গভীর রাতে দুর্ভোগে বিশেষ লঞ্চের যাত্রীরা!

ঢাকা, শুক্রবার   ২৪ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ১০ ১৪২৬,   ১৮ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

গভীর রাতে দুর্ভোগে বিশেষ লঞ্চের যাত্রীরা!

 প্রকাশিত: ০৮:৩০ ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ঈদ-পার্বণে বরিশাল-ঢাকা নৌরুটে বিশেষ সার্ভিসের নামে যাত্রীদের সঙ্গে অমানবিক আচরণের অভিযোগ উঠেছে লঞ্চ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। লঞ্চগুলো তড়িঘড়ি করে অন্যপ্রান্তে যাওয়ার জন্য মধ্য রাতে যাত্রীদের পন্টুনে নামিয়ে দিচ্ছে।

এ কারণে ভোর হওয়ার আগ পর্যন্ত হাজার হাজার যাত্রীকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বহু বছর ধরে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ এমন অমানবিক এই আচরণ করে এলেও প্রতিবাদ করার কেউ নেই। এমনকি সরকারি কোনো কর্তৃপক্ষও মধ্যরাতে পন্টুনে নামিয়ে দেওয়া যাত্রীদের দুর্দশা লাঘবে কোনো ভূমিকা রাখে না।

জানা যায়, ঢাকা থেকে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চলাচল করে দুই শতাধিক বিভিন্ন আকারের নৌযান। এর মধ্যে রাত্রীকালীন নৌসার্ভিসই যাত্রীদের বেশি পছন্দ। ঢাকা কিংবা বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চল থেকে যাত্রীরা গন্তব্যে যাওয়ার জন্য সন্ধ্যায় লঞ্চে ওঠেন। রাতে লঞ্চেই খাওয়া-দাওয়া শেষে ঘুমানোর পর ভোর ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাত্রীদের নামিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। এই রেওয়াজেই অভ্যস্ত দক্ষিণের নদ-নদী বেষ্টিত এলাকার মানুষ। কিন্তু ঈদে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের নামে মধ্য রাতে হাজার হাজার যাত্রীকে পন্টুনে নামিয়ে দেয় লঞ্চ কর্তৃপক্ষ।

ভুক্তভোগী আমেরিকা প্রবাসী ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জাকির বলেন, ৫ থেকে সাড়ে ৭ হাজার টাকায় কেবিন ভাড়া নিয়ে গন্তব্যে যান তারা। কিন্তু বিশেষ উৎসবের সময় মধ্যরাতে তারা শীতাতপ যন্ত্র বন্ধ করে যাত্রীদের আরাম-আয়েশ কেড়ে নেয়। এরপর রাত আড়াইটা ৩টার মধ্যে সব যাত্রীকে লঞ্চ থেকে টার্মিনালে নামিয়ে দেয়। আমেরিকার নাগরিক জাকির বলেন, যাত্রীদের প্রত্যেকের কাছে একাধিক লাগেজ, নগদ অর্থ এবং স্বর্ণালঙ্কার থাকে। এ অবস্থায় ওই রাতে যাত্রীরা বাসা-বাড়ি কিংবা হোটেলে যেতে সাহস পান না। ফলে নারী-শিশুসহ হাজার হাজার যাত্রীকে টার্মিনালেই ভোর হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। এটা অমানবিক এবং লঞ্চ কর্তৃপক্ষের চরম অন্যায় বলে অভিযোগ তার। জাকির গত রবিবার রাতে বরিশাল থেকে এমভি সুন্দরবন-১০ লঞ্চের ভিআইপি কেবিনে ঢাকা যান।

আরেক লঞ্চ যাত্রী ঝালকাঠি সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী আবুল খায়ের সুমন বলেন, বিশেষ উৎসবে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ ডাবল ট্রিপের নামে যাত্রীদের চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দেয়। রাত ৩টা সাড়ে ৩টার দিকে যাত্রীদের পন্টুনে নামিয়ে দেওয়ায় তারা চরম দুর্ভোগে পড়েন। ওই রাতে যারা সাহস করে গন্তব্যে যেতে চান তাদের দ্বিগুণ অটো ভাড়া গুনতে হয়। যানবাহন সংকটের কারণে অনেকে আবার গন্তব্যে যেতে পারেন না। এ কারণে হাজার হাজার যাত্রীকে টার্মিনালেই অপেক্ষা করতে হয়।

নিজাম শিপিং লাইন্সের (অ্যাডভেঞ্চার) স্বত্বাধিকারী বরিশাল মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি নিজামউদ্দিন বলেন, সাধারণত লঞ্চগুলো ফজরের আজানের সময় যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেয়। ঈদের সময় লঞ্চ কোম্পানিগুলো বিশেষ সার্ভিস দিতে গিয়ে নিয়মিত যাত্রীদের দুর্ভোগের মধ্যে ঠেলে দেয়, এ ধরনের কোনো অভিযোগ জানা নেই। তবে এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে সেটি হবে দুঃখজনক। এ বিষয়ে সব লঞ্চ মালিক গুরুত্ব দেবে বলে তিনি আশা করেন।

বরিশাল নদীবন্দর কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিশেষ ধর্মীয় উৎসবে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ থাকে। লঞ্চগুলো দ্রুত চালিয়ে গন্তব্যে যাত্রীদের নামিয়ে না দিলে পরের দিন অপর গন্তব্যের হাজার হাজার যাত্রীদের পরিবহন করতে পারবে না। কারণ বিপুল সংখ্যক যাত্রীর চাপ সামলানোর মতো সামর্থ্য কর্তৃপক্ষের নেই। ওইসব যাত্রীদের এক-দুই ঘণ্টার আয়েশের সুযোগ দিলে লঞ্চটি অপরপ্রান্তে গিয়ে পরদিনের ট্রিপ ধরতে পারবে না। সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছতে না পাড়লে পরদিন কয়েক হাজার যাত্রীর যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এ কারণে বিশেষ উৎসবের সময় যাত্রীদের একটু কষ্ট সহ্য করতেই হয়। এটা তাদের মেনে নেওয়া ছাড়া বিপুল সংখ্যক যাত্রীর চাপ সামলানোর উপায় নেই। তবে সদরঘাট ও বরিশাল নদীবন্দরে ১০-১৫ হাজার যাত্রীর বিশ্রামের ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানান বন্দর কর্মকর্তা মোস্তাফিজ।

বরিশাল-ঢাকা নৌরুটে এবারের ঈদে চলাচল করছে ২৪টি নৌযান। এর মধ্যে তিনটি দিবা এবং বাকিগুলো রাত্রীকালীন যাত্রী পরিবহন করে। এ ছাড়াও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন স্থান থেকে ঢাকা রুটে চলাচল করে দেড় শতাধিক যাত্রীকালীন নৌযান।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ

Best Electronics