Alexa ৫০ বছরে বিলুপ্ত হয়েছে ৩০০ কোটি পাখি!

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২২ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ৬ ১৪২৬,   ২২ সফর ১৪৪১

Akash

৫০ বছরে বিলুপ্ত হয়েছে ৩০০ কোটি পাখি!

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২২:১৫ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ২২:১৭ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

এশিয়াসহ বিশ্বব্যাপী আশঙ্কাজনক হারে কমছে পাখির সংখ্যা। গত ৫০ বছরে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাতেই পাখির সংখ্যা কমেছে ৩শ' কোটি। সায়েন্স এন্ড বায়োলজিক্যাল কনজারভেশনের জার্নালে প্রকাশিত দুটি গবেষণাতে এমনই ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি।

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ১৯৭০ সালে পাখির যে সংখ্যা ছিল তা থেকে প্রায় তিনশ' কোটি পাখি কমেছে।

পাখির ওপর সায়েন্স এন্ড বায়োলজিক্যাল কনজারভেশন জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা বলছে, গত পঞ্চাশ বছরে উত্তর আমেরিকায় পাখির সংখ্যা ২৯ শতাংশ কমে গেছে। ১৯৭০ সালের পর উত্তর আমেরিকায় যতগুলো পাখিশুমারি হয় তা বিশ্লেষণ করে এ সংখ্যা নিরুপণ করা হয়েছে।

তৃণভূমি থেকে শুরু করে উপকূলীয় ও মরুঅঞ্চল সব আবাসস্থলের পাখিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পাখির সংখ্যা কমে যাওয়ার জন্য সরাসরি নির্দিষ্ট করে কোন কারণ উল্লেখ না করলেও বেশ কিছু কারণের মধ্যে মানুষের পরিবেশ বিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে দায়ী করা হয়।

পাখি কমে যাওয়ার বিষয়টি বিশ্লেষণ করেন মার্কিন পাখি সংরক্ষণ বিভাগ ও পক্ষীবিদ্যা গবেষণাগারের প্রধান গবেষক ড. কেন রোজেনবার্গ।

তিনি বলেন, কিছু প্রজাতির পাখি কমে যাবে এটা আমরা জানতাম। আমরা মনে করেছিলাম, বিরল প্রজাতির পাখি বিলুপ্ত হলেও সাধারণ পাখিগুলো মানবজাতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে সেই শূন্যস্থান পূরণ করবে। তবে পাখিশুমারির পর আমরা বিস্মিত হয়েছি। সাধারণ পাখির সংখ্যাও আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে।

একই দশা এশিয়াতেও। এই মহাদেশের বিভিন্ন অংশে বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপের বাসিন্দাদের মধ্যে গান গাওয়া পাখির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। গানের প্রতিযোগিতায় লাগানো হয় এ-ধরনের পাখিকে। গান গাওয়া সুরেলা পাখির রমরমা বেচা কেনা চলে দ্বীপটিতে। এসব কারণে বেশ কয়েকটি প্রজাতির পাখি বিলুপ্তির পথে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়। পাখির এই চাহিদার মধ্যে অবশ্য আশার আলো খুঁজে পাচ্ছেন অনেকে।

শুধুমাত্র জাভা দ্বীপেই ৭ কোটি ৫০ লাখ পাখিকে পোষা পাখি হিসেবে রাখা হয়েছে। ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটান ইউনিভার্সিটির প্রফেসর স্টুয়ার্ট মার্সডেন বলেন, পাখির প্রতি ভালবাসা থেকেই পাখিকে খাঁচায় বন্দি রাখার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। আর এই ভালবাসাকে কাজে লাগিয়ে পাখি সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

এছাড়া পাখি শিকার বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ারও আহ্বান জানান এই পরিবেশ ও পাখিবিদ।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