Exim Bank
ঢাকা, মঙ্গলবার ১৯ জুন, ২০১৮
Advertisement

গণহত্যাকারী ও সাইকোপ্যাথদেরও ভয় পাইয়ে দিয়েছিল যেসব নারী

 আহনাফ তাহমিদ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৩৪, ৫ জুন ২০১৮

৩৭৮ বার পঠিত

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

কিছু কিছু মেয়েরা খারাপ ছেলেদের প্রেমে পড়ে। প্রতিটি মানুষ যেসব খারাপ কাজ ও অপকর্ম করে থাকে, ভিড়ের মধ্য থেকে তাদের জন্য সিটি বাজাবার জন্য কোনো না কোনো পাগলপারা নারী থাকবেই। মাঝে মাঝে হয়ত মনে হতে পারে যে আসল সাইকোপ্যাথ কারা? এই পাগলপারা নারীরাই নয়তো?

তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই নারীরা কিন্তু এখানেই থেমে যান না। তাদের প্রিয় মানুষগুলোকে যখন জেলে পুরে দেয়া হয়, বিভিন্নভাবে অনুসরণ করতে থাকেন এই নারীরা। পাঠাতে থাকেন চিঠি, অদ্ভুত সব বার্তা। মজার ব্যাপার হচ্ছে, মানুষ খুন করে জেলে আসা এসব সাইকোপ্যাথদেরও ঘাড় বেয়ে শীতল ঘামের স্রোত নেমে যায় এসব অযাচিত নারীদের বার্তা পেয়ে। আসুন, আজ এমনই কিছু ব্যক্তি ও তাদের নিয়ে মাতোয়ারা নারীদের সম্পর্কে জেনে নিই।



(১) টেড বান্ডিকে যে নারী ভয় পাইয়ে দিয়েছিলেন:
টেড বান্ডি একজন সিরিয়াল খুনী ও ধর্ষক। অন্তত ৩০টি মানুষের জীবন নিজের হাতে শেষ করেছেন। জেলে থাকাকালীন সময়ে নারীভক্তদের কাছ থেকে প্রায় ১০০টিরও অধিক চিঠি পেয়েছেন এই টেড। তবে এদের মাঝে একজন যেন মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। মহিলার নাম জ্যানেট। টেডকে নিয়ে সে এতটাই উৎসাহী ছিল যে বিষয়টি টেডকেও ভয় পাইয়ে দিয়েছিল। কারাজীবনে টেডকে অসংখ্য চিঠি পাঠিয়েছিলেন জ্যানেট। এগুলোর মাঝে মাত্র একটিরই উত্তর দিয়েছিলেন টেড। চিঠির উত্তর পাবার পর জ্যানেট এমন ভাব করতে শুরু করে দিয়েছিলেন যেন সাত রাজার ধন হাতে পেয়ে গিয়েছেন। এর চাইতে অমূল্য কিছু আর তার কাছে আসতেই পারেনা। জ্যানেট টেডকে চিঠির প্রত্যুত্তরে লিখেন,

“আমি তোমার চিঠি পেয়েছি। বারবার পড়েছি। চুমো খেয়েছি এটাকে, অনেকবার। এই যে দেখো, আমি যে তোমার জন্য কাঁদছি, সেটা প্রকাশ করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ নেই আমার মনে। তোমায় ছাড়া কীভাবে থাকব, জানা নেই আমার। প্রচণ্ড ভালোবাসি তোমাকে, টেড।” টেডের ট্রায়ালের দিন যখন জ্যানেট ঘনঘন আদালতে আসতে শুরু করল, টেড বান্ডির মতো সাইকোপ্যাথ খুনীও খুব ভয় পেয়ে গেল এবার। স্ত্রী ক্যারোলকে একটি চিঠি লিখেছিল টেড। যেখানে সে নিজেই বলেছিল, “ক্যারোল, এই জ্যানেট নামের মহিলাটা যেন আমার সামনে আর না আসে, সে ব্যবস্থা করো। আমার দিকে এমন ঠাণ্ডা দৃষ্টিতে সে চিউইংগাম চিবুতে থাকে যে আত্মারাম খাঁচাছাড়া হবার যোগার। ওর দৃষ্টিতে কিছু একটা আছে। আমার খুব ভয় লাগে।”

(২) জেমস হোমসের ফ্যানগার্লরা:
“আমি আশা করি তুমি ভালো আছো, জেমস। শুধু তোমায় জুড়েই আমার সব চিন্তা, শুধু তোমায় জুড়েই আমার সব চিন্তা। কিছুদিন আগে একটা স্বপ্ন দেখলাম। হাহাহা! হাতে করে একটা বার্তা পাঠালাম তোমার জন্য। দেখে বলো তো, পছন্দ হচ্ছে কিনা!”

২০১২ সালে কলোরাডোর একটি সিনেমা থিয়েটারে অগ্নিযোগ করে অন্তত ১২ জন মানুষের হত্যাকারী জেমস হোমস এধরনের অন্তত একহাজার কার্ড পেয়েছিলেন। কার্ডটি যিনি পাঠিয়েছিলেন, সেখানে এই ফ্যানগার্লের একটি অদ্ভুত ছবি সংযুক্ত করা ছিল। এর চাইতেও অদ্ভুত হচ্ছে, জেমস যতবার এসব ফ্যানগার্লদের থেকে কার্ড পেয়েছেন, প্রত্যেকটিতেই এমন এমন সব বার্তা ছিল, যা দেখে বোঝা যায় যে এসব ফ্যানগার্লেরা তাকে ছায়ার মতো অনুসরণ করে যাচ্ছে।

“বিশ্বাসই করতে পারছি না, তোমার কোঁকড়া চুলগুলো আর নেই!”

“তোমার হাতগুলো অনেক বলিষ্ঠ আর শক্তিশালী!”

“তোমার চেহারা দেখলেই আমার ভেতরে কেমন যেন একটা শিহরণ অনুভূত হয়!”

এমন এমন আরো নানা অদ্ভুত বার্তা পাঠানো হতো জেমস হোমসকে। এসব ফ্যানগার্লের অনেকেই বলত যে জেমস তাদেরকে যা করতে বলবে, তারা তাই করতে প্রস্তুত রয়েছে। জেমস হলপ করে বলতে পারবে যে এসব ফ্যানগার্লদের নিয়ে সে যা ইচ্ছা তাই করার সামর্থ্য রাখে।



(৩) রিচার্ড রামিরেযের একজন প্রশংসাকারী:
রিচার্ড রামিরেয তার ফ্যানদের থেকে এত চিঠি পেতেন যে নিজেই একটি স্টেশনারী খুলে বসেছিলেন। এই স্টেশনারীর ওপরে লেখা ছিল ‘নাইটস্টকার’। নানা ধরনের, নানা বিষয়ের ওপর চিঠি পেতেন তিনি। কিশোরী বালিকা থেকে শুরু করে যুবতী, মধ্যবয়স্কা, তিন চার বাচ্চার মাতা এমন সব নারীদের থেকে চিঠি পেতেন জেলে বসে রামিরেয। তবে এদের মাঝে যে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তুলেছিল তার মাঝে, তার নাম হলো সিনডি হ্যাডেন।

আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, রামিরেযকে দোষী সাব্যস্ত করবার জন্য যে জুরি বোর্ড বসানো হয়েছিল, সিনডি ছিলেন এই জুরি বোর্ডের একজন সদস্য। দিনের পর দিন হাতের মাঝে পেন্টাগ্রাম এঁকে আদালতে আসা রামিরেযের প্রতি কখন যে সিনডি দুর্বল হয়ে যান, তা তিনি নিজেই জানেন না। নিজের হাতে কাপকেক তৈরি করে একটি চিঠিতে তিনি রামিরেযকে লিখেন, “আমি তোমাকে ভালোবাসি”।

তবে ভালোবাসার শক্তি তো আর এই সাইকোপ্যাথকে মুক্ত করতে পারবে না। জুরিবোর্ড রামিরেযকে দোষী সাব্যস্ত করল। এমনকি সিনডিও বলতে বাধ্য হলেন যে রামিরেয এই ধরনের খুনগুলো করেছেন। তবে সিনডি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতেন যে রামিরেযই তার জীবনের একমাত্র ভালোবাসা। এমনকি নিজের বাবা-মাকেও সিনডি নিয়ে এসেছিলেন রামিরেযকে দেখাবার জন্য!



