গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন, থাকবে আরো দুইদিন

ঢাকা, বুধবার   ২৬ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ১২ ১৪২৬,   ২১ শাওয়াল ১৪৪০

গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন, থাকবে আরো দুইদিন

 প্রকাশিত: ২০:১০ ১৯ জুলাই ২০১৮   আপডেট: ২১:২৬ ১৯ জুলাই ২০১৮

গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন

গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন

তীব্র গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। নেই বাতাস, নেই বৃষ্টি, ঘরের বৈদ্যুতিক পাখার বাতাস যেন লু-হাওয়া। 

বাইরের আবস্থা তো আরো ভয়াবহ, রোদের তাপ, আর গরমে শ্রমজীবি মানুষদের যেন নিস্তার নেই। ঘেমে নেয়ে একাকার, যেন নাভিশ্বাস উঠছে রাজধানীবাসীর। শুধু যে কেবল ঢাকায় এ অবস্থা তা কিন্ত নয়, সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় একই অবস্থা বিরাজ করছে। 

বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে অনেকেই গরমে ছায়ায় বসে বিশ্রাম নিচ্ছেন। ফুটপাতে সর্বত ও পানীয়ের দোকানে স্বল্প আয়ের মানুষের ভীড়। সন্ধার পর থেকে যেন গড়ম আরো বেড়ে গেছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের কারণে ঢাকায় বৃষ্টি হচ্ছে না। এ অবস্থা কাটতে আরো দুই একদিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছে তারা।

এই দাবদাহের বিষয়ে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ বলেন, এখন বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ রয়েছে। লঘুচাপ হওয়ার কারণে সব মেঘ বঙ্গোপসাগরে চলে গেছে, আমাদের এখনকার (ঢাকার) মেঘের ফোকাসটা ওই জায়গায়। সেজন্য এখানে বৃষ্টি কম। লঘুচাপ পশ্চিমবঙ্গের দিকে উঠে যাবে দুই তিনদিন পরই।

তিনি আরও বলেন, লঘুচাপ উঠে গেলে আগামী দুদিন পর বৃষ্টি আবার শুরু হতে পারে। এখন এপ্রিল, মে মাস নয়, তারপরও গরম লাগছে, কারণ বর্ষাকাল। এ সময় বাতাসে জলীয়বাস্প থাকে। বৃষ্টি না হয়ে যদি রোদ থাকে, তবে গরমের অনুভূতিটা বেশি হয়।আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ঢাকায় বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। বুধবার এই তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ঢাকার তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। 

২০১৪ সালের ২২ এপ্রিল ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ৪০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা পাঁচ দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ ছিল।

গতকাল বুধবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল সিলেটে ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, ভারতের মধ্যপ্রদেশ ও কাছাকাছি এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি মৌসুমি বায়ুর অক্ষের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। মৌসুমি বায়ুর অক্ষ রাজস্থান, হরিয়ানা, উত্তর ও মধ্য প্রদেশ, বিহার, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে উত্তরপূর্ব দিকে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর কম সক্রিয়। এটি উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় বিরাজমান। পরবর্তী ৩৬ ঘণ্টার (বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে) মধ্যে উত্তর বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। 

সেইসঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। এ সময়ে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

ডেইলি বাংলাদেশ/সালি