Alexa চবি আবৃত্তি মঞ্চের দুই দশক পেরোনোর গল্প

ঢাকা, সোমবার   ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০,   ফাল্গুন ১১ ১৪২৬,   ২৯ জমাদিউস সানি ১৪৪১

Akash

চবি আবৃত্তি মঞ্চের দুই দশক পেরোনোর গল্প

চবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৪৫ ১৬ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১০:৫৮ ১৮ জানুয়ারি ২০২০

ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

চলতে চলতে কেটে গেলো দুই দুইটি দশক। চলার পথ ভালো-মন্দ মিলিয়েই ছিলো। সুন্দরের যাত্রায় মাঝে মধ্যে রক্তচক্ষু আসবেই। এসব উপেক্ষা করেই ভাষার প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে অনবরত পথ চলছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি মঞ্চ। কেমন ছিলো দুই যুগ পেরোনোর গল্প? জানার চেষ্টা করেছেন- রুমান হাফিজ

যেমন করে শুরু

সময়টা ২০০০ সাল ৷ নতুন শতাব্দীর শুরু। এই শুরুটাকে আরেকটু অর্থবহ করতে আগ্রহী হলো কয়েকজন চবিয়ান ৷ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ততদিনে খুব একটা সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে উঠেনি। কাজ করছে হাতেগোনা দুচারটি সংগঠন। আবৃত্তি নিয়েই কাজ করার ইচ্ছে হলো সেই তরুণ দলের। রুচিশীল, স্বপ্নবাজ আর সৃজনশীল এই সাংস্কৃতিক কর্মীদের হাত ধরেই পথ চলা শুরু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি মঞ্চের। লোগোতে থাকা কলম, মুষ্ঠিবদ্ধ হাত আর মুখ নির্দেশ করছে মুক্তজ্ঞান চর্চা, অন্যায়ের প্রতিবাদ ও সত্য উচ্চারণের।

প্রাপ্তির খাতায় দুই দশক

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ও প্রাচীনতম এই আবৃত্তি সংগঠনটি সফল ভাবে ২২টি ‘প্রমিত উচ্চারণ উপস্থাপনা ও আবৃত্তি কর্মশালা’ সমাপ্ত করেছে। প্রায় চার হাজার প্রশিক্ষণার্থী এই কর্মশালা থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছে গত বিশ বছরে। ২৩ তম কর্মশালা শুরু হচ্ছে এবছর ভাষার মাস ফেব্রুয়ারির ১৬ তারিখ থেকে।

নিয়মিত অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে কবি ও কবিতা, পড়ুয়া, বৈঠক আয়োজিত হচ্ছে ধারাবাহিকভাবে। ‘পলাশছোঁয়া স্বপ্নবানের খোঁজে’ শিরোনামে প্রত্যেক বছর চট্টগ্রাম অঞ্চল ব্যাপী আয়োজন করছে একক আবৃত্তি প্রতিযোগিতা।

এ পর্যন্ত নয়টি দুদিন ব্যাপী জাতীয় মানের ‘আবৃত্তি উৎসব’ করেছে সংগঠনটি। গেলো ১৬ ডিসেম্বরে বিজয় দিবসে আয়োজন করে ‘পথ আবৃত্তি’। যেখানে আবৃত্তি মঞ্চ ছাড়াও ক্যাম্পাসের অন্যান্য সংগঠনের সদস্যরা অংশগ্রহণ করে।
সংগঠনটির অর্জনের ফিরিস্তি এখানে শেষ নয়। অর্জনের অন্যতম একটি দিক হলো ‘চবি আবৃত্তি মঞ্চ সম্মাননা’ প্রদান। 

এ পর্যন্ত এই সম্মানননা গ্রহণ করেছেন বীরাঙ্গনা রমা চৌধুরী, একুশের প্রথম কবিতা রচয়িতা মাহবুব উল আলম চৌধুরী, ভাষাবিজ্ঞানী ড. মনিরুজ্জামান, সমাজবিজ্ঞানী ড. অনুপম সেন, শহীদ জায়া বেগম মুশতারী শফী, নন্দিত কবি হেলাল হাফিজ, কথাসাহিত্যিক ও ঔপন্যাসিক সেলিনা হোসেন।

যতো আলো জমা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্চের রয়েছে একঝাঁক উদ্যমী তারুণ্য। যারা মাতৃভাষা, কবিতা এবং আবৃত্তি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। আবৃত্তি মঞ্চের সদস্যরা নিয়মিতভাবে বাংলাদেশ বেতার চট্টগ্রাম ও বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রে আবৃত্তি ও উপস্থাপনা করছে। সঙ্গে সঙ্গে কবিতার শহর চট্টগ্রামের সব আবৃত্তি সংগঠনের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। সদস্যরা বিভিন্ন আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় পুরস্কার অর্জন করে নিজেদের আবৃত্তি দক্ষতার সাক্ষর রেখে চলেছে।

সংগঠনটির বর্তমান সভাপতি মাসুম বিল্লাহ আরিফ বলেন, আবৃত্তি মঞ্চ আমার কাছে একট টুকরো প্রশান্তির নাম। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের সে দায়বদ্ধতা থেকেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। নতুন অনেক সদস্য প্রতি বছর আমাদের সংগঠনে আসে, তবে যাচাই বাছাই করে কিছু সংখ্যক সদস্য যুক্ত করা হয়। এক্ষেত্রে যারাই সংগঠনে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখে কার্যক্রমগুলোতে সক্রিয় থাকতে পেরেছে তাদের সবাই কম বেশি যোগ্যতা প্রমাণে সক্ষম হচ্ছে। মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা ছড়িয়ে পড়ুক প্রতিটি বাঙালি হৃদয়ে।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম