Alexa গোপনে গোনাহ করা থেকে বাঁচার উপায় 

ঢাকা, রোববার   ১৭ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ২ ১৪২৬,   ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

গোপনে গোনাহ করা থেকে বাঁচার উপায় 

ধর্ম ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৩৮ ৬ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৮:৩৮ ৬ নভেম্বর ২০১৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

গোপনে গোনাহ অর্থাৎ যে ব্যক্তি প্রকাশ্যে নেক আমল করে, সৎকাজ করে এবং আল্লাহর সব বিধিবিধান মেনে চলে। কিন্তু গোপনে মানুষের আড়ালে গোনাহে লিপ্ত থাকে। এ প্রকারের গোনাহ খুবই মারাত্মক প্রভাব ফেলে। 

গোপনে গোনাহগার ব্যক্তি মূলত জেনে-বুঝে গোনাহে লিপ্ত হয়। ক্রমান্বয়ে সে তাতে অভ্যস্ত হয়ে যায়। এর থেকে আর বেরিয়ে আসতে পারে না। 

মানুষ যখন জেনে-বুঝে ইচ্ছাকৃতভাবে গোপনে গোনাহ করতে অভ্যস্ত হয়ে যায়, তখন অন্তর থেকে তাকওয়া তথা আল্লাহর ভয় বিদায় নিতে থাকে। অন্তর যখন তাকওয়াশূন্য হয়ে যায়, তখন অন্তর পাথরের মতো শক্ত হতে থাকে। তখন আর অন্তরে আল্লাহর ভয় জাগ্রত হয় না। 

মোনাজাতে চোখের পানি আসে না। এক পর্যায়ে তার কোনো আমলে আর মন বসে না। ইবাদত করতে ভালো লাগে না। 

কোরআন তেলাওয়াত আর আগের মতো মধুর মনে হয় না। ক্রমান্বয়ে সে ধ্বংস ও অধঃপতনের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। সে বাঁচতে চায়; কিন্তু বাঁচতে পারে না। অবস্থা তো কখনও এতটা ভয়ানক হয় যে, তার ঈমান পর্যন্ত বিনষ্ট হয়ে যায় এবং ঈমানহীন অবস্থায়ই তার মৃত্যু ঘটে। 

গোপন গোনাহ থেকে বাঁচতে কয়েকটি করণীয় বিষয় আর তা হলো-

সর্বদা এ কথা অন্তরে জাগ্রত রাখা যে, আল্লাহ আমাকে পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি আমাকে সর্বদাই দেখছেন। আমি যা করি, আমার প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহর সামনে। এ ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করা। 

আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর পর্যবেক্ষক।’ (সূরা নিসা : ১)।

বেশি বেশি আল্লাহর কাছে দোয়া করা, কান্নাকাটি করা। যেন আল্লাহ নাফরমানি ও সব গোনাহ থেকে হেফাজত করেন। শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে হেফাজত করেন। 

আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে আমার ব্যাপারে; বস্তুত আমি তো রয়েছি সন্নিকটেই। যারা প্রার্থনা করে, তাদের প্রার্থনা কবুল করি, যখন তারা আমার কাছে প্রার্থনা করে। কাজেই আমার হুকুম মান্য করা এবং আমার প্রতি নিঃসংশয়ে বিশ্বাস করা তাদের একান্ত কর্তব্য, যাতে তারা সৎপথে আসতে পারে।’(সূরা বাকারা : ১৮৬)।

অন্তরের সঙ্গে মুজাহাদা করা, তার কুমন্ত্রণা দূর করা এবং আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে অন্তরকে পরিশুদ্ধ করার চেষ্টা করা।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘শপথ প্রাণের এবং যিনি তা সুবিন্যস্ত করেছেন, তার। অতঃপর তাকে অসৎকর্ম ও সৎকর্মের জ্ঞান দান করেছেন। যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করে, সেই সফলকাম হয়। আর যে নিজেকে কলুষিত করে, সে ব্যর্থ মনোরথ হয়।’ (সূরা শামস : ৭-১০)। 

তিনি আরো বলেন, ‘যারা আমার পথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়, আমি তাদের অবশ্যই আমার পথগুলোতে পরিচালিত করব। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সঙ্গেই আছেন।’ (সূরা আনকাবুত : ৬৯)।

যে রাস্তাগুলো গোনাহের দিকে ধাবিত করে, সে রাস্তাগুলো বন্ধ করে দেয়া। তা এভাবে যে, একাকী না থাকা, বরং সবসময় অন্যদের মাঝে থাকা। পরিবার-পরিজন, স্ত্রী ও সন্তানদের মাঝে থাকা। যদি স্ত্রী থেকে দূরে থাকেন, তাহলে স্ত্রীকে সঙ্গে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা। 

আপনার স্ত্রীর মাধ্যমে নিজেকে পবিত্র রাখুন এবং আপনার মাধ্যমে আপনার স্ত্রীকেও পবিত্র রাখুন।  

আপনি আপনার স্ত্রীকে ভালোবাসুন। তার মাধ্যমে আপনার প্রয়োজন পূরণ করুন। যখনই আপনার অন্তরে দেখার খায়েশ জাগবে কিংবা কোনো কিছু আপনার নজরে পড়ে যাবে, তখন আপনি শয়তানকে হারামের দিকে আপনাকে নিয়ে যেতে দেবেন না। বরং আপনি দেরি না করে হালালকে গ্রহণ করুন।

সদা-সর্বদা দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণকর কোনো কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখা। কারণ অবসর সময় মানুষের নষ্টের কারণ। এমন নষ্ট যার কোনো সীমা নেই।

সম্ভব হলে মোবাইল থেকে ইন্টারনেট সংযোগ চূড়ান্তভাবে বিচ্ছিন্ন করা। হতে পারে মোবাইল সেটটি পরিবর্তন করাই অধিক উপকারী। এমন মোবাইল সেট ব্যবহার করা, যেখানে ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায় না।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে