Alexa গায়ের চামড়া দিয়ে ক্লাবের জার্সি

ঢাকা, বুধবার   ১৩ নভেম্বর ২০১৯,   কার্তিক ২৮ ১৪২৬,   ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

গায়ের চামড়া দিয়ে ক্লাবের জার্সি

 প্রকাশিত: ২১:১৭ ২৮ এপ্রিল ২০১৮  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

একই বলে পাগল সমর্থক। প্রিয় ক্লাব বা দলের প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে সমর্থকেরা কত কিছুই না করেন। তবে ক্লাবের প্রতি অমিয় ভালোবাসার প্রমাণে বিশ্বজুড়ে ভক্তদেরও ছাপিয়ে গেলেন হোসে মরিসিও দস আঞ্জুস। প্রিয় দলের সমর্থক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলেন একধাপ উপরে! ব্রাজিলিয়ান এই সমর্থক নিজের গায়ের চামড়া দিয়ে বানিয়ে ফেলেছেন প্রিয় ক্লাব ফ্লামেঙ্গোর জার্সি। ক্লাবের জার্সির আদলে গায়ের চামড়ায় জার্সি আঁকিয়েছেন শরীরে উল্কি এঁকে।

প্রাথমিকভাবে দেখে মনে হয়, তিনি বুঝি ক্লাব ফ্লামেঙ্গোর জার্সি পরে আছেন। আসলে সেটা জার্সি নয়। চামড়ায় আঁকা উল্কি। শরীরে উল্কি আঁকা কতটা কষ্টের, সেটা ভুক্তভোগি মাত্রই জানে। সেই ঝুঁকি নিয়ে মরিসিও দস আঞ্জুস উল্কি আঁকিয়েছেন পুরো বডিতে। গলার নিচ থেকে নাভির নিচ পর্যন্ত লম্বা। পিঠ পেট, বাদ দেননি কোথাও। জার্সির আদলে হাতাও বানিয়েছেন। মনে হয়, হাফহাতা জার্সি।

২০১৫/১৬ মৌসুমি ফ্লামেঙ্গোর যে হোম জার্সি ছিল, সেটাকেই নিজের গায়ের চামড়ায় স্থায়ীভাবে বসিয়ে নিয়েছেন মরিসিও দস আঞ্জুস। প্রিয় ক্লাবের প্রতি অগাধ ভালোবাসা ফুটিয়ে তুলতে গিয়ে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে তাকে। সময়, অর্থ, কষ্ট স্বীকার, প্রিয় ক্লাবের টানে সবকিছুই করেছেন সহাস্যে।

উল্কি আঁকার জন্য তাকে উল্কি পার্লারে যেতে হয়েছে মোট ৩২ বার। সব মিলে স্রেফ উল্কি আঁকতেই ব্যয় হয়েছে মোট ৯২ ঘণ্টা। ব্যয় হয়েছে মোটা অঙ্কের টাকাও। সেই টাকার জোগান দিতে গিয়ে তাকে বিক্রি করতে হয়েছে সখের মোটরসাইকেল।

নিজের শরীরে উল্কি এঁকে ক্লাবের জার্সি বানানোর স্বপ্নটা তার সেই ছোট বেলা থেকেই ছিল। অবশেষে ৩৩ বছর বয়সী মরিসিও দস আঞ্জুস স্বপ্নপূরণের পাকা সিদ্ধান্তটা নেন গত বছর। ব্যাস, যেই সিদ্ধান্ত সেই কাজ। এরপরই ছুটে যান উল্কি পার্লারে। শেষ পর্যন্ত স্বপ্নটা পূরণ করতে পারায় ভীষণ খুশি ফ্লামেঙ্গোর এই পাড়ভক্ত, সেই ছোট্টবেলা থেকেই আমার স্বপ্ন ছিল ফ্লামেঙ্গোর উল্কি আঁকানোর। আমি খুশি।

প্রথমে ভেবেছিলেন অনেক টাকা হয়তো খরচ হবে। হয়তো হতোই। কিন্তু মরিসিও’র ভাগ্য ভালো, যিনি উল্কি এঁকে দিয়েছেন, তিনিও ফ্লামেঙ্গোর একজন সমর্থক। সুতরাং কম পারিশ্রমিকেই সতীর্থ সমর্থকদের ইচ্ছাটা পূরণ করে দিয়েছেন তিনি।

প্রিয় ক্লাবের প্রতি ভালোবাসা প্রমাণের জন্য এই ত্যাগ, মরিসিও তার পুরস্কারও পেয়ে গেছেন। গায়ের চামড়ায় ক্লাবের জার্সি গায়ে রাতারাতি যেন বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় পরিচিতি পেয়েছেন, হয়েছেন জনপ্রিয়, তেমনি বিশ্বখ্যাত ফুটবল তারকাদের সান্নিন্ধ্যও পাচ্ছেন। ব্রাজিলের সাবক ও বর্তমান অনেক ফুটবলারের সঙ্গেই এখন নিয়মিত দেখা সাক্ষাৎ, কথা হচ্ছে তার।

অনেকে নিজ থেকেই ছুটে যাচ্ছেন তার কাছে। এমনকি সেই তালিকায় আছেন জিকোর মতো কিংবদন্তিও। শুধু ব্রাজিলের নয়, জিকো বিশ্ব ফুটবল ইতিহাসেই সর্বকালের সেরাদের একজন। সেই জিকো মরিসিও’র সঙ্গে শুধু দেখাই করেননি, মরিসিও’র চামড়ার জার্সিতে নিজের একটা অটোগ্রাফও দিয়েছেন জিকো।

ডেইলি বাংলাদেশ/সালি