Alexa গ্রামীণফোন-রবির টুজি ও থ্রিজি লাইসেন্স বাতিলের নোটিশ

ঢাকা, শনিবার   ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৭ ১৪২৬,   ২২ মুহররম ১৪৪১

Akash

গ্রামীণফোন-রবির টুজি ও থ্রিজি লাইসেন্স বাতিলের নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৫৩ ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৯:০৫ ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা বকেয়া পাওনা আদায়ের তৃতীয় ধাপ হিসেবে মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবি’র টুজি ও থ্রিজি লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না— সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসি।

বৃহস্পতিবার এই দুই অপারেটরকে এ বিষয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিটিআরসির জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক (মিডিয়া উইং) জাকির হোসেন খান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন ২০০১-এর ৪৬(২) ধারা অনুযায়ী মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবির টুজি ও থ্রিজি লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে নোটিশ দেয়া হয়েছে। চিঠিতে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে তাদের কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, গ্রামীণফোনের কাছে সরকারের পাওনা রয়েছে ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা এবং রবি’র কাছে পাওনা ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা। যা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বিটিআরসির নিজস্ব পাওনা।

এর আগে, বকেয়া পরিশোধ না করায় গ্রামীণফোন ও রবির ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা কমিয়ে দেয় বিটিআরসি। গ্রামীণফোনের ৩০ শতাংশ ব্যান্ডউইথ আর রবির ১৫ শতাংশ ব্যান্ডউইথ কমানোর জন্য আইআইজি প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি পাঠায় সংস্থাটি। গত ৪ জুলাই এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়। এটি ছিল বকেয়া আদায়ের প্রথম ধাপ। এ নির্দেশনা কার্যকরের পর থেকে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন ধরনের ভোগান্তিতে পড়েন। ইন্টারনেটের গতি কমে যাওয়ার অভিযোগ আসে বিভিন্ন মহল থেকে। গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকেও গ্রাহক ভোগান্তি ও ইন্টারনেট সেবায় বিঘ্ন ঘটতে পারে বলেও জানানো হয়।

পরে গত ১৬ জুলাই সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। মন্ত্রী, বিটিআরসির চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে অপারেটর দু’টির ব্যান্ডউইথ কমিয়ে রাখার ঘোষণা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়। ওই বৈঠকের এক দিন পর ১৭ জুলাই বিটিআরসি সংবাদ সম্মেলন করে ব্যান্ডউইথ থেকে ব্লক তুলে নেয়ার ঘোষণা দেয়। তবে বকেয়া আদায় না হওয়া পর্যন্ত অপারেটর দু’টিকে কোনও এনওসি দেয়া হবে না বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। এনওসি অর্থাৎ নতুন কোনো গ্রাহক সেবা প্রদান বন্ধের ঘোষণা ছিল দ্বিতীয় ধাপ। বকেয়া আদায়ের তৃতীয় ধাপ হিসেবে কারণ দর্শানোর নোটিশের চিঠি দেয়া হয়েছে।

লাইসেন্স বাতিলের নোটিশ দেওয়ায় অপারেটর দুটির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছেন সংশ্লিষ্টরা। বহির্বিশ্ব ও দেশের পুঁজিবাজারেও এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করছিলেন তারা। লাইসেন্স বাতিলের নোটিশ ইস্যু হতে পারে এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের পুঁজিবাজারেও এর বিরূপ প্রভাব পড়তে দেখা গেছে।

এ বিষয়ে বিটিআরসি চেয়ারম্যান জহুরুল হক বলেন, চিঠিতে শুধু টুজি ও থ্রিজি লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর কথা বলা হয়েছে। ফোরজি লাইসেন্স বাতিলের কথা বলা হয়নি। কারণ ফোরজি’র এখনো অডিটই হয়নি। আর এসব পদক্ষেপ অডিট অপত্তির ওপর ভিত্তি করেই নেয়া হয়েছে।

একদিন আগে গতকাল বুধবার সাংবাদিকদের ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, এ দুই অপারেটরের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে এরই মধ্যে নোটিশ পাঠাতে বিটিআরসিকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করছি। না তারা এক টাকা দিয়েছে, না কানে তুলছে যে সরকারের কাছে তাদের দেনা আছে। তিনি বলেন, গা যেহেতু করছে না, আমরা তো জাতীয় অর্থ পানিতে ফেলে রাখতে পারি না। এক্ষেত্রে কোনো ছাড় দিতে পারি না। আমাদের দিক থেকে বিটিআরসিকে বলা হয়েছে চূড়ান্ত নোটিশ দেয়ার কথা।

উল্লেখ্য, ১৬ কোটি ৮২ হাজার নিবন্ধিত মোবাইল সিমের মধ্যে গ্রামীণফোনেরই ৭ কোটি ৪৭ লাখ গ্রাহক। আর রবির রয়েছে ৪ কোটি ৭৬ লাখ। এ হিসাবে মোট গ্রাহকের ৪৬.৪৯ শতাংশ গ্রামীণফোন এবং ২৯.৬৫ শতাংশ রবির গ্রাহক।

ডেইলি বাংলাদেশ/এস