Alexa গর্ভের মধ্যেই বজ্রপাত টের পান তার মা!

ঢাকা, শনিবার   ১৬ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রাহায়ণ ১ ১৪২৬,   ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

গর্ভের মধ্যেই বজ্রপাত টের পান তার মা!

সাদিকা আক্তার  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:০৪ ২৭ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১৭:৪৪ ২৭ অক্টোবর ২০১৯

ছবি: ‘আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট’ ছবির দৃশ্য

ছবি: ‘আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট’ ছবির দৃশ্য

মাত্র বিশ বছর বয়সে সিংহাসনে অধিষ্টান ঘটে তার। তখন থেকেই তার দিন কেটেছে পথে, প্রান্তরে কিংবা রণক্ষেত্রে। কারণ নিজের রাজত্বকালের সিংহভাগ সময়ই তিনি কাটান যুদ্ধযাত্রায়। তিনি কোনো যুদ্ধেই হারেননি। গ্রীস থেকে মিশর এবং বর্তমান পাকিস্তান পর্যন্ত তার সাম্রাজ্য তৈরি হয়। তার সফল রণনীতির জন্য ইতিহাসে তাকে সবচেয়ে সফল সেনাপতি বলা হয়। নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন তিনি কে? বিখ্যাত যোদ্ধা আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট।

যৌবনে স্বয়ং এরিস্টটলের কাছে তিনি শিক্ষা লাভ করেন তিনি। ফিলিপের  হত্যাকাণ্ডের পর, ম্যাসিডোন এর অভিজাতদের অনুমতিতে তিনি রাজা ঘোষিত হন। এরপর গ্রিসের প্রধান সেনাপতির দায়িত্ব লাভ করেন। ৩৩৪ খ্রিষ্ট পূর্বাব্দে তিনি আকায়েমিনভ দিয়ে যুদ্ধযাত্রা শুরু করেন। টানা দশ বছর পরে তা পাকিস্তানে গিয়ে শেষ হয়।

আলেকজান্ডার ম্যাসিডোন ৩৫৬ খ্রিস্টপূর্বে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম দ্বিতীয় ফিলিপ। তিনি মেসিডন এর রাজা ছিলেন। আলেকজান্ডার এর মায়ের নাম অলিম্পিয়াস। রাজা ফিলিপের চতুর্থ স্ত্রী ছিলেন তার মা। 

ছোট্ট আকেজান্ডারজন্ম নিয়ে রটনা

প্রায় সব প্রাচীন রাজার মতই আলেকজান্ডারের জন্ম নিয়েও অনেক লোকশ্রুতি রয়েছে। সবেচেয় বিখ্যাতটি হলো, অলিম্পাস ও ফিলিপ উভয়েই তাদের ভবিষ্যত সন্তানের জন্মের স্বপ্ন দেখেন। অলিম্পাস দেখেন তার গর্ভের ভিতরে বজ্রপাত ও আলোকপাত হচ্ছে। ফিলিপের স্বপ্ন ছিলো, সে অলিম্পাসের গর্ভে সিংহের সিল মেরে দিচ্ছেন। আর যেসব ঘটনা রয়েছে তার জন্মকে কেন্দ্র করে তার বেশিরভাগই অযৌক্তিক। মনে করা হয়, আলেকজান্ডার নিজেই এসবের প্রচলন ঘটায় নিজেকে অতিমানবীয় দেখাতে।  

শৈশব থেকেই চতুর 

আলেকজান্ডারের বয়স তখন দশ বছর। এক ব্যবসায়ী রাজা ফিলিপের কাছে একটি ঘোড়া বিক্রয়ের জন্য নিয়ে আসে। ঘোড়াটি এতটাই অস্থির ছিলো যে, তার ধারে কাছে কেউ যেতে পারছিলো না। আলেকজান্ডার এই ঘোড়াটি কেনার জন্য তার পিতার কাছে আবদার করেন। ফিলিপ ঘোড়াটি কিনতে রাজি হন। তবে একটি শর্তে, যদি আলেকজান্ডার এই ঘোড়াটিকে বশে আনতে পারে তবেই।

আলেকজান্ডার শর্তে রাজি। তিনি লক্ষ্য করলেন, ঘোড়াটি তার নিজের ছায়া দেখে ভীত হয়ে লাফাচ্ছে। তিনি ঘোড়াকে সূর্যের দিকে মুখ করালেন, যেন সে তার নিজের ছায়ার দিকে লক্ষ্য করতে না পারে। এভাবে তিনি সহজেই ঘোড়াকে বশে আনলেন। এরপর ফিলিপ আলেকজান্ডারকে ঘোড়াটি কিনে দিলেন। পরে ঘোড়ার নামকরণ করা হয় বুসেফেলাস (যার অর্থ সাড়ের মাথা)। ঘোড়াটির মৃত্যু হয় আলেকজান্ডারের শেষ যুদ্ধে। 

আজো বীর দর্পে ঘোড়ায় অধিষ্টিত আলেকজান্ডার!বুসেফেলাস বুসেফেলাস মৃত্যুবরণ করার আগ পর্যন্ত সব যুদ্ধেই আলেকজান্ডারের সঙ্গেই ছিলো। উল্লেখ্য ভারতের ঝিলম নদীর তীরে আলেকজান্ডার এই ঘোড়াটির নামে বুসেফেলাসের নামক একটি নগর তৈরি করেছিলেন। 

রাজত্বে অধিষ্টান ও রণনীতির প্রয়োগ

১৬ বছর বয়সে আলেকজান্ডার এ্যারিস্টোটল - এর কাছে তার  লেখাপড়া শেষ করেন। এই সময় বাইজান্টাইনদের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে ফিলিপ ম্যাসিডোন বিত্যাগ করেন। ফলে উত্তরাধিকার সূত্রে মেসিডোনের শাসনভার অর্পিত হয় আলেকজান্ডারের ওপর। একই সময় থ্রেসিয়ান মিডি উপজাতির লোকেরা মেসিডোনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। আলেকজান্ডার দ্রুত এই বিদ্রোহ দমন করেন। এরপর তিনি মিডিদের এলাকাকে গ্রিকের উপনিবেশে পরিণত করেন।

৩৩৬ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে পৌসেনিয়াস, ফিলিপের নিজ দেহরক্ষী, তাকে হত্যা করে। পরবর্তীতে পালানোর সময় আলেকজান্ডার এর দুই বন্ধু তাকে পাকড়াও করেন এবং হত্যা করেন। পৌসেনিয়াস নিজে থেকে এ কাজ করেনি। তবে কারা করিয়েছিলো তা অস্পষ্ট। সে সময় ফিলিপকে হত্যার জন্য তিন জনের সম্ভাব্য কারণ ছিলো। তিনজন হলেন অলিম্পিয়াস, আলেকজান্ডার এবং তৃতীয় দারিয়ুস। 

টানা দশ বছর যুদ্ধ করেছেন এই সাহসী যোদ্ধাআলেকজান্ডার সিংহাসনে বসেই তার সম্ভাব্য শত্রুদের নিধন শুরু করেন। রাজ সিংহাসন অক্ষুন্ন রাখতে তিনি নিজের আত্মীয়দের হত্যা করেন। ফিলিপের মৃত্যুর পর, বিভিন্ন প্রদেশের স্থানীয়রা বিদ্রোহ শুরু করে। আলেকজান্ডার দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালায়। তাকে রাজনীতি প্রয়োগ করতে বলা হলেও তিনি রণনীতির প্রয়োগ করেন।

