Alexa চবির ‘বি’ ইউনিটে প্রথম হওয়া হৃদয়ের গল্প

ঢাকা, শুক্রবার   ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ২১ ১৪২৬,   ০৮ রবিউস সানি ১৪৪১

চবির ‘বি’ ইউনিটে প্রথম হওয়া হৃদয়ের গল্প

রুমান হাফিজ, চবি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৪৩ ২৯ অক্টোবর ২০১৯  

ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ‘বি’ ইউনিটে প্রথম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘খ’ ইউনিটে ১১৪ তম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদে ২৯৩ আর জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটো ইউনিটে যথাক্রমে ৮২ ও ৬৩ তম।

বলছিলাম চবির ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় ‘বি’ ইউনিটে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী মো. মনিরুল  ইসলাম হৃদয়ের কথা।

ব্যবসায়ী বাবা মো. গোলাম  মোস্তফা এবং গৃহিনী মা মোছা. শারমিন আক্তার ছেলে মো. মনিরুল  ইসলাম হৃদয়। গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর সিরাজগঞ্জ জেলায়। চট্টগ্রামের সারমুন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মাধ্যমিক এ ৪.৮৬ আর চট্টগ্রাম কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিকে জিপিএ-৫ পান তিনি।

সোমবার প্রকাশিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায় হৃদয় কলা ও মানববিদ্যা অনুষদভুক্ত ‘বি’ ইউনিটে ১ হাজার ২২১টি আসনের প্রতিযোগিতায় মোট ১২০ নাম্বারের মধ্যে
১০৩.৭৮০ নাম্বার পেয়ে প্রথম হয়েছেন। এবছর ‘বি’ ইউনিটে দুই শিফটে পরীক্ষায় শতকারা ৮৭ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। আর ‘বি’ ইউনিটে ৪২ হাজার ৪ জন আবেদনকারীর বিপরীতে পরীক্ষায় উপস্থিত ছিল ৩৬ হাজার ৫৪৪ জন পরীক্ষার্থী। পাশ করে মোট ১৩ হাজার ৪৭৩ পরীক্ষার্থী। ফলাফলে পাশের হার ছিলো ৩৬.৯৪ শতাংশ।

মাধ্যমিকে জিপিএ ৫.০০ না পাওয়ায় ভর্তি পরীক্ষায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফলে ২০ এর মধ্যে ১৯ দশমিক ৭৮০ নাম্বার যোগ হয় তার। এর মধ্যে তিনি বাংলায় মোট  ৩৫ মার্কের মধ্যে ৩০, ইংরেজিতে ৩৫ মার্কের মধ্যে ৩২, এবং সাধারণ জ্ঞানে ৩০ মার্কের মধ্যে ২৫। সব মিলিয়ে  ভর্তি পরীক্ষায় ১০০ এর মধ্যে ৮৪ নাম্বার পান তিনি।

স্কুলের গন্ডিতে থাকা অবস্থায় যুক্ত হোন নানা সামাজিক সংগঠন এর সাথে। বিশেষ করে পথশিশুদের নিয়ে কাজ করছে এমন কয়েকটি সংগঠনের সঙ্গে। কলেজে, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি’ এবং ‘বাংলাদেশ হিউম্যান এইড ফোরামের’ সদস্য। আবৃত্তিতেও আগ্রহী আছে তার।

কথা হয় মনিরুল ইসলাম হৃদয়ের সঙ্গে। ডেইলি বাংলাদেশকে তিনি জানান, প্রত্যাশার চাইতে ভালো রেজাল্ট দেখে আমি আমার পরিবার সবাই খুশি। স্বপ্ন ছিল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার, সেটা পূর্ণ হতে যাচ্ছে, একটা অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করছে।

এতগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কোথায় ভর্তি হতে চান এমন প্রশ্নের উত্তরে হৃদয় বলেন, আমি ঢাবিতে আইন বিভাগে পড়তে চায়। আব্বু আম্মুও এক্ষেত্রে আগ্রহী। ভবিষ্যতে দেশের মধ্যে ‘ল ফার্ম’ করার স্বপ্ন দেখেন হৃদয়। এছাড়াও নিজের জায়গা থেকে দেশ, মা, মাটি ও মানুষের জন্য কাজ করার ইচ্ছে তার।

সাফল্যের পেছনে অনুপ্রেরণা কার থেকে পেলেন? সবার আগে অনুপ্রেরণা আমার আব্বু-আম্মু। তাদের সাপোর্ট নিয়েই আমার পথচলা। তারপর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু বড় ভাইয়েরা আমাকে নানা বিষয়ে সহযোগিতা করছেন, তাদের কথা স্মরণ থাকবে সবসময়।

মনিরুল ইসলাম হৃদয়ের এমন সাফল্যে উচ্ছ্বসিত  কন্ঠে তার বন্ধু পাপ্পু নাথ ডেইলি  বাংলাদেশকে বলেন, আমার হৃদয় সম্পর্কে বলতে গেলে শেষ হবে না। আমরা কোচিং এ একই ব্যাচে পড়ালেখা করতাম এমনকি আমরা দুইজনই একসঙ্গে একই জায়গায় বসতাম। অনেক মেধাবী সে, ওকে আমি ফলো করার ট্রাই করতাম বরাবরই। দুঃখজনক ওর মতন হয়ে উঠতে পারি নাই। চবি ছাড়াও সে আরো  কয়েকটা বিদ্যালয়ে মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ  হয়েছে। আমার আর্শিবাদ থাকবে যে ও যেন আরো অনপক সাফল্য অর্জন করতে পারে ভগবানের কাছে এটাই চাওয়া।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম