.ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২১ মার্চ ২০১৯,   চৈত্র ৭ ১৪২৫,   ১৪ রজব ১৪৪০

চবি’র ‘সাহসিকা জননী’ নাহিদ নেওয়াজ

চবি প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১৯:৩৬ ১১ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১৯:৩৬ ১১ জানুয়ারি ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

আবৃত্তি, উপস্থাপনা, অভিনয়, বিতর্ক, লেখালেখি কিংবা গান কোনকিছুতেই পিছিয়ে নেই! বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাঁর নাম। তিনি নাহিদ নেওয়াজ।

বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সমাজতত্ত্ব বিভাগে স্নাতকোত্তর এর পাশাপাশি খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে পড়াচ্ছেন চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজে। খুলনার মেয়ে নাহিদ নেওয়াজ চার ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয়।      

সাংস্কৃতিক নানা অঙ্গনে কাজ করলেও আবৃত্তি শিল্পী হিসেবে পরিচিত তিনি। আবৃত্তির প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা লাভ করেছেন বরেণ্য আবৃত্তি শিল্পী হাসান জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে। ২০১৭ সালে নিজের প্রথম আবৃত্তি অ্যালবাম ‘পরিচয়’ বের করেন। চারদিক থেকে বেশ সাড়া পেয়েছেন। জানালেন, "প্রথম অ্যালবাম হিসেবে একটু চিন্তা কাজ করছিলো, তবে সবার পজেটিভ সহযোগিতা আমাকে আত্মতৃপ্তি না করলেও নিজের কাজের প্রতি আরেকটু অনুপ্রাণিত করেছে নি:সন্দেহে।

ছোট্টবেলা থেকেই সাহিত্য সংস্কৃতির অঙ্গনে তাঁর সরব পদচারণা। বাবা মোস্তফা ঢালী ও মা সুলতানা বেগমের উৎসাহে পড়ালেখার পাশাপাশি সৃজনশীল সব কাজে তৎপর ছিলেন।

ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই লেখালেখি ও আবৃত্তি জগতে পথচলা শুরু। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। শিশু একাডেমির রচনা প্রতিযোগিতায় তিনবারের চ্যাম্পিয়ন। খুলনা ডিবেটিং সোসাইটির হয়ে অংশ নিয়ে জাতীয় বির্তক প্রতিযোগিতায় অর্জন করেন শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক খেতাব। নবম শ্রেণিতে পড়াকালীন স্কুলশিক্ষকের অনুপ্রেরণায় যুক্ত হন খুলনা লেখিকা সংঘে।

লেখালেখির পাশাপাশি গানের প্রতিও তাঁর বেশ আগ্রহ। পারিবারিকভাবে গানের প্রতি সমর্থন না থাকায় এক্ষেত্রে খুব এগুতে না পারলেও অবশ্য বন্ধুদের উৎসাহে রবীন্দ্র সংগীত শিখেছেন। সংগীত গুরু চট্টগ্রাম বেতারের সৈয়দুল ইসলামের কাছ থেকে তালিমও নিয়েছেন। এখনও নিয়মিত রবীন্দ্র সংগীতের চর্চা করার চেষ্টা করেন।

সংস্কৃতি চর্চার পাশাপাশি একজন সংগঠকও নাহিদ নেওয়াজ। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরপরই বন্ধুদের নিয়ে ‘উন্মীলন শিল্প ও সাহিত্য ভুবন’ নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন করেন। শহরের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর প্রশিক্ষকরা ক্লাস নিতেন সেখানে। একপর্যায়ে নিজেই কিছু করার চিন্তা ভাবনা থেকে ‘শব্দ নোঙ্গর’ আবৃত্তি সংগঠনে আবৃত্তি চর্চায় মনোযোগ দেন। আবৃত্তি অঙ্গনে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করার পাশাপাশি উপস্থাপনা শুরু করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোর উপস্থাপনা করছেন বেশ সুনামের সাথে। এছাড়া বিভিন্ন সংগঠনের কর্মশালায় আবৃত্তি ও উপস্থাপনার ওপর ক্লাসও নিয়ে থাকেন। চবি সাংস্কৃতিক সংসদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও রাঙামাটি বেতারে অনুষ্ঠান ঘোষিকা হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম শাখায় আবৃত্তি, উপস্থাপনা ও অভিনয়ে নিয়মিত অংশগ্রহণ করছেন। 

চবির প্রাণভোমরা শাটল ট্রেনে ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার ঘটনায় প্রতিবাদী কন্ঠে অগ্রণী ভূমিকার দরুন "সাহসিকা জননী" উপাধি পান নাহিদ নেওয়াজ। যেমনটা বলছিলেন,"ফলিত রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আমাকে এ উপাধি দেন। এটি অন্যায়ের প্রতিবাদ ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অনুপ্রেরণা ছিলো আমার জন্য।"

মানসিক হতাশা কিংবা সামাজিক কোনো বাধাই নারীদের সামনে এগিয়ে যাওয়া রুখতে পারে না। নারী যদি সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় নেয় তাকে কেউ আটকাতে পারে না। তেমনিভাবে নাহিদ নেওয়াজও স্বপ্ন দেখেন অনেক কিছু করার, অনেক দূরে এগিয়ে যাওয়ার।

নিজের ব্যাপারে নাহিদ নেওয়াজ বলেন, "পেশা জীবনে আদর্শ শিক্ষক হতে চাই। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের দেশের স্কুল কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এখনো শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যকার সম্পর্ক কেমন হবে, কেমন হওয়া উচিত এ নিয়ে সঠিক কোনো বিধি বিধান নেই। যা অত্যন্ত জরুরি বিষয়। ফলে কখনো শিক্ষক হয়ে উঠছেন প্রতিপক্ষ কখনো কখনো শিক্ষার্থীরা হয়ে উঠছে প্রতিপক্ষ। এটি কখনোই কাম্য নয়। নারী ও শিশুদের নিয়ে সামাজিক ও সুস্থ ধারার সংস্কৃতি চর্চা বিষয়ক সচেতনতামূলক কাজ করার স্বপ্ন দেখি।"

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