.ঢাকা, বুধবার   ২০ মার্চ ২০১৯,   চৈত্র ৬ ১৪২৫,   ১৩ রজব ১৪৪০

গোড়াতেই ‘মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম’ প্রকল্পে গলদ

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:৪৮ ১৪ মার্চ ২০১৯   আপডেট: ২১:৪৯ ১৪ মার্চ ২০১৯

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

আইসিটি প্রকল্পের শিক্ষা উপকরণ সরাসরি কেনার উদ্যোগে একটি বিশেষ কোম্পানিকে সুবিধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।আর এই অভিযোগ করেছে ওই প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে শিক্ষা উপকরণ সরবরাহকারী কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

সরকারি কেনাকাটায় অনিয়ম বন্ধে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির (ডিটিএম) পরিবর্তে যথাসম্ভব উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি (ওটিএম) অনুসরণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। আর প্রকল্পের পরামর্শকও ওটিএম অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন। 

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, আইসিটির মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার প্রচলন প্রকল্প’-এর প্রথম পর্যায়ে প্রকল্প কর্মকর্তাদের অনৈতিক তৎপরতার কারণে ক্রয় প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। নানা অভিযোগের কারণে দায়িত্বরত প্রকল্প কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়। এরপরও প্রকল্প ও মন্ত্রণালয়ের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজসে সব ধরনের পণ্য ডিটিএম পদ্ধতিতে কেনার পায়তারা চলছে। দু-একটি প্রতিষ্ঠান ও কতিপয় অসাধু ব্যক্তির স্বার্থে নেয়া এই উদ্যোগ বাতিল করে ওটিএম পদ্ধতিতে কেনার মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য সংসদীয় কমিটির হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে,  মাল্টিমিডিয়া ক্লাশরুম স্থাপনের জন্য দেশের ৩ হাজার ৩৪০টি হাই স্কুলে একটি করে ‘আইসিটির মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার প্রচলন প্রকল্প’ গ্রহণ করা হয়েছে। এজন্য প্রত্যেক বিদ্যালয়ে একটি করে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, সাউন্ডবক্স, মডেম ইত্যাদি সরবরাহ করা হবে।

এই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৩৫৩ কোটি টাকা। এই প্রকল্পের কাজ ২০১৬ সালের জুলাইয়ে শুরু হয়। শেষ হওয়ার কথা রয়েছে ২০২০ সালের জুনে। এরই মধ্যে প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হয়েছে। এখন দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ চলছে। যেখানে শিক্ষা উপকরণ কেনায় ডিপিএম পদ্ধতি অনুসরণ অর্থাৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সরাসরি কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ওই সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করেছেন শিক্ষা উপকরণ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ওরিয়েন্টাল সার্ভিসেস এভি (বিডি) লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার মো. মুজিবুল হক। তিনি জানান, দেশে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, সাউ­বক্স, মডেম উৎপাদনের কোনো ব্যবস্থা নেই। সেক্ষেত্রে ডিটিএম পদ্ধতিতে ওই শিক্ষা উপকরণ কেনা হলে চায়না থেকে নন-ব্র্যান্ড পণ্য এনে স্টিকার লাগিয়ে দেয়া ছাড়া কোন পথ থাকবে না। এক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নিম্নমানের পণ্য পাবে এবং বিক্রয়োত্তর সেবা থেকে বঞ্চিত হবে। তাই অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী ওটিএম পদ্ধতিতে কেনার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে আইসিটি প্রকল্পের পিডি প্রফেসর ড. আবদুস সবুর খান বলেন, সরকার চাইলে যে কোন পণ্য সরাসরি ক্রয় করতে পারে। শিক্ষা উপকরণ কেনার ক্ষেত্রেও ডিপিপি অনুসরণ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

সংসদীয় কমিটির সদস্য এম এ মতিন বলেন, সংসদীয় কমিটি সরকারি কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কাজ করবে। এক্ষেত্রে লিখিত অভিযোগ নিয়ে কমিটির বৈঠকে আলোচনা হবে। সবার মতামতের ভিত্তিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, প্রকল্পের কার্যক্রম রেগগুলেটর, সুপারভাইজ ও মনিটর করার জন্য প্রকল্পের কার্যক্রম শুরুর সঙ্গে সঙ্গে তিনজন পরামর্শক নিয়োগের প্রকল্প দলিলে (ডিপিপি) তা নিয়োগ দেয়া হয়নি। পরে নানামুখী চাপের কারণে নিয়োগ দেয়া হলে তারা শিক্ষা উপকরণ কেনায় ওটিএম পদ্ধতি অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন। 

এদিকে  অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে কাজ নিয়ে অভিযোগ তদন্তে গঠিত কমিটি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের ওই কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্প পরিচালকসহ দুই উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা অধীনস্থ কর্মকর্তাদের মতামত না নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেনাকাটার নথি অনুমোদন করেছেন। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর