Alexa ঘুরে এলাম দেশের সবচেয়ে বড় আমের বাজার

ঢাকা, শনিবার   ২০ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৫ ১৪২৬,   ১৬ জ্বিলকদ ১৪৪০

ঘুরে এলাম দেশের সবচেয়ে বড় আমের বাজার

মেহেদি হাসান গালিব ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:৩৩ ২৭ জুন ২০১৯  

ছবি : তুষার চৌধুরী

ছবি : তুষার চৌধুরী

রাজশাহীতে সব সময় গরম একটু বেশিই থাকে। কথা আছে- ‌‘গরমে আম পাকে’! ‘রাজশাহী’ আর ‘আম’—দুটো শব্দই যেন পরিপূর্ণকারী। কারণ স্বকীয়তার কথা বললে রাজশাহীর যে জিনিসটির নাম সবার প্রথমেই মনে পড়ে, তা হল আম। আমের সময় আসলেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবরা যোগাযোগ করতে শুরু করেন রাজশাহীবাসীর সঙ্গে। চাওয়া শুধু একটাই- এখানকার বিখ্যাত আম। অতিথিপরায়ণ রাজশাহীবাসীও বিরক্ত না হয়ে ঝুড়ি ঝুড়ি আম পাঠাতে থাকেন বিভিন্ন অঞ্চলে!

নিজের বাগান না থাকলেও বাজার থেকে কিনে পাঠান। রাজশাহীর আমের বাজারের কথা উঠলে প্রথমেই চলে আসে ‘বানেশ্বর আম বাজার’ এর কথা। এই বাজারের অবস্থায় পুঠিয়ায়। সেখানে গেলে যেন গরম আরো বেড়ে যায়! তবে খানিকটা স্বস্তিও আছে দুই পাশের কড়ইগাছগুলোর ছায়ায়। গাছগুলোর নিচে গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে আছে শতাধিক আমবোঝাই ভ্যানগাড়ি। পাশে আরেকটি ছোট মাঠ। সেটিও আমের ভ্যানে ভরা। মাঠ পেরিয়ে ওপরে উঠতেই রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক। এর দুই পাশেও রয়েছে গাছের ছায়া। আর ছায়ায় ছায়ায় মহাসড়কের দুই পাশে যত দূর চোখ যায় শুধু আম আর আম। আম বোঝাই কয়েক’শ ভ্যান নিয়ে অপেক্ষমাণ বিক্রেতা আর পাইকারদের ভিড়ে এক জমজমাট হাট। সারাদেশের মানুষ তাই এক নামেই চেনে ‘বানেশ্বরের আমের হাট’।

চলছে আম মোড়কীকরণের কাজ। ছবি : লেখক

রাজশাহীতে বছর দুয়েক ধরে বসবাস করলেও বানেশ্বরে আম বাজার দেখা হয়ে ওঠেনি। তবে এবার আর ব্যস্ততার অজুহাত নয়- আমের মুকুল গাছে থাকতেই সিদ্ধান্ত নিলাম ঘুরে আসবো। তাই বেছে নিলাম গত শুক্রবারের সকালকে। চার বন্ধু তালাইমারি থেকে লেগুনায় করে রওনা দিলাম বানেশ্বরের উদ্দেশ্যে। বানেশ্বর পৌঁছোতে আমাদের সময় লাগলো প্রায় ২৫ মিনিটের মতো। বানেশ্বরের একটি হোটেলে সকালের নাস্তা সেরে আমরা ঢুকে পড়লাম আম বাজারে।

ঘড়ির কাঁটা তখন নয়টার ঘরে। বাজার তখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি। তবে যারা ইতিমধ্যে আম নিয়ে চলে এসেছে তারাও বসে নেই। বাজার জুড়ে যেন চলছে আমকে কেন্দ্র করে এক উৎসব। কোথাও আম বিক্রি হচ্ছে, কোথাও বা ক্রেতা দোকানির সঙ্গে দামাদামি করছেন। দামাদামির এক পর্যায়ে ক্রেতার মন নরম করতে দোকানি একটু কৌশল করে একটা মিষ্টি আম কেটে খাইয়ে দিচ্ছেন ক্রেতাকে! কোথাও বা আবার আম প্যাকেটিং এ ব্যস্ত আম চাষিরা- এই আমগুলো পাড়ি দেবে কয়েশ কিলোমিটার পথ। তবে সময় যত গড়াতে লাগলো, বাজার যেন ততই জমজমাট হতে লাগলো। রাজশাহীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্যানে করে আসতে লাগলো বিভিন্ন মুখরোচক আম। সেই ভ্যানে চেপেই বিক্রেতারা ক্রেতাদের ডাকছেন, আম বিক্রি করছেন। এরপর সব আম বিক্রি হয়ে গেলে আবার সেই ভ্যানে করেই ফিরে যাচ্ছেন হাসিমুখে।

আম পাহারা দিচ্ছে এক শিশু। ছবি : লেখক

বাজার ঘুরে দেখার পাশাপাশি কথা হলো কয়েকজন আম চাষির সঙ্গে। বরাবরের মত এবারো জনপ্রিয়তার শীর্ষে ল্যাংড়া, আম্রপালি ও ক্ষিরশেপাতি। আম্রপালি ও ক্ষিরশেপাতি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫০ টাকা দরে। তবে সময় ও পরিমাণের ভিন্নতায় কমবেশি হচ্ছে সে দাম। এবছর ঝড়ের কারণে ফলন নষ্ট হওয়ায় তার প্রভাব পড়েছে আমের দামেও। ক্ষেত্রবিশেষে কিছু কিছু আমের দাম বেড়ে গিয়েছে গতবারের চেয়ে দ্বিগুণ। তবে দাম বাড়ার পরেও থেমে নেই মানুষের আম খাওয়া। বরং আগেরবারের তুলনায় বেচাবিক্রি এবার বেশিই বলে জানালেন তারা।

সুর্য তখনো পুরোপুরি মাথার উপরে আসেনি। কিন্তু ততক্ষণে সরগরম হয়ে গিয়েছে পুরো বাজার। বেচা-বিক্রির ফাঁকে ফাঁকে আম চাষিরাও আমের খোসা ছাড়িয়ে কামড় বসাচ্ছেন রসালো আমে। আর চোখে চোখ পড়তেই দূর থেকে হাত উঁচিয়ে বলছেন, 'খালি আমের ছবি তুললেই হবে বাজান? আমাদেরও ছবি তোলেন।'

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে