Alexa ‘গন্তব্য’-এ পৌঁছাতে সর্বস্ব হারিয়ে পলাশ এখন হোটেল বয়

ঢাকা, সোমবার   ১৮ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ৪ ১৪২৬,   ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

‘গন্তব্য’-এ পৌঁছাতে সর্বস্ব হারিয়ে পলাশ এখন হোটেল বয়

বিনোদন প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৫৩ ২৬ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ২১:১১ ২৬ অক্টোবর ২০১৯

অরণ্য পলাশ

অরণ্য পলাশ

যুগে যুগে জগতে গীত হয়েছে তরুণ এবং তারুণ্যের জয়গান। অসম্ভবকে সম্ভব করতে ঝুঁকি নিতে পারে তারুণ্য। চিরচেনা প্রথাকে ডিঙিয়ে সাহস, আত্মবিশ্বাস, মনোবলের অপূর্ব সমন্বয়ে এগিয়ে যেতে চায় তরুণরা। দু’চোখ ভরা স্বপ্নকে পুঁজি করে নির্মাণে নাম লিখিয়েছিলেন অরণ্য পলাশ। কিন্তু এই স্বপ্নই কাল হলো তার। আশা আর প্রত্যাশা হয়ে গেল নিরাশার এক কাব্য। যে কাব্য সিনেমা নির্মাণের।  এ কাব্যের নায়ক হতে চেয়ে আজ পরাজিত সৈনিক তিনি। 

হয়তো বুঝতে একটু অসুবিধা হচ্ছে! তাহলে বিষয়টি খুলেই বলি- অরণ্য পলাশ, স্বপ্ন দেখতেন ছবি নির্মাণের। সেই স্বপ্ন অনেকটাই কাছাকাছি পৌঁচ্ছে যান পলাশ। ঘোষণা দেন সিনেমা নির্মাণের। নতুন এ পথের গন্তব্যের নাম দিলেন ‘গন্তব্য’, অর্থাৎ তার ছবির নাম রাখলেন ‘গন্তব্য’। আর তার ক্যাপ্টেন (নায়ক) হিসেবে যুক্ত করালেন দুই বাংলার জনপ্রিয় নায়ক ফেরদৌসকে। আর ক্যাপ্টেনের প্রধান সহকারী নায়িকা হলেন আইরিন সুলতানা। যাত্রা পথে স্বপ্নের পথে যুক্ত হলেন জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, আমান রেজা, মাসুম আজিজ, আফফান মিতুলসহ আরো অনেকে।

ছয় বন্ধু মিলে একটি ছবি নির্মাণ এবং সেই ছবিটি সারাদেশে প্রদর্শন করানোর ঘটনা নিয়ে ‘গন্তব্য’র কাহিনী এগিয়ে চললো। গল্পে আছে দুটি ভাগ, একটি শহরের, অন্যটি গ্রামের। ছবিটির শুটিং হয়েছে ঢাকা, মানিকগঞ্জ এবং সিরাজগঞ্জে। এরপর গতক বছরের মার্চে ‘গন্তব্য’ প্রায় শেষ প্রান্তে চলে এলেন পলাশ। অর্থাৎ ছবির দৃশ্যধারণের কাজ শেষ করলেন। 

গন্তব্য সিনেমার পোস্টার

কিন্তু এই ‘গন্তব্যে’ পৌঁচ্ছাতে পলাশ তার সর্বস্ব হারালেন। নিজের বাড়ি, স্ত্রীর গয়না বিক্রি করেছেন। তাতেও অর্থের জোগান না হওয়ায় সুদের ওপর ঋণ নিয়েছেন। ভেবেছিলেন সিনেমা মুক্তি পেলে হয়তো দিন বদলাবে তার। কিন্তু আজ বাস্তবতারই মুখোমুখি তিনি। ‘গন্তব্য’র চূড়ান্ত পর্বে এসে ইতি টানতে পারছেন না পলাশ। কোনোরকমে ‘গন্তব্যে’ কাজ শেষ করতে পারলেও মুক্তি দিতে পারছেন না। কোনো আয় না থাকলেও প্রতি মাসে নিয়মিতভাবেই যোগ হয় ঋণের সুদ। ধীরে ধীরে অভাব হয়ে ওঠে নির্মাতা পলাশের শত্রু।

