ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’ কি পারবে করোনাকে ধ্বংস করতে, বিজ্ঞানীদের মত কী?

ঢাকা, সোমবার   ০১ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৮ ১৪২৭,   ০৮ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’ কি পারবে করোনাকে ধ্বংস করতে, বিজ্ঞানীদের মত কী?

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৪১ ১৯ মে ২০২০   আপডেট: ১৭:৫৮ ১৯ মে ২০২০

ছবি: প্রতীকী

ছবি: প্রতীকী

মহামারি করোনা আতঙ্কের মধ্যেই ধেয়ে আসছে ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় আম্ফান। অনেকেই ভাবছেন, এই ঘূর্ণিঝড়ই বোধ হয় করোনাকে বশে আনবে! আসলেই কি তাই? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা এই বিষয়ে?

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর বায়ো মেডিকেল জেনোমেটিক্সের কর্মকর্তা বিজ্ঞানী পার্থপ্রতিম মজুমদার জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে কোভিড-১৯ ভাইরাসের সরাসরি সম্পর্ক নিয়ে এখনো বিজ্ঞানসম্মত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সম্পূর্ণ নতুন এই ভাইরাস সম্পর্কে জানতে বা বুঝতে আরো সময় লাগবে। তাই ঝড় হোক বা গরমে দেশ ঝলসে যাক এই ভাইরাসের দাপট কমার কোনো আশা আপাতত নেই।

তিনি আরো জানান, কোভিড-১৯ ভাইরাসটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে। এর ড্রপলেট হাঁচি, কাশির বা কথা বলার সময় এক জনের থেকে অন্যের শরীরে প্রবেশ করে। তাই ঘূর্ণিঝড়ের সময় আশ্রয়কেন্দ্রে যারা অবস্থান করবে তাদের মধ্যে এই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। 

বৃষ্টি কিংবা তাপমাত্রা বাড়া-কমায় কোভিড-১৯ ভাইরাসকে আটকানো যায় না বলে জানিয়েছেন মোহালির ইসার (আইআইএসইআর)-এর হিউম্যান প্যাথোজেনিক ভাইরাসের সংক্রমণজনিত অসুখের গবেষক ইন্দ্রনীল বন্দ্যোপাধ্যায়। তার মতে, ঘূর্ণিঝড়ের সময়ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চললে রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। 

ঝড়বৃষ্টি হলেই যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাবে তা নয়। তবে এই সময় শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা ও ভিড় এড়িয়ে চলার নিয়ম মানতেই হবে। ঝড়ের জন্য অনেক মানুষকে নির্দিষ্ট জায়গায় সরিয়ে আনা হলে উদ্ধারকারীদের এই ব্যাপারটার উপর গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ কোভিড-১৯ ভাইরাস অত্যন্ত ছোঁয়াচে, ঝড়বৃষ্টি বা কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে এর সংক্রমণ ক্ষমতা কমার সম্ভাবনা নেই। 

তাই দুর্যোগের মোকাবিলা করার সময় কোভিড-১৯ এর মহামারির কথা মাথায় রেখেই করা উচিত বলে মনে করেন গবেষক ইন্দ্রনীল। ঘূর্ণিঝড় উদ্ধারকেন্দ্রে প্রত্যেককে যথাযথ মাস্ক পরে থাকতে হবে। অসুস্থ মানুষদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা উচিত। নইলে করোনার প্রকোপ আরো বেড়ে যেতে পারে।  

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস