গাড়িতে পুলিশ-আইনজীবী স্টিকার লাগিয়ে অপরাধ করতো এরা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০২ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২০ ১৪২৬,   ০৯ শা'বান ১৪৪১

Akash

গাড়িতে পুলিশ-আইনজীবী স্টিকার লাগিয়ে অপরাধ করতো এরা

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:০২ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

রাজধানীর খিলগাঁও থেকে অপহরণকারী চক্রের দুই সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাব। এরা গাড়িতে পুলিশ এবং আইনজীবী স্টিকার ব্যবহার করে অপহরণ ও মাদক বহনের মতো বিভিন্ন ধরনের অপরাধ করে আসছিলো।

আটকরা হলো- মো. সজল আহম্মেদ (২৮) ও মো. মামুন হোসেন (২৬)।

বুধবার রাজধানীর খিলগাঁও এলাকা থেকে তাদের আটক করে র‍্যাব-৩।

র‍্যাব-৩ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার স্টাফ অফিসার (ইন্ট অ্যান্ড মিডিয়া) ফাইজুল ইসলাম জানান, র‌্যাবের একটি মোবাইল পেট্রোল টিম খিলগাঁও ফ্লাইওভার এলাকায় পেট্রোল করার সময় এক নারীর চিৎকার শুনতে পায়। চিৎকারের শব্দ অনুসরণ করে পুলিশের স্টিকারযুক্ত একটি সাদা রঙের টয়োটা প্রাইভেট কার আটক করে। এ সময় প্রাইভেট কার থেকে ভুক্তভোগী এক নারীকে উদ্ধার ও অপহরণকারী চক্রের ওই দুই সদস্যকে আটক করা হয়। তাদের কাছে থাকা মোবাইল ও মেমোরি কার্ড জব্দ করা হয়। এতে অশ্লীল ভিডিও ছিল। 

ভুক্তভোগী ওই নারীর জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে ফাইজুল ইসলাম বলেন, তিনি একজন গৃহিণী। বর্তমানে দুই সন্তান ও স্বামীর সঙ্গে সবুজবাগের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। বিয়ের আগে সজলের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কিছু অনৈতিক ছবি ও ভিডিও মোবাইলে ধারণ করে সজল। পরে তাকে বিয়ে করতে অস্বীকার করলে ভুক্তভোগী ওই নারী বর্তমান স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। 

‘কিন্তু বিয়ের পর থেকেই সজল তার কাছে থাকা আপত্তিকর ছবি, ভিডিওগুলো ওই নারীর স্বামী, মা-বাবা-ভাই-বোন ও শ্বশুর বাড়ির আত্মীয়-স্বজনদের কাছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেবে বলে হুমকি দিয়ে আসছিল।’

তিনি আরো জানান, সংসার ভেঙে যাওয়ার ভয়ে ভুক্তভোগী নারী সজলের সব অন্যায় আবদার পূরণ করে আসছিল। কিন্তু সম্প্রতি সে সজলের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এতে সজল ক্ষুব্ধ হয়ে তার কাছে থাকা আপত্তিকর ছবি ও ভিডিওগুলো ফেসবুক-ইউটিউবে ছড়িয়ে দেয়। এরপরও সজলের অন্যায় আবদার পূরণ করতে অনীহা প্রকাশ জানালে সে অপহরণের পরিকল্পনা করে।

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, আটক আসামিরা ইয়াবা সেবন করে। মামুন প্রাইভেট কারের চালক। সে গাড়িতে পুলিশ এবং আইনজীবী স্টিকার ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে অপহরণ ও মাদক বহনের মতো বিভিন্ন ধরনের অপরাধ করে আসছিল। চেকপোস্টে গাড়ির মালিকের নাম জিজ্ঞাসা করলে সে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পুলিশ কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে। সে ভিকটিমকে অপহরণে সহায়তার কথা স্বীকার করে।

আটক সজল র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে অপহরণ ও তার কাছে থাকা আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ফেসবুক-ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার কথা স্বীকার করে।

ডেইলি বাংলাদেশ/ইএ/এসআই