এরপর তিনি তার সাম্রাজ্যের উত্তরাংশে আক্রমণ চালান। পুনরায় তা দখল করার পর তিনি সেনাপতি অ্যান্টিপাটিসকে সিংহাসনের দায়িত্ব দিয়ে এশিয়ার মাইনরের দিকে এগুতে থাকেন। সেখানে পারসিক রাজা তৃতীয় দারিয়ুসকে তিনি পরাজিত করেন। বলা হয়, এশিয়া মাইনরে তার ১২০টি জাহাজ পৌঁছায় যার মধ্যে ৪৮ হাজার ১০০ জন সৈন্য, ৬ হাজার ১০০ জন অশ্বারোহী ছিলেন। পারস্য দখল করার পর তিনি সিরিয়ার দিকে এগুতে থাকেন। 

এরপর টাইর, মিশর, ইরাক, ব্যাবিলন, আফগানিস্তান, পাকিস্তান এবং ভারতের পাঞ্চাবে গিয়ে তিনি অভিযান শেষ করেন। দশ বছর একাধারে ঘরের বাইরে থাকায় আলেকজান্ডারের সৈন্যরা পাঞ্জাবে গিয়ে আর এগুতে চাইলো না। তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়ে আলেকজান্ডার তার সমরাভিযান শেষ করেন। আলেকজান্ডার ৩২৩ খ্রিস্টাব্দে মারা যান। তার কোনো যোগ্য উত্তরাধিকারী ছিলো না। সেনাপতিরাই সেই বিশাল সাম্রাজ্য ভাগ করে নেয়। আলেকজান্ডার যুদ্ধবাজ ছিলেন। 

সৈন্যদের মনোবল বাড়াতে সবসময় যুদ্ধে সঙ্গ দিয়েছেন তিনিগণহত্যার নায়ক

আফগানের সোয়াত উপত্যকায় ম্যাসাজা, অরা এবং অরনম এর অ্যাসাকনিয়ানরা তার বিরুদ্ধে তীব্র বিরোধিতা করেছিলো। তিনি তাদেরকে গণহত্যা করেন। সবচেয়ে কুখ্যাত কাজ ছিলো ক্লেয়িটাস নামক আলেকজান্ডারের সেনাপতিকে হত্যা। ক্লেয়িটাস আলেকজান্ডারকে বলেছিলো, তুমি তোমার ম্যাসিডোনের রীতিনীতি ভুলে যাচ্ছ। আলেকজান্ডার এজন্য তাকে হত্যা করেন। 

তাছাড়া আলেকজান্ডার ম্যাসিডোন এ অনেক অর্থ পাঠালে প্রচুর লোক নেয়ার কারণে পরবর্তীতে ম্যাসিডোন এর লোকশক্তি কমতে থাকে এবং তা অর্থনীতিতে খারাপ প্রভাব ফেলে। তবুও আলেকজান্ডার ইতিহাসে বেঁচে আছেন তার সুফল রণনীতির জন্য। তিনি কোনো যুদ্ধে হারেননি। ‘দ্যা গ্রেট’ উপাধি তিনি এজন্যই পেয়েছিলেন। 

মৃত্যুকালীন সময়ে আলেকজান্ডারআলেকাজান্ডার নিজে যুদ্ধে অংশ নিয়ে তার সৈন্যদের মনোবল বাড়াতেন। এশিয়ায় তার প্রথম যুদ্ধে তিনি ১৮ হাজার সৈন্য দিয়ে ৪০ হাজার সৈন্যকে পরাজিত করেন। অপরদিকে ভারত-পাকিস্তানের মতো অপরিচিত শত্রুদের ক্ষেত্রে তিনি তার শত্রুদের রণনীতি প্রয়োগ করেন। তার রণনীতি এখনো বিভিন্ন সামরিক প্রতিষ্ঠানে পড়ানো হয়।

আলেকজান্ডার এর শক্তিশালী ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য তার বাবার সান্নিধ্যে গঠিত। তার মায়ের খুব উচ্চাকাঙ্খা ছিলো। তিনি আলেকজান্ডারকে বিশ্বাস করতে উৎসাহিত করতেন যে, পারস্য সাম্রাজ্য জেতাই তার নিয়তি। তবে তার চরিত্র নিয়ে কখনো কোনো রটনা ইতিহাসে মেলেনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস