গন্তব্য পেল পথহারা দু-বোন

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২১ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ৭ ১৪২৬,   ১৫ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

গন্তব্য পেল পথহারা দু-বোন

 প্রকাশিত: ১৬:৪৭ ৯ নভেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৬:৫১ ৯ নভেম্বর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের সংবাদকর্মী রিফাত মির্জার সহায়তায় গন্তব্য ফিরে পেয়েছে কাজের সন্ধানে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসা পথ হারা দু’বোন। তার সহযোগিতা না পেলে অসহায় এ দু’বোনের জীবনে ঘোর অন্ধকার নেমে আসার সম্ভাবনা ছিলো। শুক্রবার দুপুরে পুলিশের মাধ্যমে তাদের খালার বাসায় পৌঁছে দেয়া হয়। 

গৃহকর্মীর কাজের সন্ধানে সোনাপুর চরবসু থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে সাথি ও পলি দুই বোন তার এক খালার সঙ্গে মোবাইলে কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। তারা চৌমুহনীতে এসে খালার দেয়া মোবাইল নাম্বার হারিয়ে ফেলে। ফলে বিপাকে পড়ে তারা। খালার বাসা চিনতে না পেরে রাস্তায় এদিক সেদিক ঘুরতে থাকে।

সন্ধ্যা গড়িয়ে হয়ে যায় রাত। রাত ১০টার দিকে তারা এক অটোরিকশা চালককে তাদের সমস্যার কথা জানালে সে চালক রাতে তার বাড়িতে থাকার কথা বলে তাদেরকে অটোতে তুলে তপাদার বাজার নামক স্থানে নিয়ে যায়। বিষয়টি গোপন সংবাদে সংবাদকর্মী রিফাত জানতে পেরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে অটোরিকশা থেকে দুই বোনকে নামিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা কাজের সন্ধানে বাড়ি থেকে খালার বাসায় চৌমুহনীতে এসেছে বলে জানায়। তাদের খালার নাম সালমা। কিন্তু খালার বাসা কোথায় তারা সঠিক কোনো তথ্য দিতে পারছিল না। সংবাদকর্মী রিফাত বিভিন্ন জায়গায় ৩ ঘণ্টা যোগাযোগ করেও তাদের খালার সন্ধান বের করতে পারেননি।

এক পর্যায়ে তিনি বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি ফিরোজ হোসেন মোল্লাকে ঘটনাটি অবহিত করলে তিনি টিএসআই জসিম উদ্দিন ও এ এসআই সালাউদ্দীনকে তপাদার বাজার পাঠিয়ে দু’বোনকে থানায় নিয়ে আসেন। পরে পুলিশ সাথি ও পলির খালার বাসার সন্ধান করে শুক্রবার দুুপুরে তাদেরকে চৌমুহনীতে খালা সালমার কাছে বুঝিয়ে দেয়। 

সংবাদকর্মী রিফাতের এমন আন্তরিকতা ও উদারতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে অসহায় সাথি ও পলির খালা ও পরিবারের সদস্যরা। 

সাথি ও পলির খালা সালমা আক্তার বলেন, সাংবাদিকের কারণে আমাদের মেয়ে দুটি বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা  পেয়েছে। ওই সিএনজি চালকের বাড়িতে গেলে হয়তো তাদের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যেত। 

সংবাদকর্মী রিফাত মির্জা এক প্রতিক্রিয়ায় জানান, এটিই আমার দায়িত্ব ও কর্তব্য। একজন সংবাদকর্মী হিসেবে সমাজের অসহায় নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের কাজ। অসহায় ওই দু’বোনকে সাহায্য করতে পেরে ভালো লাগছে। কারণ আমি বিষয়টি হস্তক্ষেপ না করলে হয়তো তাদের সর্বনাশ হয়ে যেতো। 
 
বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি ফিরোজ হোসেন মোল্লা বলেন, আমরা মেয়ে দুটিকে তাদের আত্মীয়ের কাছে হস্তান্তার করেছি। সময় মতো ব্যবস্থা না নিলে হয়তো তাদের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা ছিলো।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ

Best Electronics