Alexa গাইবান্ধায় ট্রেন চলাচল বন্ধ, তিন জনের মৃত্যু

ঢাকা, শুক্রবার   ২৩ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৮ ১৪২৬,   ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

গাইবান্ধায় ট্রেন চলাচল বন্ধ, তিন জনের মৃত্যু

গাইবান্ধা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:১৯ ১৮ জুলাই ২০১৯  

ডেইলি বাংলাদেশ

ডেইলি বাংলাদেশ

গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি হয়েছে। এতে গাইবান্ধা পৌর এলাকাসহ পাঁচটি উপজেলার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী মানুষ এবং বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রে বন্যার্ত মানুষেরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। পৌর এলাকায় ২০টি আশ্রয় কেন্দ্রে সাড়ে ৪ হাজার বন্যার্ত মানুষ আশ্রয় গ্রহণ করেছে।

এদিকে দু’দিনে সদর উপজেলার খোলাহাটী ইউনিয়নের গোদারহাট এলাকার সোহাগ বন্যার পানিতে ডুবে ও সাঘাটার কুন্ডুপাড়ায় উজ্জল কুমার সাপের দংশনে মারা যায়। এছাড়া সদর উপজেলার ত্রিমোহীনির ফুরবাড়ী এলাকায় বুধবার গাইবান্ধা-সাঘাটা সড়কের হেটে খালার বাড়ি যাওয়ার সময় দুপুরে রাস্তার ভাঙায় পড়ে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র বদিউল ইসলাম বাদল পানির স্রোতে ভেসে যায়। পরে  তার লাশ বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘটনাস্থল থেকে কিছু দূরে বাঁশ ঝাড়ের ভেতরে পাওয়া যায়।

এদিকে ত্রিমোহিনী থেকে বোনারপাড়া স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় রেললাইনের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত অব্যাহত থাকায় লালমনিরহাট-সান্তাহার রুটে গাইবান্ধার ত্রিমোহিনী রেল স্টেশন থেকে বোনারপাড়া জংশন পর্যন্ত ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে ট্রেন যাত্রীরা চরম বিপাকে পড়েছে।

গাইবান্ধা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আবুল কাশেম জানান, লালমনিরহাট-সান্তাহার রুটে গাইবান্ধার ত্রিমোহিনী রেলওয়ে স্টেশন থেকে বোনারপাড়া জংশন পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টে রেল লাইন ডুবে যাওয়ায় বুধবার সকাল ১১টা থেকে ওই রুটে সরাসরি এখন পর্যন্ত সকল প্রকার ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। তবে এখন থেকে ডাউন ট্রেনগুলো গাইবান্ধা রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত এবং আপ ট্রেনগুলো বোনারপাড়া পর্যন্ত চলাচল করছে। তবে আন্তঃনগর লালমনি এক্সপ্রেস ও রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেন বিকল্পভাবে রংপুর-পার্বতীপুর-সান্তাহার হয়ে ঢাকায় চলাচল করছে।

এদিকে চরাঞ্চলের পানিবন্দি মানুষদের খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশনসহ বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছে। বিশেষ করে গবাদিপশু যেগুলো চরাঞ্চলে আটকা পড়েছে সেগুলো যানবাহনের অভাবে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া যাচ্ছে না। এছাড়া গবাদি পশুর খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। ফুলছড়ি উপজেলার উদাখালী ইউনিয়নের সিংড়িয়া, উদখালী, পূর্ব ছালুয়া, কাঠুর, উড়িয়া ইউনিয়নের রতনপুর ও গজারিয়া ইউনিয়নের কাতলামারীতে এ ধরনের অনেক পরিবার এখনও চরাঞ্চলে আটকা পড়ে রয়েছে। বিশুদ্ধ পানির সংকটেও তারা ভুগছে।

গাইবান্ধা পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট শাহ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবীর মিলন জানান, এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি ত্রাণ সামগ্রী পাওয়া যায়নি। তবে এব্যাপারে ডিসির কাছে জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ সহায়তার জন্য আবেদন করা হয়েছে। পৌর এলাকার বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রিত পরিবারগুলোর মধ্যে পৌরসভার মেয়রের পক্ষ থেকে দু’বেলা খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। এরমধ্যে রয়েছে তৈরি খাবার খিচুরি ও শুকনো খাবার। এছাড়াও জরুরি ওষুধ, স্যালাইনও সরবরাহ করা হচ্ছে। পৌরসভার স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রতিটি কেন্দ্রে জরুরি ওষুধপত্রসহ বন্যা দুর্গত এলাকায় সার্বক্ষনিক কর্মরত রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম

Best Electronics
Best Electronics