ঘন্টায় ৭২৭২ কিলোমিটার গতিবেগ!

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৭ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ১৫ ১৪২৬,   ২২ শাওয়াল ১৪৪০

ঘন্টায় ৭২৭২ কিলোমিটার গতিবেগ!

খালিদ মাহমুদ খান

 প্রকাশিত: ১২:২৩ ১২ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১২:২৩ ১২ জানুয়ারি ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবী গতিশীল। চারপাশের সবকিছুরই গতিবেগ দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। ইন্টারনেট থেকে শুরু করে গাড়ি, ট্রেন, বিমান সবকিছুই স্পিডের নতুন রেকর্ড গড়ছে। আজ আমরা জানবো পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুততম কয়েকটি যানবাহন, প্রাণী সম্পর্কে যেগুলো নিজ নিজ ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ গতিশীল বা দ্রুততম।

দ্য ফাস্টেস্ট ট্রেন

ট্রেন হলো যানবাহনের মধ্যে সবচেয়ে পুরোনো এবং সংরক্ষিত মাধ্যম। উন্নত প্রযুক্তির সমন্বয়ে দিন দিন এই যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এবং পরিবর্ধন সাধন হচ্ছে। বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুততম ট্রেন হলো জাপানের ম্যাগলেফট ট্রেন। এই বিশেষ ট্রেনটিতে চুম্বক ব্যবহার করা হয়েছে এবং অবাক করার মতো ব্যাপার হলো এই ট্রেনটিতে কোনো চাকা ব্যবহার করা হয়নি। এই ট্রেনটি এক থেকে দশ মিলিমিটার উচ্চতা পর্যন্ত ভাসমান অবস্থায় চলে। এর গতিবেগ হলো ৩৭৪ মাইল বা ৬০১ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টায়।

দ্য ফাস্টেস্ট কার

হেনেসি ভেনাম জেটিই হলো পৃথিবীর দ্রুততম প্রোডাকশন কার। যেটির সর্বোচ্চ গতিবেগ হলো ২৭০ কিলোমিটার প্রতিঘন্টায় বা ৪৪৯ কিলোমিটার। তবে যদি নন প্রোডাকশন কারের কথা বলা হয় তাহলে ট্রাস্ট এসিসি নামক গাড়িটির কোনো তুলনা হয় না। এর গতির কথা বললে যে কারো চোখ কপালে উঠে যাবে। এর গতিবেগ শব্দের গতিবেগের চেয়েও বেশি এবং সংখ্যায় তা ৭৬৩ মাইল প্রতি ঘন্টায় ১ হাজার ২২৭ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টায়। এটির গতিবেগ যেকোনো এরোপ্লেন বা যাত্রীবাহী বিমানের চেয়েও বেশি। সাধারণত যেকোনো যাত্রীবাহী বিমানের গতিবেগ হয়  ৮৮৫ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টায়। এই গাড়িটিতে আরএএফএস এফ ফোর ফ্র্যান্টম ফাইটার জেটের দুটি ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে।

দ্য ফাস্টেস্ট এয়ারক্রাফট

যেকোনো জেট এয়ারক্রাফটই শব্দের দ্বিগুণ গতিবেগে যাত্রা করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার কাছে এসআর-৭১ এবং মিগ-২৫  এর মতো এমন কিছু জেট রয়েছে যেগুলো শব্দের তিনগুণ গতিবেগে যাত্রা করতে পারে। কিন্তু যদি পৃথিবীর দ্রুততম জেট বিমানের কথা বলা হয় তাহলে এক্স-১৫ বিমানটি হলো পৃথিবীর দ্রুততম এয়ারক্রাফট। এই মার্কিন হাইপারসনিক এয়ারক্রাফটটির গতিবেগ শব্দের গতিবেগের চেয়ে পাঁচগুণ বেশি। ১৯৬৭ সালে এই বিমানটি প্রতি ঘন্টায় ৪ হাজার ৫১৯ মাইল বা ৭ হাজার ২৭২ কিলোমিটার উড়ে রেকর্ড গড়ে।

দ্য ফাস্টেস্ট কম্পিউটার

ফাস্টেস্ট কম্পিউটারের কথা যদি বলা হয় তাহলে ২০০৬ সালে তৈরি মার্কিন সুপার কম্পিউটার রোড রানারের কথা বলতে হয়। এটিকে তৈরি করতে খরচ হয় ১৩৩ মিলিয়ন ডলার। কিন্তু বর্তমানে সবচেয়ে দ্রুততম কম্পিউটার হলো চীনের তিয়ানহে-২ বা মিল্কিওয়ে-২। এটি প্রতি সেকেন্ডে ১০ হাজার অপারেশন করতে পারে। এর স্টোরেজ ক্যাপাসিটি হলো ১২ দশমিক ৪ বেটাবাইট এবং র‌্যাম হলো ১ দশমিক ৩ বেটাবাইট। ১ বেটাবাইটের অর্থ হলো এক হাজার টেরাবাইট। ২০১৯ সালে জাপানে নির্মিত হতে চলেছে ১৭৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি সুপার কম্পিউটার যা চীনের সুপার কম্পিউটারের চেয়েও দ্রুততম হবে।

