ঢাকা, শুক্রবার   ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯,   ফাল্গুন ৯ ১৪২৫,   ১৬ জমাদিউস সানি ১৪৪০

গোলাপী-সাদা পদ্মের মিতালী

রাজীব আহম্মেদ রাজু, গোপালগঞ্জ

 প্রকাশিত: ১৪:৪৪ ১০ আগস্ট ২০১৮   আপডেট: ১৭:৩৩ ১০ আগস্ট ২০১৮

গোলাপী আর সাদা পদ্মের মিতালী

গোলাপী আর সাদা পদ্মের মিতালী

সবুজ ঘাসের মাঝে গোলাপী আর সাদা পদ্মের মিতালী। বিলের এমন নয়নাভিরাম দৃশ্য প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়িয়েছে বহুগুণ। প্রকৃতির এমন অসাধারণ দৃশ্য দেখতে হলে সৌন্দর্য পিপাসুদের যেতে হবে গোপালগঞ্জের সদর উপজেলার বলাকইড় পদ্ম বিলে। যে বিলের বিস্তৃর্ণ এলাকা জুড়ে গোলাপী, সাদা পদ্মের সমাহার। প্রতিদিনই এ সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসছে শত শত দর্শনার্থী। পর্যটকদের কাছে এই বিল যাতে আরো আকর্ষণীয় হয় তার ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস জেলা প্রশাসনের।

পদ্মকে বলা হয় জলজ ফুলের রানী। প্রাকৃতিক ভাবে জন্ম নেয়া পদ্ম ফুল সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে গোপালগঞ্জের বেশ কয়েকটি বিলের চিত্র। দূর থেকে দেখে মনে হবে এ যেন গোলাপী আর সাদা ফুলের বিছানা। তাইতো প্রতিদিনই এ বিলে শত শত সৌন্দর্য পিপাসুরা পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে বেড়াতে আসেন। এতে করে একই সঙ্গে নৌকা ভ্রমণ আর পদ্ম ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারছে দর্শনার্থীরা।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বলাকইড়, বনগ্রাম, খেলনা, কাজুলিয়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকাজুড়ে এসব পদ্ম ফুলের দেখা মেলে। বর্ষাকালে এ বিলের অধিকাংশ জমিতে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেয়া এসব পদ্মফুলের কারণে এখন এ বিলটি পদ্ম বিল নামেই পরিচিত হয়ে উঠেছে।

বর্ষা মৌসুমে এ বিলের চারিদিকে শুধু পদ্ম আর পদ্ম। বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে গোলাপী আর সাদা রং এর পদ্ম দেখলে মন ও জুড়িয়ে যায়। এমন অপরূপ দৃশ্য যেন ভ্রমণ পিপাষুদের হাতছানি দিচ্ছে। এ বিলের সৌন্দর্য ও পদ্ম দেখার জন্য প্রতিদিনই ছেলে-মেয়ে নিয়ে ভীড় করছেন দর্শনার্থীরা। তারা নৌকায় ঘুরে সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। স্থানীয়রাও ভ্রমণ পিপাসুদের সার্বিক সহযোগিতা করছেন। তবে, দর্শনার্থীদের অসচেতনতা আর খাম খেয়ালীপনার কারণে বিলের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে।

গোপালগঞ্জ জেলার চার পাশে রয়েছে অসংখ্য বিল। তার মধ্যে অন্যতম সদর উপজেলার বলাকইড় বিল। গোপালগঞ্জ জেলা সদর থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে এই বিলের অবস্থান। ১৯৮৮ সালের পর থেকে বর্ষাকালে এ বিলে পদ্ম ফুল ফুটতে শুরু করে। শুধু সৌন্দর্যই নয় বর্যা মৌসুমে কোন কাজ না থাকায় এ বিলে ঘুরতে আসা পর্যটকদের নৌকায় ঘুরিয়ে স্থানীয়দের আয়েরও একটা পথ হয়েছে। এছাড়াও বিলের পদ্ম ফুল ঢাকা, খুলনা, মাদারীপুরসহ বিভিন্ন জেলায় বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছে পাইকাররা।