(৪) কেনেথ বিয়াঞ্চির কপিক্যাট ফ্যানগার্ল:
কেনেথ বিয়াঞ্চির খুন ও ধর্ষণ করবার ধরন দেখে তার এক ফ্যানগার্ল, ভেরোনিকা কম্পটন এতটাই মুগ্ধ হয়ে যান যে এটি নিয়ে একটি নাটক লিখে ফেলেন। নাটকের নাম ছিল ‘দ্য মিউটিলেটেড কাটার’। বিয়াঞ্চি দেখে খুশি হবে, এই ভেবে সে এই নাটকটি খুনীর কাছে পাঠিয়ে দেয়।

“আশা করি চিঠিটা তুমি পেয়েছো এবং নিজের ব্যস্ত সময় থেকে কিছুটা সময় বের করে নাটকটা পড়ে দেখবে। তোমার কাজ থেকেই অনুপ্রেরণা পেয়ে আমি এই নাটকটি লিখেছি। প্লটটা খুবই ভালো লাগবে তোমার।” তবে চিঠির শেষের দিকে লেখা ছিল যে ভেরোনিকা একদিন বিয়াঞ্চিকে খুশি করতে পারবে। নিজেকে নিয়ে কোনো বাগাড়ম্বর করেনি এই মেয়েটি। ফ্যানগার্লরা যে কতটা মারাত্মক আর বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে, তা এই ভেরোনিকাকে দেখলে খুব ভালো করে বোঝা যায়।

১৯৮০ সালের দিকে বিয়াঞ্চিকে খুশি করবার জন্য ভেরোনিকা একটি কপিক্যাট খুন করে বসে। এই খুনের মাধ্যমে সে পুলিশকে জানান দেয় যে কেনেথ বিয়াঞ্চি জেলে থাকলেও আসল খুনী এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। কেনেথই ধর্ষণ করেছে এটি বোঝাবার জন্য ভেরোনিকা জেল থেকে তার বীর্য সংগ্রহ করে এবং একটি মহিলাকে খুন করে তার শরীরের ওপর এই বীর্য ঢেলে দেয়। পুলিশ ধাঁধায় পড়ে যায়। বিয়াঞ্চি যদি জেলে থাকে, তাহলে এই নারীর ওপর যে বীর্য রয়েছে, সেটি কার? ডিএনএ টেস্টে স্পষ্টভাবে দেখানো হচ্ছে যে এখানে বিয়াঞ্চিই এসেছিল। তবে!

দ্বিতীয় খুনটি করবার সময় আর চালাকির পরিচয় দিতে পারেনি ভেরোনিকা। তার শিকার হাত থেকে পালিয়ে যায় এবং পুলিশকে ফোন করে বসে। অকুস্থল থেকে পালাতেও পারেনা ভেরোনিকা কারণ দ্বিতীয় শিকারটি তাকে বেশ জব্দ করে আটক করে ফেলেছিল। পুলিশ এসে এবার কপিক্যাট কিলার ভেরোনিকা কম্পটনকে জেলে পুরে দেয়। কেনেথ বিয়াঞ্চির মতোই পরিণতি ঘটে তার ফ্যানগার্লের। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে, জেলে থাকাকালীন সময়ে ভেরোনিকার সাথেও ঠিক একই কাজ ঘটতে থাকে।

জেমস ওয়ালেস নামক এক ব্যক্তি এবার ভেরোনিকার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন। তবে না, কপিক্যাট কিলার তাকে হতে হয়নি কিংবা তিনি কোনো খুনও করেননি। যেটি করেছেন, সেটি নিজের পরিবারের সাথেই। ৩৭ বছর বয়সী জেমস ওয়ালেস নিজের পরিবার ছেড়ে দিয়েছিলেন ভেরোনিকার কাছে নিজের মন দেবার জন্য। তার কথা অনুযায়ী, “ভেরোনিকা জেলে থাকুক কিংবা না থাকুক, তাতে আমার কিছু যায় আসেনা। আমি মেয়েটিকে ভালোবাসি, ওর জন্য সবকিছু ছেড়ে আসতে আমার কোনো আপত্তি নেই।”

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে

সর্বাধিক পঠিত