দ্য ফাস্টেস্ট এলিভেটর

বিশ্বের দ্রুততম এলিভেটর বা লিফটের প্রসঙ্গ আসলেই পৃথিবীর উচ্চতম টাওয়ারগুলোর কথা মনে পড়ে নিশ্চয়ই! যেমন- বুর্জ খলিফা, তাইপেই ১০১ ইত্যাদি। চীনের নবনির্মিত সাংহাই টাওয়ারে ব্যবহৃত এলিভেটর হলো বর্তমানে বিশ্বের দ্রুততম এলিভেটর। মিতসুবিশি ইলেকট্রিক কোম্পানি এর ডিজাইন করেছে। এই এলিভেটরটির গতিবেগ হলো ৪০ মাইল প্রতি ঘন্টায় যেটি কিলোমিটারে ৬৪ কিলোমিটারের সমান। এই এলিভেটরের সাহায্যে বেসফ্লোর থেকে ১১৯ তম ফ্লোরে পৌঁছাতে সময় লাগে মাত্র ৫৫ সেকেন্ড।

দ্য ফাস্টেস্ট ফিশ

জলের মধ্যে মাছ খুবই দ্রুতগতিতে চলাফেরা করতে পারে। কিন্তু মাছের মধ্যে শেলফিশ সবচেয়ে দ্রুতগতিতে চলাফেরা করতে পারে। এটির গতিবেগ হলো ৭০ মাইল প্রতি ঘন্টায় যেটি কিলোমিটারে ১১২ কিলোমিটার যা চিতাবাঘের গতিবেগের সমান।

দ্য ফাস্টেস্ট হিউম্যান

পৃথিবীর দ্রুততম মানব মূলত ১০০ মিটার রেসের মাধ্যমে নির্বাচিত করা হয়। প্রতিবছর মানুষের গতিবেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে  এবং নতুন নতুন রেকর্ড তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে পৃথিবীর দ্রুততম মানব হলেন জ্যামাইকান অ্যাথলেট উসাইন বোল্ট যিনি ২০০৯ সালে ১০০ মিটার রেস মাত্র ৯ দশমিক ৫৮ সেকেন্ডে শেষ করেন। অন্যদিকে, দ্রুততম মানবী হচ্ছেন ফ্লোরেন্স গ্রিফাথ জয়নার, যার টাইমিং ছিলো ১০ দশমিক ৪৯ সেকেন্ড। প্রতি ঘন্টায় হিসেবে করলে বোল্টের স্পিড ছিলো ৩০ মাইল বা ৪৮ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টায়।

দ্য ফাস্টেস্ট এনিম্যাল

পশুদের মধ্যে চিতাবাঘ হলো সবচেয়ে দ্রুততম কিন্তু প্রাণীজগতে পেরিগ্রিন ফ্যালকন নামের পাখিটি হলো সবচেয়ে দ্রুততম। এ পাখিটি ঘণ্টায় সাধারণত ৬০ মাইল বেগে উড়ে কিন্তু শিকার ধরার সময় এর গতিবেগ বেড়ে দাঁড়ায় ঘন্টায় ২৪০ মাইল। অন্যদিকে, চিতার শিকার ধরার সময় গতিবেগ হয় প্রতি ঘন্টায় ৭০ মাইল।

দ্য ফাস্টেস্ট রোলার কোস্টার

রোলার কোস্টার রাইড দেখলেই অনেকেই ভয় পেয়ে থাকেন! রোলার কোস্টারের উচ্চতা, আকার এবং গতিবেগ যত বেশি হয় তত বেশি ভয়ানক হয় প্রত্যেকটি রাইড। যদি দ্রুততম রোলার কোস্টারের কথা বলা হয় তাহলে আবুধাবিতে অবস্থিত ফেরারি ওয়ার্ল্ডের ফর্মূলা রোশা নামক রোলার কোস্টারের কথা সকলের আগে আসে। এই রোলার কোস্টারটির সর্বোচ্চ গতিবেগ ১৪৯ মাইল প্রতি ঘন্টায় যেটি কিলোমিটারে দাঁড়ায় ৩৩৯ কিলোমিটারের সমান।

দ্য ফাস্টেস্ট সাবমেরিন 

সাবমেরিন বা ডুবোজাহাজ ২০ থেকে ৩০ মাইল বেগে চলতে পারে কিন্তু ১৯৬০ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন এস-১৬২ নামে একটি নিউক্লিয়ার পাওয়ার সাবমেরিন তৈরি করে যেটি প্রতি ঘন্টায় ৫১ মাইল বেগে চলে বিশ্বরেকর্ড গড়ে যেটি এখন পর্যন্ত অক্ষুণ্ণ রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস