গোলাম মুস্তাফাকে হারানোর ১৭ বছর 

ঢাকা, সোমবার   ৩০ মার্চ ২০২০,   চৈত্র ১৭ ১৪২৬,   ০৬ শা'বান ১৪৪১

Akash

গোলাম মুস্তাফাকে হারানোর ১৭ বছর 

বিনোদন প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:০২ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

গোলাম মুস্তাফা

গোলাম মুস্তাফা

কিংবদন্তি অভিনেতা গোলাম মুস্তাফার ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০০৩ সালের আজকের এই দিনে চিরতরে বিদায় নেন তিনি। জননন্দিত এ অভিনেতা শারীরিকভাবে চলে গেছেন কিন্তু রেখে গেছেন তার কর্ম, চিন্তা-চেতনা, আদর্শ। শিল্প-সংস্কৃতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা যতোবেশী গোলাম মুস্তাফা’র মতো কৃতিমানদের অনুসরণ করবেন, ততবেশী সমৃদ্ধ হবে আমাদের শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গন।

গোলাম মুস্তাফা ২ মার্চ ১৯৩৪ সালে বরিশালের দপদপিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ছিলেন সাব-রেজিস্ট্রার। স্কুলজীবন শুরু হয় পিরোজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে। ম্যাট্রিক পাস করেন খুলনা জিলা স্কুল থেকে। স্কুল-কলেজ জীবনে নাটকে অভিনয় করা তার শখ ছিল। ঢাকায় আসেন পঞ্চাশের দশকের মধ্য সময়ে। সেই থেকে তিনি ঢাকায় স্থায়ী হয়ে যান।

১৯৪৫ সালে বরিশাল অশ্বিনী কুমার টাউন হল মঞ্চে বি.ডি হাবিবুল্লাহ রচিত ‘পল্লীমঙ্গল’ নাটকে তিনি প্রথম অভিনয় করেন। একই বছর বরিশাল জেলা স্কুলে ‘ফাতেহা ইয়াজ দাহাম’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘ঐ নাম’ কবিতাটি আবৃত্তি করেন এবং আবৃত্তিকার হিসেবে তিনি দর্শকদের নজর কাড়েন।

গোলাম মুস্তাফার প্রথম অভিনীত ছবি এহতেশাম পরিচালিত ‘রাজধানীর বুকে’। ১৯৬০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এ ছবিতে বখে যাওয়া জমিদারের ভূমিকায় প্রথম অভিনয় করেন গোলাম মুস্তফা। মূলত প্রথম ছবি থেকেই তিনি খলনায়ক চরিত্রের একক ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী অভিনেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। এছাড়া তিনি অনেক ছবিতে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন। প্রায় দুই শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন গোলাম মুস্তফা।

তিনি বাংলা ও উর্দু মিলে প্রায় তিনশ চলচ্চিত্রে নায়ক, সহনায়ক, খলনায়কসহ বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য উর্দু চলচ্চিত্র হচ্ছে ‘পীরিত না জানে রীত’, ‘কাজল’, ‘চোখাই’, ‘চান্দা’, ‘তালাশ’। বাংলা চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘আলিবাবার চল্লিশ চোর’, ‘রাজধানীর বুকে’, ‘নিজেকে হারায়ে খুঁজি’, ‘রক্তাক্ত বাংলা’, ‘রূপালী সৈকতে’, ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘তিতাস একটি নদীর নাম’, ‘সূর্যসংগ্রাম’, ‘পদ্মা নদীর মাঝি’, ‘এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী’, ‘শুভদা’, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘ধীরে বহে মেঘনা’, ‘চন্দ্রনাথ’, ‘দেবদাস’ ইত্যাদি।

গোলাম মুস্তাফা, ঢাকা টেলিভিশনের জন্মলগ্ন থেকে নাটকে অভিনয় শুরু করেন। প্রথমদিকে ১৯৬৫ থেকে ১৯৬৯ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি নাটকে নায়ক চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। তিনি তার সহকর্মী অভিনেত্রী হোসনে আরার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তার মেয়ে সুবর্ণা মুস্তাফা একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী।

গোলাম মুস্তাফা ১৯৮০ সালে ‘এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ পার্শ্বচরিত্র অভিনেতা এবং ১৯৮৬ সালে ‘শুভদা’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। অভিনয়শিল্পে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘একুশে পদক- ২০০১’ ভুষিত হন। তিনি বাচসাস চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ বিভিন্ন সংগঠন কর্তৃক অসংখ্য সম্মাননা লাভ করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনএ