Alexa গাড়ল পালনের ঝোঁক

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ২ ১৪২৬,   ১৭ মুহররম ১৪৪১

Akash

গাড়ল পালনের ঝোঁক

 প্রকাশিত: ১৯:৫৯ ৩০ আগস্ট ২০১৮   আপডেট: ২১:১৮ ৩০ আগস্ট ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কুমিল্লায় গাড়ল পালনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। দেখতে ভেড়ার মতো প্রাণীটি দ্রুত বাড়ে, কম পুঁজিতে বেশি লাভ হয়। তাই কুমিল্লার খামারীরা ঝুঁকছেন গাড়ল পালনে।

কুমিল্লা জেলায় প্রথম গাড়লের খামার করা হয়েছে লাকসাম উপজেলার কাদরা গ্রামে। গ্রামের কায়সার এগ্রোফার্মে গাড়ল পালন করা হচ্ছে।

লাকসাম উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ভেটেনারি সার্জন ডা. সুজন কান্তি শর্মা বলেন,গাড়ল বলতে সাধারণত আমরা লেজ লম্বা আকারে বড় ভেড়াগুলোকে বুঝি। প্রকৃত অর্থে গাড়ল মূলত সুন্দরবন অঞ্চলের একটি স্বীকৃত ভেড়ার জাত। এগুলো দেখতে আমাদের দেশি ভেড়ার মত এবং আকারে দেশি ভেড়ার থেকে কিছুটা বড়। এগুলো নোনা পানির অঞ্চলে সহজে মানিয়ে নেয় এবং খুব শক্ত প্রকৃতির। আর লেজ লম্বা আকারে বড় ভেড়াগুলো আসলে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নাগপুর অঞ্চলের ছোটানাগপুরি জাতের ভেড়ার সাথে আমাদের দেশি ভেড়ার ক্রসব্রিড। রাজশাহী অঞ্চলের খামারিরা প্রথম এই সংকরায়ন ঘটালেও মেহেরপুর অঞ্চলে এর ব্যাপকতা দেখা যায়। এই ক্রসব্রিডের নামকরণ করা হয় গাড়ল।

গাড়ল আকারে বড় হয়, শরীরে প্রচুর পশম থাকে এবং বছরে একটি করে বাচ্চা দেয়। তবে এর দৈহিক বৃদ্ধি খুব ভাল। একটি গাড়ল প্রতিদিন ১৪০-১৫০ গ্রাম বৃদ্ধি পায়। যদিও এই বৃদ্ধির হার নির্ভর করবে খামারের পালন ব্যবস্থার উপর। গাড়লের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক। গাড়লের মাংস অত্যান্ত সুস্বাদু এবং স্বাস্থ্যকর। গরু-ছাগলের মাংসে যেসকল ক্ষতিকর দিক রয়েছে গাড়লের মাংস সেগুলো থেকে মুক্ত। নেপিয়ার ঘাস, ভুট্টা খাওয়ালে গাড়ল দ্রুত বৃদ্ধি পায়। খড় ছোট ছোট করে কেটে গাড়লকে খাওয়ানো যায়।

খামারের মালিক শহীদ কায়সার বাবলু বলেন, শখের বশে খামার করছি। ছাগল, ভেড়ার সঙ্গে গাড়লও পালন করছি। ভারত থেকে গাড়লের বাচ্ছা আনি। এগুলোর বৃদ্ধি অনেক ভালো। প্রথমে একটু সমস্যা হলেও গত দুই বছরে এখানে গাড়ল পালনে ভালো ফল পাওয়া গেছে। আমাদের এ এলাকায় এখনো কেউ গাড়ল পালন করেনি বলে প্রথম প্রথম অনেকেই আমাকে এই গাড়ল নিয়ে নানা কথা বলতো। কিন্তু আল্লাহর রহমতে গত দুই বছরে গাড়ল পালনে সফলতা দেখে অনেক আগ্রহী চাষিই এখন আমার কাছে আসছে গাড়ল পালনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় টিপস নিতে।

কুমিল্লা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, লাকসামের শহীদ কায়সার বাবলু এর গাড়ল পালনের কথা শুনে অনেকেই এখন গাড়ল পালনের বিভিন্ন দিক জানতে আগ্রহী। আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই গাড়ল কুমিল্লা অঞ্চলে ব্যাপকতা পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর