষা। পবিত্র রমজানের ছোঁয়ায় আমাদের হৃদয় যেমন কোমল হয়ে ওঠে। অন্তরে ছড়িয়ে পড়ে ভালোবাসা, মায়া ও স্নিগ্ধতা। উর্বর অন্তরে ছড়িয়ে পড়ে ইবাদতের আলাদা সমীর। যা অন্যান্য সময় জাগিয়ে রাখে আমাদের।

এই জাগরূক আত্মা নিয়ে আমরা যেতে চাই সামনে। আগামীর রমজান আসবে আমাদের বর্তমান অবস্থা থেকেই। এ অভিপ্রায় ও সুদৃঢ় সংকল্প দিয়েই যেন শেষ হয় রমজানের বাকী কটি দিন। সিয়াম সাধনায় পরিশোধন হোক আমাদের সমস্ত। বস্তুত সিয়াম হচ্ছে তাকওয়া অর্জন ও হৃদয়ের পবিত্রতা। মার্জিতরুচি, আত্মার সজীবতা ও প্রাচুর্যতা, শালীনতাবোধ, উন্নত নৈতিকতা এবং প্রান্তিকতামুক্ত বিশুদ্ধ চিন্তার বলিষ্ঠ সোপান।

রাসূল (সা.) বলেছেন, সিয়াম অবস্থায় তোমাদের কেউ যেন অশালীন ও অর্থহীন কথাবার্তায় লিপ্ত না হয়। কেউ যদি তাকে অশালীন কথা বলে কিংবা তার সঙ্গে অকারণে বাদানুবাদে লিপ্ত হতে চায় তবে সে যেন এ কথা বলে দেয়, আমি রোজাদার। (বুখারী শরীফ)

অন্য হাদীসে রাসূল (সা.) বলেন, “যে রোজা রেখেছে অথচ মিথ্যা পরিহার করেনি, তার কৃত্রিম পানাহার বর্জনের কোনো প্রয়োজন নেই।”

পবিত্র রমজানের এ সামগ্রিক শিক্ষাকে নিজের জীবনে প্রতিফলিত করার মাধ্যমেই আসতে পারে আত্মার উৎকর্ষ সাধন। সুতরাং পবিত্র রমজানতো চলে যাচ্ছে ঠিক। মাসব্যাপী পাওয়া এ শিক্ষা যেন আমাদের থেকে চলে না যায়। মুমিনের আমল তাকে প্রতিদিন রমজানের আবেশেই রাখে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এলকে/আরএজে

সর্বাধিক পঠিত