Alexa চন্ডীদাসে বাংলাদেশের লাভ কি? 

ঢাকা, শনিবার   ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ২২ ১৪২৬,   ০৯ রবিউস সানি ১৪৪১

চন্ডীদাসে বাংলাদেশের লাভ কি? 

আসাদুজ্জামান লিটন ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৫৯ ১৫ অক্টোবর ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) এর সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সৌরভ গাঙ্গুলি। এই খবরে আনন্দের জোয়ার বইছে কলকাতায়। 

ওপার বাংলার সঙ্গে এপার বাংলাতেও লেগেছে আনন্দের ছোঁয়া। বাঙালিবাবু গাঙ্গুলির সভাপতি হওয়ায় উদ্বেলিত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি)। আনন্দের প্রধান কারণ বাড়তি সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা। কিন্তু আসলেই কি দাদা’র কাছ থেকে বেশি সুবিধা পাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট? 

‘কলকাতার দাদা’ সৌরভ গাঙ্গুলি অনানুষ্ঠানিকভাবে বিসিসিআই এর সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস বলেন, বিসিসিআইয়ের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভালো। যারা এখন দায়িত্বে আছে তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভালো আছে, আগেও ছিল। সৌরভ গাঙ্গুলি একজন বাঙালি, সাবেক ক্রিকেটার। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই বাড়তি একটা সুবিধা আমরা পাব। 

কিন্তু এখানেই থেকে যায় প্রশ্ন। সৌরভ গাঙ্গুলি বরাবরই নিজেদের স্বার্থের ব্যাপারে দারুণ সচেতন। দায়িত্ব পেয়ে নিজের অবস্থান আরো স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন, ঘরোয়া ক্রিকেটারদের আর্থিক সংগতির দিকে নজর দেওয়াই হবে তার প্রথম কাজ। তিনি নিজে ছিলেন ক্রিকেটার। ফলে ক্রিকেটারদের স্বার্থটাই তিনি সবচেয়ে বেশি দেখবেন। 

এছাড়া বিশ্ব ক্রিকেটে ভারতের দৃঢ় অবস্থান আরো সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে কাজ করবেন বলে জানান তিনি। এখানেই বোঝা যাচ্ছে নিজ দেশকে নিয়েই বেশি ভাবছেন সৌরভ চন্ডীদাস গাঙ্গুলি। 

এছাড়া বাংলাদেশকে নিয়ে এর আগে বিভিন্ন নেতিবাচক মন্তব্যের জন্য খবরের শিরোনাম হয়েছেন গাঙ্গুলি। টাইগারদের ছোট করে তুলে ধরাই ছিল সেসব মন্তব্যের সারমর্ম। এমন কেউ আসলেই বাংলাদেশের প্রতি কতটা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবেন সেখানেও প্রশ্ন থেকে যায়। 

২০০০ সালে বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টে ভারতকে নেতৃত্বে দেন গাঙ্গুলি। প্রতিবেশী দেশ হলেও গত ১৯ বছরে মাত্র দুইবার নিজ দেশে বাংলাদেশ জাতীয় দলকে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে আতিথ্য দিয়েছে ভারত। বাংলাদেশের সঙ্গে সিরিজ আয়োজনে আর্থিক ভাবে লাভবান হয়না তারা, এটাই তাদের প্রধান অজুহাত ছিল। 

এমন কিছু সত্যি হলে গাঙ্গুলিও বাংলাদেশের সঙ্গে সিরিজ আয়োজনে আগ্রহী হবেন না, এটাই স্বাভাবিক। কারণ, নিজ দেশের লাভের কথাই তিনি আগে ভেবে থাকবেন বলে জানিয়েছেন। 

তাই গাঙ্গুলির বিসিসিআই সভাপতিত্বে বাংলাদেশে আসলেই কোন লাভ আছে কিনা সেটি বোঝা যাবে গাঙ্গুলির ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ডে। তার আগে নিজেদের সুবিধার কথা আশা না করাই ভালো বিসিবির। 

উল্লেখ্য, জগমোহন ডালমিয়ার মৃত্যুর পর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের (সিএবি) সভাপতি হন ভারতের এই সাবেক অধিনায়ক। বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনে নিজের কার্যকারিতা দেখিয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিসিআই এর সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। 

আগামী ২৩ অক্টোবর এজিএম হবে বিসিসিআইয়ের। সেখানেই সম্পন্ন হবে চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিকতা। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে বিসিসিআই-এর চেয়ারে বসবেন সৌরভ গাঙ্গুলি। 

 
 

ডেইলি বাংলাদেশ/সালি