Alexa গোঁফ বাঁচাতে শ্বশুর বাড়িতে রাতে ঘুমান না গোঁফেন মাস্টার

ঢাকা, সোমবার   ২৭ জানুয়ারি ২০২০,   মাঘ ১৪ ১৪২৬,   ০২ জমাদিউস সানি ১৪৪১

Akash

গোঁফ বাঁচাতে শ্বশুর বাড়িতে রাতে ঘুমান না গোঁফেন মাস্টার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৩১ ১২ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৮:৩৩ ১২ ডিসেম্বর ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

নিজেকে অন্যদের থেকে আলাদা করে চেনাতে গোঁফ রেখেছেন দাশরথী ভট্টাচার্য্য। টিউশনি পড়ান। লম্বা গোঁফের জন্যই তার আসল নাম ভুলতে বসেছেন অনেকেই। ভালোবেসে সবাই ডাকেন গোঁফেন মাস্টার। তাতেই সাড়া দেন হাসিমুখে।

পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতারের বড়বেলুন গ্রামের বাসিন্দা দাশরথি ভট্টাচার্য ওরফে গোঁফেন মাস্টার। ছোটবেলা থেকেই শখ, গোঁফ হবে সবার থেকে আলাদা।

২২ বছর ধরে বড় গোঁফ রাখছেন তিনি। নিকট আত্মীয়ের শ্রাদ্ধ উপলক্ষে কয়েকবার চুল দাড়ি গোঁফ কাটতে বাধ্য হয়েছেন। এছাড়া কোনোদিনই গোঁফ কাটেনি তিনি। বর্তমানে নাকের নিচে এক এক দিকের গোঁফ প্রায় এক ফুট করে লম্বা। দু’দিকে প্রায় দু-ফুট গোঁফ নিয়ে দিব্বি আছেন গোঁফেনবাবু।

গোঁফের জন্যই যতকিছু। নাকের নিচে এক ফুট করে লম্বা গোঁফেই আটকে তার জীবন। গোঁফ বাঁচাতে শ্বশুরবাড়িতে জেগে রাত কাটান পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের দাশরথী ভট্টাচার্য। গোঁফের জন্যই পেশায় শিক্ষক দাশরথী সবার আদরের গোঁফেন মাস্টার।

তবে গোঁফ রাখার ঝামেলাও কম নয়। প্রতিদিন সরষের তেল, নারকেল তেল, বাদাম তেল মাখাতে হয় গোঁফের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে। প্রয়োজন মতো রঙও করেন। সমস্যা একটাই। শ্বশুর বাড়ি বা আত্মীয় বাড়ি গেলে সজাগ থাকতে হয় একটু বেশি। পাছে কেউ এই গোঁফে কাঁচি চালিয়ে দেয়। তাই সেসব জায়গায় রাত কাটে না ঘুমিয়েই।

গোঁফ রাখতে গিয়ে বাড়িতে অশান্তি কম হয়নি। স্ত্রী হুমকি দিয়েছিলেন, ‘গোঁফ কেটে দেবো...’। শ্বশুর বাড়ির আত্মীয়দেরও তেমনই মত ছিল। ভয়ে চার বছর শ্বশুরবাড়ি যাননি তিনি। পাছে স্ত্রী শ্যালক-শ্যালিকাদের নিয়ে গোঁফ কেটে দেন, সেই ভয়ে।

অবশেষে দাশরথীবাবুর জেদের কাছে হার মেনেছেন তারা। তবুও সাবধানের মার নেই। তাই খুব প্রয়োজনে বিয়েবাড়ি অনুষ্ঠানে শ্বশুরবাড়ি গেলেও সারারাত সজাগ থাকেন।

রাস্তা দিয়ে হাঁটলে অনেকেই তার দিকে অবাক হয়ে তাকায়। অনেক ছেলে মেয়ে মুচকি হাসে। এতেই খুশি গোঁফেন মাস্টার। গোঁফকে কখনো গুটিয়ে রাখেন। কখনো মেলে ধরেন সবার সামনে। তার কথায়, এতোবড় গোঁফ কারো কারো চোখে খারাপ লাগে ঠিকই। কিন্তু এই গোঁফ দেখে আনন্দ পান, উৎসাহ দেন দশজনের ৯ জন। বেশিরভাগের ভাল লাগে বলেই এই গোঁফ আরো বড় করার সংকল্প নিয়েছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