Alexa গণিতশাস্ত্রে মুসলমানের অবদান অবিস্মরণীয়

ঢাকা, সোমবার   ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৯ ১৪২৬,   ২৪ মুহররম ১৪৪১

Akash

গণিতশাস্ত্রে মুসলমানের অবদান অবিস্মরণীয়

মো. মাহাদী হাছান ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:০১ ১২ জুন ২০১৯   আপডেট: ১৭:১৫ ১২ জুন ২০১৯

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

গণিতশাস্ত্রে মুসলমানের অবদান অবিস্মরণীয়। বিভিন্ন শাখায় মুসলমানদের আবিষ্কার না থাকলে এ শাস্ত্র বিকলাঙ্গ থাকত। যেসব মুসলিম বিজ্ঞানী গণিতশাস্ত্রে অনন্য অবদান রেখেছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন-

আল বিরুনী:

আল-বিরুনী গণিতশাস্ত্রে বিশ্ববিখ্যাত ছিলেন। তাঁর গ্রন্থ ‘আল-কানুন আল মাসউদী’ কে গনিতশাস্ত্রের বিশ্বকোষ বলা হয়। এতে জ্যামিতি, ত্রিকোণমিতি, ক্যালকুলাস প্রভৃতি বিষয়ের সূক্ষ, জটিল ও গাণিতিক সমস্যার বিজ্ঞানসম্মত চমৎকার আলোচনা করা হয়েছে। এ গ্রন্থেই তিনি পৃথিবীর পরিমাপ সম্পর্কে যে বর্ণনা দিয়েছেন, বৈজ্ঞানিক সত্য হিসেবে তা আজো  প্রতিষ্ঠিত।

আল খারেজমীঃ

মোহাম্মদ মুসা আল খারেজমী ছিলেন আধুনিক বীজ গণিতের স্রষ্টা। তার আল নাম ”আল জাবের” তার লেখা গ্রন্থ “ ইলমুল জাবর ওয়াল মোকাবেলা” এর নামানুসারে ইউরোপীয়রা বীজ গণিতকে আল জেবরা বলে অভিহিত করেন। তার নামানুসারে ই বীজ গণিতের একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হল লগারিদম। দ্বাদশ শতাব্দীতে ইউরোপে প্রথম শূন্যের (০) ব্যবহার শুরু হলে তারা এটিকে খারেজমীর আবিষ্কার মনে করে এলগরিদম বলে অভিহিত করে। তিনি গণিত ছাড়া অন্যান্য বিষয়েও স্মরণীয়
হয়ে আছেন। নিউটনের মত বিভিন্ন প্রতিভার অধিকারী হওয়ায় তাকে মুসলিম নিউটন বলে অভিহিত করা হয়। গণিতশাস্ত্রের উপর তার বিখ্যাত গ্রন্থ হলো কিতাবুল হিন্দ। এখানে তিনি গণিতের বিভিন্ন জটিল বিষয়ের সমাধান দেখিয়েছেন।

আল বাত্তানীঃ

তিনি ত্রিকোণমিতির সাইন, কোসাইন, ট্যানজেন্ট, কোট্যানজেন্ট প্রভৃতি নিয়মগুলো সহজ, সুন্দর ও ব্যবহারের উপযোগী করে গড়ে তোলেন এবং সাইন, কোসাইনের সঙ্গে ট্যানজেন্টের সর্ম্পক ও ত্রিভুজের বাহুর সঙ্গে কোনের ত্রিমিতিক সম্বন্ধ  আবিষ্কার করেন।

আবুল ওয়াফাঃ

তিনি অংক শাস্ত্র, জ্যোতি বিজ্ঞান ও ত্রিকেণমিতিতে পারদর্শী ছিলেন। তিনি আল বাত্তানীয় স্বপ্ন বাস্তবায়নকল্পে দুই কোনের
সাইনের সমষ্টি যে, সাইন ও কোসাইন দ্বারা নির্ণয় করা যায়, তা প্রথম উদ্ভাবন করেন। তিনি ত্রিকোণমিতির বর্তমান ফরমূলাটি Sin (A+B)= Sin A cos B + Cos A Sin ই এর উদ্ভাবক।

কামাল উদ্দিন ইবনে ইউছুফঃ

তিনি ধর্মীয় জ্ঞান ছাড়াও গণিত, জ্যোতিবিদ্যা ইত্যাদি বিষয়ে অগাথ জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। কামাল উদ্দিন উচ্চতর গণিতের বিশেষ স্কোয়ার নাম্বার, ম্যাজিক স্কোয়ার, সুষম সপ্তভুজ প্রভৃতি সম্বন্ধে বহুগ্রন্থ ও প্রবন্ধ রচনা করেন।
তার রচনাকৃত থিওরি অব নাম্বার আজকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ শ্রেণীসমূহে পড়ানো হয়ে থাকে।

ইবনুল হাইশামঃ

বিজ্ঞান ও গণিত জগতের এক অনন্য নাম ইবনুল হাইশাম। তিনিই প্রথম জ্যামিতিক গণনার সাহায্যে পৃথিবীর যেকোনো দুটি স্থানের মধ্যে দূরত্ব নির্ণয় করেন।

ওমর খৈয়ামঃ

ইরানের খোরাশানের ওমর খৈয়াম শুধু “রুবাইয়াতের” জন্য নয় বরং দর্শন, রসায়ন, ঘণিত প্রভৃতিতে বিশেষ অবদান রেখে তিনি বিশ্ব সম্মান কুড়িয়েছেন। তবে বীজ গণিত ই ছিল তার জীবনের মূল মন্ত্র। তিনি বলেন- “আস্তি নাস্তি শেষ করেছি দার্শনিকের গভীর জ্ঞান, বীজ গণিতের সূত্রলেখা যৌবনে মোর ছিলই ধ্যান।” গণিত জগতে এনালাইটিক জ্যামিতি এর কল্পনা
তিনিই সর্বপ্রথম করেন অথচ ফ্রান্সের দেকার্টের নামে তা বেনামী করা হয়। তিনি বীজ গণিতের দ্বিপদ তত্ত্ব আবিষ্কার করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