Alexa গৌরী প্রসন্ন মজুমদারের ৩৩তম মৃত্যুবার্ষিকী

ঢাকা, সোমবার   ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৮ ১৪২৬,   ২৩ মুহররম ১৪৪১

Akash

গৌরী প্রসন্ন মজুমদারের ৩৩তম মৃত্যুবার্ষিকী

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:১৪ ২০ আগস্ট ২০১৯  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

অসংখ্য কালজয়ী গানের রচয়িতা গৌরী প্রসন্ন মজুমদারের ৩৩তম মৃত্যুবার্ষিকী মঙ্গলবার।

‘শোন একটি মুজিবরের থেকে লক্ষ মুজিবরের কন্ঠস্বরের ধ্বনি প্রতিধ্বনি’ অথবা ‘মাগো ভাবনা কেন, শত্রু এলে অস্ত্র হাতে ধরতে জানি’। মুক্তিযুদ্ধে উজ্জীবিত করা এমন গানসহ অনেক কালজয়ী গানের রচয়িতা তিনি।

১৯২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর পাবনার ফরিদপুরে জন্ম নেয়া বরেণ্য এই গীতিকবি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ১৯৮৬ সালের ২০ আগস্ট কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তাকে (মরণোত্তর) ২০১২ সালে ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’ দেয়া হয়।

পাবনার ফরিদপুর উপজেলার গোপালনগরে এই গীতিকবির পৈতৃক ভিটায় সবটুকু স্মৃতি চিহ্নই ধ্বংস হয়ে গেছে। বরেণ্য এই গীতিকবির স্মৃতি ধরে রাখতে পৈত্রিক ভিটায় সঙ্গীত একাডেমি গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় নাগরিক সমাজ।

গোপালনগরের উদ্ভিদবিদ গিরিজা প্রসাদ মজুমদারের ছেলে গৌরী প্রসন্ন শৈশবে কলকাতায় চলে যান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে ফিরে এসে ভর্তি হন পাবনার এডওয়ার্ড কলেজে। ১৯৫১ সালে ভর্তি হন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখান থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এমএ পাশ করেন। পরে আবার বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। দেশবিভাগের পর ১৯৬৫ সালে সপরিবারে চলে যান ওপার বাংলায়।

সূত্র বলছে, ১৯৭২ সালে একবার নিজের পৈত্রিক ভিটা দেখতে এসেছিলেন গৌরি প্রসন্ন। সে সময় ছোটবেলার প্রিয় বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছিলেন।

ফরিদপুরের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আশুতোষ কর্মকারও তার স্মরণে ফরিদপুরে স্মৃতি সংগ্রহশালা বা সঙ্গীত একাডেমি গড়ে তোলার দাবি জানান।

ফরিদপুর বনমালী ললিতকলা একাডেমির সভাপতি আলী আশরাফুল কবির বলেন, আমরা তার নামে ফরিদপুরে একটি সাংস্কৃতিক একাডেমি গড়ে তুলতে চাই। যে সংগঠনের কাজ হবে গৌরি প্রসন্ন মজুমদারকে বাংলাদেশে বাঁচিয়ে রাখা, তার স্মৃতি রক্ষার্থে কাজ করা। সে সঙ্গে আগামীতে তার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী পালনের মাধ্যমে তাকে স্মরণ করবো আমরা।

ফরিদপুর পৌর মেয়র খ ম কামরুজ্জামান মাজেদ বলেন, ফরিদপুর পৌরসভার একটি সড়ক গৌরি প্রসন্ন মজুমদারের নামে করবো। যাতে তার নাম সবার মাঝে ছড়িয়ে যায়।

ফরিদপুর উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাপ হোসেন গোলাম বলেন, জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ, সাংস্কৃতিককর্মী, প্রশাসন সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আমরা গৌরি প্রসন্ন মজুমদারের স্মরণে একটি ভাস্কর্য, অথবা একটি স্মৃতি পাঠাগার করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

পাবনার ডিসি কবির মাহমুদ বলেন, আমরা চেষ্টা করবো সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এখানে গৌরি প্রসন্ন মজুমদারের স্মৃতি ধরে রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য। তিনি পাবনার গর্ব, ইতিহাসের এই অংশটুকু আমাদের ধরে রাখার দরকার।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম