গুগল আর্থে ধরা পড়া কিছু বিস্ময়কর ছবি

ঢাকা, রোববার   ১৬ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ২ ১৪২৬,   ১১ শাওয়াল ১৪৪০

গুগল আর্থে ধরা পড়া কিছু বিস্ময়কর ছবি

বিজ্ঞান ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৩৩ ১৯ মে ২০১৯  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

গুগলের নানা জনপ্রিয় সেবার মধ্যে অন্যতম গুগল আর্থ। ঘরে বসেই বিশ্বের বিভিন্ন স্থান দেখার সুযোগ পাওয়া যায় এ সেবা ব্যবহার করে। এটি ব্যবহার করে স্যাটেলাইট থেকে তোলা সম্পূর্ণ পৃথিবীর ছবি দেখা যায়। ঠিকানা লিখে খুঁজে বের করা যায় পৃথিবীর যেকোনো স্থানের ছবি। এসব ছবি দেখে রীতিমতো মুগ্ধ হতে হয়! বেশকিছু সময়ের মধ্যে গুগল আর্থে ধরা পড়েছে কয়েকটি আকর্ষণীয় ছবি। সেগুলো নিয়েই এই আলোচনা-

লুজন দ্বীপ ও লেক

বিস্ময়কর হ্রদ: ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলার ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে আছে প্রকৃতির এক আশ্চর্য বিস্ময়। দ্বীপটির নাম ‘লুজন দ্বীপ’। এ দ্বীপে লেক টাল নামে একটি হ্রদ রয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, টাল হ্রদে আরেকটি দ্বীপ রয়েছে! দ্বীপটিও বেশ সুন্দর। ছোট্ট ওই দ্বীপেও আরেকটি হ্রদ রয়েছে এবং এ হ্রদে আরেকটি দ্বীপ রয়েছে!

ডেভিস-মন্থান

বিমানের কবরস্থান: প্রযুক্তির কল্যাণে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন জিনিসের উদ্ভাবন হচ্ছে। বিমানের ক্ষেত্রেও তাই। যেসব বিমান ব্যবহার করা হয় না সেগুলো কোথাও না কোথাও সংরক্ষণ করা হয়ে থাকে। অ্যারিজোনায় অবস্থিত ডেভিস-মন্থান এয়ার ফোর্স বেস সামরিক ঘাটিটি অব্যবহৃত বিমানের রিটায়ারমেন্ট হোম হিসেবেও কাজ করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিমানের কিছু সমাধিস্থল তৈরি করা হয়েছে। কারণ সামরিক বাহিনীর প্রচুর আকাশযান ছিল, কিন্তু ডেভিস-মন্থান হলো সবচেয়ে বড় এয়ারপ্লেন সিমেট্রি বা সমাধিস্থল।

ইরাকের লাল হ্রদ

রক্ত লাল হ্রদ: উপর থেকে দেখলে মনে হয়, এ বুঝি রক্তের ‍পুকুর! ২০০৭ সালে যখন ইরাকে লাল হ্রদটি খুঁজে পাওয়া যায় তখন ইন্টারনেটে উত্তেজোনা ছড়িয়ে পড়ে। এটি আসলে কী থেকে হতে পারে, তার ব্যাখ্যা মেলেনি এখনও। আরো কিছু বিষয় আছে যা এখনো রহস্যময়। অনেকের অনুমান, কসাইখানা থেকে চলমান রক্তের কারণে হতে অথবা পরিবেশ দূষনেই কারণেও হতে পারে!

পটাসিয়ামের পুকুর

নীল পুকুর: প্রায় ৩০০ মিলিয়ন বছর আগে প্রাচীন মহাসাগর শুকিয়ে আমিরিকার কলোরিডা গঠিত হয়। পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি পটাসিয়াম মজুদ রয়েছে আমিরিকার মোয়াব উতাহ কলোরিডায়, যার পরিমান ২বিলিয়ন টন। পটাসিয়ামের পুকুরটি উপর থেকে দেখতে মরুভুলির মধ্যে উজ্জ্বল নীল রঙের দেখায়।

সিগন্যাল টু স্পেস

সিগন্যাল টু স্পেস: নিউ মেক্সিকোর মেসা হুয়ারফানিটার নিকটবর্তী মরুভূমিতে এই অনন্য প্যাটার্নটি পাওয়া যায়। ডেইলি মেইলের প্রতিবেদন অনুসারে, মরুভূমিতে এই প্রতীকগুলো হলো সায়েন্টোলজিস্টদের জন্য পথনির্দেশক, যেন তারা আর্মাগেডনের (বিচার দিবসের পূর্বে সৎ ও অসতের মধ্যে সর্বশেষ যুদ্ধ) মতো ঘটনা থেকে রক্ষা পান।

সান আলফনসো ডেল মার রিসোর্টের সুইমিংপুল

সবচেয়ে বড় সুইমিং পুল: এটা কোনো হ্রদ নয়। চিলির আলগারোবোর সান আলফনসো ডেল মার রিসোর্টে অবস্থিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় সুইমিংপুল। এ পুলের দৈর্ঘ্য ৩,৩২৪ ফুট এবং এতে ৬৬ মিলিয়ন গ্যালন পানি রয়েছে। পুলটি এতই বড় যে এখানে একটি ডক রয়েছে এবং লোকজন অবকাশে এ হ্রদে নৌকা বাইতে পারে।

দ্য ওয়ার্ল্ড আইল্যান্ডস

দ্য ওয়ার্ল্ড আইল্যান্ডস: সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে এ পুঞ্জটির অবস্থান। দ্য ওয়ার্ল্ড আইল্যান্ডস হলো একটি কৃত্রিম দ্বীপপুঞ্জ। এ দ্বীপপুঞ্জকে সাতটি মহাদেশের রাফ রিপ্রেজেন্টেশন মনে করা হয়। দুবাইয়ের তৎকালীন আমির শেখ মুহাম্মদ বিন রশিদ আল মকতুম এ প্রজেক্ট বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন। ৩০০টি দ্বীপে গড়া দ্য ওয়ার্ল্ড আইল্যান্ডসের দৈর্ঘ্য ৯ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৬ কিলোমিটার।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে