গভীর রাতে তিতুমীর কলেজের স্টাফদের ওপর হামলা

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৪ জুলাই ২০২০,   আষাঢ় ৩০ ১৪২৭,   ২২ জ্বিলকদ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

গভীর রাতে তিতুমীর কলেজের স্টাফদের ওপর হামলা

তিতুমীর কলেজ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৫৬ ৩ জুন ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজের কর্মচারী ও করোনার নমুনা সংগ্রহের জন্য অস্থায়ী বুথের স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে সংর্ঘষ হয়েছে। এ সময় স্বেচ্ছাসেবীরা কর্মচারীদের বাসভবনে ব্যাপক ভাংচুর ও হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার রাত ১২ টা থেকে ২ টা পর্যন্ত এ হামলা চলে। এতে কলেজের কয়েকজন কর্মচারী আহত হয়েছেন। এতে শাহাবউদ্দিন নামে এক কর্মচারীর অবস্থা খুবই গুরুতর।

আহত কলেজ স্টাফরা জানান, রাত দুটোয় ছেলেদের থাকার জায়গাতে একজন মেয়েকে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। ভেতরে প্রবেশ করতেই করোনা বুথের ২ জন ছেলে এবং ১ জন মেয়ে এক সঙ্গে বেহায়াপনায় লিপ্ত ছিলো। কলেজ স্টাফদের কলেকজন এসবে বাধা দেয়ায় তাদেরকে লাঠিপেটা, ঘরবাড়ি ভাংচুর, চাপাতি দিয়ে কোপানো এবং ঘরে থাকা ঘুমন্ত শিশু বৃদ্ধ নারীদেরকেও নির্যাতন মারপিঠ করা হয়েছে।

২৫শে মার্চ স্টাইলে বর্বর হামলা করেছে করোনা বুথের কর্মীরা। কলেজের স্টাফদেরকে কুপিয়ে আহত, মহিলাদের শারীরিক নির্যাতন করার পর তালাবন্দি করে তারা ওই রাতেই কলেজের প্রধান ফটকে এসে মানববন্ধন মিছিল বের করে। যাতে করে পুলিশ, সাংবাদিক কারো সামনেই তাদেরকে যেতে দেয়া হয়নি।

ধারালো চাপাতির কোপে তিতুমীর কলেজের কর্মচারী জাবেদ ও শাহাবুদ্দীনসহ আহতদের অবস্থা গুরুতর হলেও তাদেরকে হাসপাতালে পাঠানোর সুযোগও দেয়া হয়নি বলে জানান এক কলেজ কর্মচারী।

আহত কর্মচারী জাবেদ ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, গত ১ জুন রাতে কলা ভবনে তাদের একজনকে মেয়েসহ ওনাদের সিইওকে  আপত্তিকর অবস্থায় ধরি এরপর তারা আমাদেরকে নানা হুমকি ধুমকি দিয়েছে । এছাড়াও কামরুজ্জামান নামে এক অফিসারের রুমে গভীর রাতে এক মেয়ে যেতে চেয়েছিলো কিন্তু আমরা যেতে দেয়নি তাই সেই সূত্র ধরে গতকাল রাতে আমাদের উপর নিশংস হামলা চালায়।

এদিকে সকালে প্রতিবেদন তৈরি করার জন্য জিসকা হেলথ কেয়ারের স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে বাংলাদেশ জার্নাল ও রেডিও আমার’র প্রতিবেদক গেলে তাদেরকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়।

তিতুমীর কলেজের অধ্যক্ষ মো. আশরাফ হোসেন এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ‘যতটুকু শুনেছি আমাদের স্টাফদের অনেক বর্বরভাবে পেটানো হয়েছে।  কলেজের বুথ বসানো নিয়ে আমরা কলেজ কর্তৃপক্ষ সর্বাত্বক সহযোগিতা করেছি। কিন্তু আমরা গত ১ তারিখ জানতে পারি তারা কলেজে বসে ১০ এপ্রিলের পর থেকে রাত হলেও গান বাজনা করতো। এমনকি রমজানের তারাবির সময়ও এমন করতো। মেয়েদের অবাধ চলাফেরা ছিলো সেখানে। আমাদের স্টাফরা আমাকে এব্যাপারে আগেও অভিযোগ করেছিল। আমি তাদের কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করি। কিন্তু গতকাল রাতের ঘটনাটি অত্যন্ত অপ্রত্যাশিত একটি ঘটনা। আমরা মামলার প্রস্তুতি নিয়েছি। আশাকরি প্রশাসন এর সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার করবেন।

এদিকে জিসকা হেলথ কেয়ার আহবায়ক সাবরিনা আরিফ চৌধুরী মুঠোফোনে ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, বেশ কয়েকদিন ধরে কলেজের কর্মচারীরা আমাদের সঙ্গে অশোভনীয় আচরণ করে আসছে। তারা চায়না আমরা এখানে করোনা পরিক্ষা করি। তারই সূত্র ধরে  গতকাল রাতে আমাদের ক্যাম্পে স্থানীয় লোকজন ও কলেজের কর্মচারীরা আক্রমণ করেছে। আমাদের প্রায় ১০০ কর্মী আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১০ জনকে আশঙ্কাজক অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

সাংবাদিকদের ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, এখানে তো অনেক মেয়ে থাকে যারা সবসময় প্রস্তুত নাও থাকতে পারে তাই হুট করে সাংবাদিকদের যাওয়া ঠিক হয়নি। সাংবাদিকদের অভিযোগ সেই রুমে পুরুষরাই তাদের ধাক্কা দিয়েছে।

এনিয়ে বনানী থানার ওসি মুঠোফোনে ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, আমরা গতরাতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম। পরিস্থিতি অনেক ভয়াবহ ছিলো। পরে আমরা তা নিয়ন্ত্রনে এনেছি। উভয় পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত করবো। বিষয়টি ডিজি মহোদয়ও অবগত আছেন। আশাকরি খুব শিগ্রই আমরা এর মূল কারণ এবং প্রকৃত হামলাকারীদের বের করতে পারবো।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর