.ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৬ মার্চ ২০১৯,   চৈত্র ১২ ১৪২৫,   ১৯ রজব ১৪৪০

চাঁদা চেয়ে হুমকি-ধমকি!

ইদ্রিস আলম

 প্রকাশিত: ২১:২৪ ৯ নভেম্বর ২০১৮   আপডেট: ২১:৪৮ ৯ নভেম্বর ২০১৮

ফরহাদকে হুমকি দেয়া স্ক্রিন শট

ফরহাদকে হুমকি দেয়া স্ক্রিন শট

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে চরম বিপদে পড়েছেন প্রবাসী ফরহাদ বিশ্বাস। শুধু নিজেই বিপদে পড়েননি। হুমকির মুখে ফেলেছেন দেশে থাকা নিজের বৃদ্ধ বাবা-মাকেও। 

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার লাউজানা গ্রামের কৃষক পরিবারে ঘটছে এমন মানসিক নির্যাতন। অভাবের সংসারে হাল ধরতে দুই লাখ টাকা ঋণ করে দেড় মাস আগে মালয়েশিয়া পাড়ি জমান ফরহাদ। দিন পনেরো আগে চলমান রাজনৈতিক পেক্ষাপট ঘিরে বিএনপিকে নিয়ে একটি স্ট্যাটাস পোস্ট করেন নিজ ফেসবুক ওয়ালে। আর তাতেই দেখা দেয় বিপত্তি। 

ফরহাদের পোস্টটি চোখে পড়ে ফরিদপুর সদর থানার পুলিশের কনস্টেবল শরীফুল ইসলামের। অতি উৎসাহি শরীফুল ক্ষমতার দাপুট দেখাতে ফরহাদ বিশ্বাসের ম্যাসেঞ্জারে দেয় বিভিন্ন হুমকি-ধমকি। এক সময় ফরহাদের বুঝতে বাকী থাকে না, চাঁদা চায় শরীফুল।মালয়েশিয়ার পরিবেশ পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই দেশ থেকে পুলিশের চাঁদার ভয়ে একুশ বছরের যুবক ফরহাদ এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। 

ফরহাদ বিশ্বাস বলেন, কিছুদিন আগে আমার ফেসবুকে বিএনপি নিয়ে একটি স্ট্যাটাস পোস্ট করি। পুলিশ কনস্টেবল শরিফুল পোস্টটি দেখে আমাকে ফোন দেয়। সে ফোনে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও চাঁদা দাবি করে। বাবার বিরুদ্ধে মামলা ও আটকের হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে শরীফুল বলে, আপাতত ২০ হাজার টাকা পাঠালে, বিষয়টি সমাধান করে দেবে।

কনস্টেবল শরীফ আরো বলেন, তুই মালয়েশিয়ার যেখানেই থাকিস না কেন, সেখান থেকেই পুলিশ তোকে ধরে আনবে। টাকা না দিলে বাবাকে থানায় ধরে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেয়।

ফরহাদ আরো জানান, একপর্যায়ে আমি ওই পুলিশ কনস্টেবলকে বলি- ভাই আমি মাত্র কয়েকদিন হলো এখানে এসেছি। বাংলাদেশি টাকায় ২০ হাজার টাকা বেতন পাই। ঋণের টাকা শোধ করতে বাড়িতে ১৫ হাজার টাকা পাঠিয়েছি। আর আমার থাকা-খাওয়ার জন্য ৫ হাজার টাকা রেখেছি। এই মুহূর্তে ২০ হাজার টাকা দেয়ার মতো ক্ষমতা আমার নেই। 

প্রবাসী ফরহাদ আরো বলেন, এমনভাবে সে আমাকে ভয়ভীতি ও চাপ দিতে থাকে, এক সময় আমি বাধ্য হয়ে ২০ হাজার টাকা ধার করে প্রস্তুত রাখি তাকে পাঠাতে। পরে বিষয়টি বন্ধুদের জানালে, তারা টাকা পাঠাতে নিষেধ করে।

চাঁদা দাবির বিষয়ে কনস্টেবল শরীফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমার কাছে কিছু জিজ্ঞেস না করে, আপনি মাননীয় পুলিশ প্রধানকে (আইজিপি) ফোন দেন। আমি আপনার কাছে কিছু বলবো না, যেখানে জানাতে হয় সেখানেই জানাবো।

চাঁদা দাবির কথা অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমি ওই ছেলের কাছে চাঁদা দাবি করিনি। ওই ছেলে যদি এ কথা বলে থাকে, তাহলে শতভাগ নিশ্চিত থাকেন ওর সমস্যা হবে বলে ফের হুমকি দেন শরীফুল।

হুমকি-ধমকি দিয়েছেন কেন, জিজ্ঞাসা করলে কনস্টেবল শরীফ বলেন, ওই ছেলেই আমাকে হুমকি দিয়েছে, তাই আমিও হুমকি দিয়েছি। আর আপনি এই রকম হুমকি দিতে এসেন না। তাহলে একদম হাঁটু, কোমর ও পাজর ভেঙে দেবো। আপনার মতো সাংবাদিককে উচিত শিক্ষা দেবো।

এদিকে ফরিদপুর মডেল থানার ওসি এএফএম নাসিম এ বিষয়ে বলেন, শরিফুল ইসলাম ডিবির কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিল। সাংবাদিকের সঙ্গে অসদাচরণের কারণে তাকে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনে নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ হলে, তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

এ ব্যাপারে ফরিদপুরের এসপি জাকির হোসেন বলেন, চাঁদার অভিযোগ সত্য হলে, ভিকটিমের স্বজনদের পুলিশের কাছে অভিযোগ দিতে বলেন। শক্তভাবে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পুলিশ সদর দফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) সোহেল রানা বলেন, ওই কনস্টেবলের পক্ষে মালয়েশিয়া থেকে অভিযোগকারী ছেলেকে ধরে আনার কোনো সুযোগ আছে কি-না তা আমার জানা নেই। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে এসপি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেবেন। 

তিনি আরো বলেন, অভিযোগকারীরা এসপি’র পদক্ষেপে যদি সন্তুষ্ট না হন, তাহলে রেঞ্জ ডিআইজি বরাবর আবেদন করতে পারেন। রেঞ্জ ডিআইজির ব্যবস্থাতেও যদি সন্তুষ্ট না হন, তাহলে পুলিশের হেডকোয়ার্টারস বরাবর লিখিত অভিযোগ দিতে পারেন। 

অভিযোগের ধরন নিয়ে সোহেল রানা বলেন, পুলিশ কনস্টেবলের মতাদর্শ বা চিন্তাভাবনা ফেসবুকে পোস্টদাতার সঙ্গে এক নয়। এ জন্য হয়তো ফোন করে গালিগালাজ করেছে বা বকাঝকা করেছে। এর দায়ভার সমগ্র পুলিশ বাহিনীর নয়। 

তিনি আরো বলেন, একজন দারোগা আর একজন কনস্টেবলের দৌড় কতটুকু, এটা সবাই জানেন। তবে যদি কেউ অভিযোগ করতে চায়, করতে পারেন। তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর/এলকে