গরমে কাবু শিশুরা, হাসপাতালে ভিড়

ঢাকা, শুক্রবার   ২৪ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ১০ ১৪২৬,   ১৮ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

গরমে কাবু শিশুরা, হাসপাতালে ভিড়

শরীফা খাতুন শিউলী, খুলনা ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৫৫ ১৮ এপ্রিল ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

খুলনায় তীব্র তাপদাহে পানিবাহিত বিভিন্ন ধরনের রোগের প্রকোপ শুরু হয়েছে। শিশু হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ডায়রিয়া, কলেরা, হেপাটাইটিস, আমাশয়, টাইফয়েডসহ নানা পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত রোগীর ভিড় বাড়ছে।

গত ২ সপ্তাহে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে খুলনা শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ২১০ জন। এর মধ্যে নিউমোনিয়া রোগীর সংখ্যা ছিল ৮৫ শিশু। পয়লা বৈশাখ থেকেই বাড়ছে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশু রোগীর সংখ্যা।

এদিকে খুলনা শিশু হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। ভর্তি করাতে না পেরে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

জরুরি বিভাগে চিকিৎসা শেষ করে খুব কম শিশুই বাড়ি ফিরতে পারছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দিচ্ছে চিকিৎসকরা। অনেক রোগীকে চিকিৎসার জন্য ডাক্তাররা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কথা বললেও বেড খালি না পেয়ে হাসপাতাল ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে অনেককে। হাসপাতালে পর্যাপ্ত বেড না থাকায় বেশি বিপাকে পড়তে হচ্ছে খুলনা শহরের বাইরে থেকে আসা রোগীদের।

১ এপ্রিল থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত ভর্তি ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ছিল ২১০ ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়েছে ৮৫ শিশু। মার্চ মাসে ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশু রোগীর সংখ্যা ছিল ৪০২ ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত ১৬২ শিশুকে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। এর মধ্যে নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি শিশু রাইসার মা লাইলি বেগম বলেন, পয়লা বৈশাখ বাচ্চাকে নিয়ে বের হই। সেখান থেকে বাসায় আসার পর ঘণ্টাখানেক পর বমির পাশাপাশি পাতলা পায়খানা শুরু হয় মেয়েটির।

আলী রেজা নামের এক বাবা বলেন, দুটি সন্তান। দুজনই অসুস্থ। মেয়েটাকে দেখালাম। এরপর ছেলেটাকে দেখাব।

গরমের কারণে প্রথমে শিশুরা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। এরপর জ্বরসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে শিশুর শরীরে লাল লাল দাগও দেখা দিচ্ছে। এর সঙ্গে গরমে ঘেমে এক ধরনের অ্যাজমা ও পেটের নানা পীড়া দেখা দিচ্ছে। সন্তানের রোগ-শোক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন হাসপাতালে আসা শিশু রোগীদের মা-বাবা।

হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলছেন, উদ্বিগ্ন না হয়ে সন্তানকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি বেশি বেশি তরল খাবার, পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ বা ফুটন্ত পানি, ফলমূল খাওয়াতে হবে। এছাড়া সূতির খোলামেলা জামা পরানো, ঘেমে গেলে দ্রুত মোছার ব্যবস্থা ও বিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় ছাতা ব্যবহার করতে হবে। ছয় মাস পর্যন্ত বয়সের শিশুদের বুকের দুধই দিতে হবে। একই সঙ্গে খিঁচুনি দেখা দিলে, বারবার বমি বা পাতলা পায়খানা হলে, শ্বাস নিতে কষ্ট হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন তারা।

খুলনা শিশু হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. সৈয়দ ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, পয়লা বৈশাখের পর থেকে শিশু ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার সংখ্যা বেড়েছে। বাইরে রোদে ঘোরাঘুরি ও খাওয়া-দাওয়ার কারণে ডায়রিয়া আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। এছাড়া গরমে ঘাম শরীরের মধ্যে বসে গিয়ে শিশুরা শ্বাসকষ্টসহ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। ৬ মাসের ঊর্ধ্বে যেসব শিশু ডায়রিয়া আক্রান্ত হচ্ছে- তাদের মায়ের বুকের দুধের পাশাপাশি ওরস্যালাইন, রাইস স্যালাইন, দেশীয় মাছ, কাঁচকলার ভর্তা, থানকুনি পাতার রস, ডাবের পানি খাওয়ানোর পরমার্শ দেয়া হয়েছে।

খুলনা আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ বলেন, বর্তমানে তাপমাত্রা পারদের মতো ওঠানামা করছে। বৃষ্টি হলে দুই-একদিনের মধ্যে গরম হয়তো কিছুটা কমবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর

Best Electronics