গোয়ালঘরে সেমাই তৈরি

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৩ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ৯ ১৪২৬,   ১৭ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

গোয়ালঘরে সেমাই তৈরি

শরীফুল ইসলাম, চাঁদপুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:৫১ ১৬ মে ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ঈদ সামনে রেখে চাঁদপুরের বিভিন্ন কারখানায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে সেমাই। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নোংরা পরিবেশে কাজ করছে কারিগররা। অস্বাস্থ্যকর ও মানহীন এসব সেমাই ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন জায়গায়।

ঘামে ভেজা শরীর ও কোনো প্রকার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ছাড়াই সেমাই তৈরি করছেন কারিগররা। ময়দার খামির তৈরির পাশাপাশি ফুকছে বিড়ি, সিগারেট। স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে কাজ করছে কারিগররা। গরম বেশি থাকায় শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে ঘাম বের হয়। যার অনেকটাই মিশছে সেমাই তৈরির ময়দার খামিরে।

গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন প্রাণী যেকোনো সময় ঢুকছে কারখানায়। নিম্নমানের ময়দা দিয়ে তৈরি করা এসব সেমাই ভাজা হচ্ছে দীর্ঘদিন ব্যবহৃত পাম ওয়েল দিয়ে। কোনো প্রকার ঢাকনা ছাড়াই রেখে দেয়া হচ্ছে খোলা স্থানে। তৈরি করা এসব সেমাই খেয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কায় রয়েছে মানুষ।

প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন কারখানায় তৈরি হচ্ছে প্রায় ৫০ মণ সেমাই। এসব সেমাই চরাঞ্চলসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ও পাশের কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, শরীয়তপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। ঈদ ঘনিয়ে আসায় চাহিদা বাড়ছে সেমাইর। ঈদের আগে আরো বাড়বে বলে জানান কারখানা মালিকরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুজন সেমাই তৈরির কারিগর জানান, সাধারণ সময়ের চেয়ে ঈদ ঘিরে সেমাইর চাহিদা বাড়ে কয়েকগুণ বেশি। বাড়তি চাহিদা পূরণে দিনরাত কাজ করতে হচ্ছে তাদের। সেমাই তৈরির পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হলেও তারা চেষ্টা করনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে কাজ করতে।

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কথা স্বীকার করে পুরান বাজারের পাঁচ তারা সেমাই কারখানার মালিক মনসুর মিজি ও মিম লাচ্ছা সেমাই কারখানার ম্যানেজার ইউসুফ তালুকদার বলেন, চেষ্টা করি মানসম্মতভাবে সেমাই তৈরি করতে। কিন্তু গরম বেশি পড়ায় কারিগররা হাত গ্লাভস, মুখের মাস্ক ব্যবহার করছে না।

তারা বলেন, একটি ছোট জায়গায় ১৫ থেকে ২০ জন শ্রমিক কাজ করলে কিছুটা ময়লা হবেই। তবে সেমাইর মান আরো ভালো করতে কাজ করব।

জেলা কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সাধারণ সম্পাদক মোশারেফ হোসেন বলেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেমাই তৈরি করা কোনোভাবেই উচিত নয়। ঈদ সামনে রেখে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বেশি মুনাফার লোভে নোংরা পরিবেশে মানহীন সেমাই তৈরি করে। মানহীন এসব সেমাই খেয়ে মানুষ উদরাময়সহ বিভিন্ন পেটের পীড়ায় ভুগছে। কঠোর হস্তে এসব কারখান বন্ধ করতে প্রশাসনের নিকট দাবি জানাই।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, রমজানের শুরু থেকেই দেশব্যাপী ভেজালবিরোধী অভিযান চলছে। চাঁদপুরেও ভেজালবিরোধী অভিযান চলছে। জেলার আট উপজেলার প্রত্যেকটিতে একটি টিম ও জেলা প্রশাসনের আরো দুটি টিমসহ মোট দশটি টিম প্রতিদিন ভেজালবিরোধী অভিযান ও বাজার মনিটরিং করছে। এরইমধ্যে অভিযোগ পেয়েছি কিছু কারখানায় নিম্নমানের উপাদান দিয়ে নোংরা পরিবেশে সেমাই তৈরি হচ্ছে। শিগগিরই এসব কারখানায় অভিযান চালাবো ও আইনি ব্যবস্থা নেব।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর

Best Electronics