ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ছাত্রীদের ধর্ষণ করাই তার নেশা 

ঢাকা, শুক্রবার   ০৫ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ২৩ ১৪২৭,   ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ছাত্রীদের ধর্ষণ করাই তার নেশা 

নওগাঁ প্রতিনিধি   ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:১৩ ২৮ মার্চ ২০২০   আপডেট: ২১:২৫ ২৮ মার্চ ২০২০

অভিযুক্ত শিক্ষক রেজাউল হক

অভিযুক্ত শিক্ষক রেজাউল হক

নওগাঁর মান্দায় জ্ঞান বুদ্ধি বাড়ার প্রলোভন দেখিয়ে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ওই শিক্ষক শুক্রবার থেকে পলাতক রয়েছেন।   

অভিযুক্ত রেজাউল হক মান্দা উপজেলার কাঁশোপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তার সহযোগী হিসেবে ছিলেন সুইট নামের আরেক সহকারি শিক্ষক।

২৫ মার্চ বেলা ১১টার দিকে ১০ম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে সাজেশন দেয়ার কথা বলে বিদ্যালয়ে ডেকে নেয় অভিযুক্ত শিক্ষক। এরপর মেধা এবং জ্ঞান বৃদ্ধির কথা বলে কৌশলে যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট ও ঘুমের ওষুধ খাওয়ান তিনি। 

বিদ্যালয়ের নতুন ভবনে কাজ করা কিছু শ্রমিক আপত্তিকর অবস্থায় তাদের দেখতে পায়। স্থানীয়রা স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানালে ২৭ মার্চ ম্যানেজিং কমিটির জরুরি সভায়  রেজাউল হককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।  

প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিক আব্দুল মতিন বলেন, শিক্ষক রেজাউল প্রথমে ওই ছাত্রীকে একটি শ্রেণী কক্ষে নিয়ে যায়। সন্দেহ হলে আমি এগিয়ে যায়। তাদেরকে সেখানে  অপ্রীতিকর অবস্থায় দেখতে পাই। আরো দুইজন শিক্ষককে বাইরে পাহারা দিতে দেখো গেছে।   

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল কুদ্দুস বলেন, শিক্ষক রেজাউল হক এরকম কাজ একাধিকবার করেছে। এর আগেও এক ছাত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখা গেলে বিয়ের মাধ্যমে মিমাংসা করলেও তার অপকর্ম থেমে যায়নি। বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি ও প্রধান শিক্ষক এক জরুরী সভায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।   

ছাত্রীর বাবা বলেন, আমি ওই লম্পট শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।  

অভিযুক্ত শিক্ষক রেজাউল হক বলেন, ওই ছাত্রীর সঙ্গে আমার কিছুই হয়নি। আমার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ বানোয়াট তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মকসেদ আলী প্রামানিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে  বলেন, রেজাউল তার অপরাধের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।  

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আল-মামনুর রশিদ বলেন, রেজাউলের  বিষয়ে পরবর্তী সভায় চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

স্থানীয়রা জানতে চান লম্পট শিক্ষক রেজাউল বার বার অপকর্ম করে কীভাবে পার পেয়ে যাচ্ছেন। ওই শিক্ষকের চিরস্থায়ী বিদায় এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান তারা।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ/এআর