সেই শত্রুর সঙ্গে লড়াইয়ের জীবনে তিনি হঠাৎ নিজেকে একাই আবিষ্কার করলেন। তাকে ছেড়ে গেল আত্মীয়-স্বজন। ছেড়ে গেছে সবচেয়ে ভালোবাসার মানুষ, স্ত্রীও। এখন কন্যা দায়গ্রস্ত পিতার মতো একা একা সিনেমা মুক্তির দায় নিয়ে ঘুরে বেড়ানো যুবক পলাশ। একটা সময় বেঁচে থাকার তাগিদে হোটেলের বয় হিসেবে চাকরি নিলেন। নির্মাতা হতে চেয়ে পলাশ এখন হোটেলের ক্রেতাদের পরিবেশক। 

ছবির সবশেষ অবস্থা জানতে যোগাযোগ করা হলে একটি গণমাধ্যমে পলাশের জানান, পরিচালনার পাশাপাশি ছবিটির প্রযোজকও আমি। আমার সর্বস্ব শেষ করে ‘গন্তব্য’ সিনেমাটি নির্মাণ করেছি। বিভিন্ন জায়গা থেকে সুদে ঋণ নিয়ে, জমি বিক্রি, স্ত্রীর গয়না বিক্রি করে সিনেমাটির কাজ শেষ করেছি। ছবির সেন্সরও পেয়েছি অনেক দিন হয়। কিন্তু ছবিটি মুক্তি দেয়ার জন্য টাকা আমার কাছে নেই।

কিন্তু অভাবের আক্রমণে বিধ্বস্ত আমি। সবাই আমাকে ছেড়ে গেছে। বাধ্য হয়ে এখন মিরপুরে একটি রেস্তোরাঁয় হোটেল বয়ের কাজ করছি। সিনেমার জন্য তো অনেক করেছি আমি। এই সিনেমা আমার জন্য কিছুই করলো না। অনেক জায়গায় চাকরি খুঁজেছি। কিছুই হয়নি। পেট চালানোর জন্য তাই দৈনিক ২৫০ টাকা হাজিরা ও তিন বেলা খাওয়ার চুক্তিতে রেস্তোরাঁয় কাজ করছি।

পলাশ জানান, ইমপ্রেস টেলিফিল্মের কাছে ছবিটি বিক্রির আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে ইমপ্রেস তার সঙ্গে অপেশাদার আচরণ করেছে। একটি সিনেমার জন্য তারা প্রথমে ১০ লাখ টাকা দিতে চেয়েছে পলাশকে। পরে তারা ৭ লাখ টাকা দেবে বলে জানান। এখন তারা দিতে চাইছেন মাত্র ৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৩ লাখ ছবির কপিরাইট এবং বাকি এক লাখ টাকা অনলাইন স্বত্ব। এত কম টাকায় সিনেমা বিক্রি করা আদৌ সম্ভব নয়।

পলাশ দুঃখ করে বলেন, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান হয়েও ইমপ্রেস কী করে একটি সিনেমা ৪ লাখ বা ১০ লাখ টাকায় কিনতে চায়! এত কম মূল্যে বিক্রি করার চেয়ে বিক্রি না করাই ভালো বলে মনে করি।

তাহলে কি পলাশের স্বপ্ন এভাবেই শেষ হয়ে যাবে? আলোর মুখ দেখবে না তার  যন্তে গড়া ‘গন্তব্যে’! সেই উত্তর জানা নেই আমাদের কাছেও। তবে প্রত্যাশা থাকবে পলাশের ‘গন্তব্যে’ মুক্তি পাক প্রেক্ষাগৃহে। একইসঙ্গে ফিরে পাক তার ঘর ও সাজানো সংসার। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এনএ/এসআই