পদ্ম বিলে ঘুরতে আসা সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজের শিক্ষার্থী রাতুল ইসলাম সাজ্জাত ও কাজী মেজবাহ আমীন বলেন, পদ্ম বিলের অপরুপ সৌন্দর্য অন্য যে কোন সৌন্দর্যকে হার মানাবে। যারা প্রকৃতিকে ভালবাসেন, তাদের কাছে এ বিল আকর্ষনীয়। তবে, দর্শনার্থীদের সচেতনতার অভাবে বিলের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। বিলের সৌন্দর্য রক্ষায় সকলকে সচেতন হওয়ার আহবান তাদের। আর এখানে যদি একটা পর্যটন স্পট করা হয়, তবে দর্শনার্থী আরো বাড়বে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, আমরা যারা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়া করছি। তারা অধিকাংশই গোপালগঞ্জের বাইরের জেলার। এখানকার পদ্ম বিল সত্যিই অনন্য অসাধারণ। প্রতিদিনই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে ঘুরতে আসে।

বিলে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে বেড়াতে আসা দর্শনার্থী সোহেল জোহা বলেন, আমি বিভিন্ন মানুষের মুখে এই বিলের গল্প শুনছি। কিন্তু এখানে না আসলে আসলে বুঝতেই পারতাম না। এই বিলটা কত সুন্দর। এই পদ্ম বিলের সৌন্দর্য সত্যিই আমাকে মুগ্ধ করেছে। পরিবার নিয়ে বেড়ানোর মত সুন্দর একটি স্থান এটি। কিন্তু এখানে কোন বিশ্রামাগার ও ওয়াশ রুম না থাকায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।

বলাকইড় গ্রামের নিউটন মোল্লা ও বনগ্রামের সাকিব মৃধা জানান, বছরের এই বর্ষা মৌসুমে এসব বিলে প্রচুর পরিমানে পদ্ম ফুল ফোটে। এখানে মূলত গোলাপী আর সাদা রং এর ফুলের দেখা মেলে। প্রতিদিনই দূর দূরান্ত থেকে শত শত পর্যটক পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে বেড়াতে আসে। বিশেষ ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকদের সমাগম আরো বেড়ে যায়। তবে, দর্শনার্থীরা পদ্ম ফুল ছিড়ে নষ্ট করার ফলে সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। এটা রোধ করা জরুরি।

বড়াকইড় বিলের মাঝি পলাশ সরদার, ইকবাল সরদার বলেন, এখানে প্রতিদিন অনেক মানুষ বেড়াতে আসে। তাদের আমরা নৌকায় ঘুরিয়ে পদ্ম বিল দেখাই। তাতে আমাদের ভালোই উপর্জন হয়।

ফুল বিক্রেতা মিঠুন বিশ্বাস বলেন, এখানের গোলাপী সাদা পদ্ম ফুল বিভিন্ন এলাকার পাইকারা কিনতে আসে। দামও ভালো। বছরের এই সময়ে আমাদের কাজ না থাকায় এই ফুল বিক্রি করেই সংসার চালাই।

গোপালগঞ্জ কৃষি অফিসের উপ-পরিচালক সমীর কুমার গোস্বামী জানান, প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেয়া পদ্মফুল দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করেছে। বছরের এই সময়ে এখানে প্রচুর পর্যটকের সমাগম হয়। এছাড়া এই পদ্ম পচে জৈব সার হয়। যেটা চাষাবাদের জন্য উপকারী।

গোপালগঞ্জের ডিসি মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকার বলেন, গোপালগঞ্জে তেমন কোনো পর্যটন স্পট না থাকলেও অতি সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে যে, গোপালগঞ্জের বলাকইড় বিলসহ বিভিন্ন বিলে পদ্মফুল পর্যটকদের আকর্ষণ করছে। এসব স্পটগুলোকে যাতে পর্যটক বান্ধব করা যায় তার জন্য পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করা হবে। এসব স্পট গুলোকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে জেলা প্রশাসন কাজ করবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম